إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
‘আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরুদ প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরা তাঁর প্রতি দরুদ প্রেরণ কর এবং তাঁকে যথাযথ সালাম জানাও’(সূরা আহযাব, ৫৬)
বলা হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর আল্লাহর সালাত ও দরূদের অর্থ হল ফেরেশতাদের নিকট তাঁর প্রশংসা করা। আর ফেরেশতাদের সালাতের অর্থ দুআ এবং মানুষের সালাতের অর্থ ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করা’[২] এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁর কাছে তাঁর সর্বোচ্চ দপ্তরে তাঁর বান্দা ও নবীর মর্যাদা সম্পর্কে অবহিত করেছেন। তিনি নৈকট্য প্রাপ্ত ফেরেশতাদের কাছে তাঁর প্রশংসা করেন। ফেরেশতাগণ ও তাঁর প্রতি দরুদ পেশ করেন। এর পর আল্লাহ তাআলা নিচু জগৎ তথা দুনিয়া বাসীদেরকে তাঁর উপর দরুদ ও সালাম পেশ করার নির্দেশ প্রদান করেন, যাতে উঁচু-নিচু উভয় জগতের প্রশংসা তাঁর জন্য অর্জিত হয়।
سلموا تسليماً এর অর্থ হলো তাঁকে ইসলামী সালাম দিয়ে সম্ভাষণ জানাও। অতএব যখনই কেউ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দরুদ পাঠ করে, সে যেন সালাত ও সালাম উভয়ই পাঠ করে এবং যে কোন একটি পাঠ করাকে যথেষ্ট মনে না করে। তাই শুধু صلى الله عليه বা শুধু عليه السلامবলা উচিত নয়। কেননা আল্লাহ তাআলা এক সাথে দুটিই বলার নির্দেশ দিয়েছেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দরুদ ও সালাম পাঠের হুকুম এমন স্থানসমূহে এসেছে যদ্বারা একথাই সাব্যস্ত হয় যে, তার উপর দরুদ ও সালাম পাঠ হওয়া ওয়াজিব, নয়তো সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ।
ইবনুল কাইয়েম র. তার جلاء الأفهام কিতাবে এরূপ একচল্লিশটি স্থান উল্লেখ করেছেন। এ স্থানগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা তিনি এভাবে শুরু করেছেন।
প্রথম স্থান: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সর্বাধিক তাগিদ দেয়া হয়েছে এমন স্থান হল এটি। আর তাহলো নামাযের মধ্যে তাশাহহুদের শেষে। এ স্থানের শরয়ী অনুমোদনের উপর দুনিয়ার সকল মুসলমান একমত। তবে এখানে দরুদ ও সালাম পাঠ করা ওয়াজিব কিনা এ ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।[৩] এ স্থান গুলোর মধ্যে তিনি আরো উল্লেখ করেন কুনুতের শেষে, খুতবাসমূহে যেমন জুময়ার খুতবায়, ঈদের খুতবায়, ইস্তেসকার খুতবায়, মুয়াযযিনের জবাব দেয়ার পর, দুআর সময়, মসজিদে প্রবেশের সময়, এবং মসজিদ থেকে বের হবার সময়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাম উল্লেখ করা হয়।
অত:পর ইবনুল কাইয়েম র. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দরুদ পাঠের ফলাফল উল্লেখ করেছেন এবং এ ব্যাপারে চল্লিশটি উপকারের তিনি বর্ণনা দিয়েছেন।[৪] তন্মধ্যে রয়েছে: আল্লাহর হুকুম মেনে চলা, একবার দরুদ পাঠে আল্লাহ দশ বার রহমত বর্ষণ করেন, দুআর শুরুতে দরুদ পাঠ করলে দুআ কবুল হওয়ার আশা করা যায়, দরুদ পাঠের সাথে যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য “অসীলা” তথা জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান এর প্রার্থনা করা হয় তাহলে তা তাঁর শাফায়াত লাভের কারণ, দরুদ পাঠ গুনাহ মাফের কারণ এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে জবাব দেয়ারও কারণ।
এ মহান নবীর উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
[১] সূরা আহযাব, ৫৬।
[২] বুখারি আবুল আলিয়া থেকে এরূপ উল্লেখ করেছেন।
[৩] জালাউল আফহাম, ২২২Ñ২২৩।
[৪] প্রাগুপ্ত।
ai motobad golor somadhan howa dorkar.
I am really very happy to see this blog.
As salamu alaykum. Jazak Allah khairun for the inspiration. May Allah guide us to perfectly worship Him and we can call people on certain and authentic knowledge.
Alhamdulillah,
Allah amader sothik pothe sai siratal mustakim der pothe cholar taufik dan karun, aamin.
Aro haque kotha amader janar sujog kore din.
আসসালামু আলাইকুম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দরুদ ও সালাম পাঠের বিধানগুলো জানানোর জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।
ওয়ালাইকুম সালাম। বারাক আল্লাহ ফীক।