<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	xmlns:georss="http://www.georss.org/georss" xmlns:geo="http://www.w3.org/2003/01/geo/wgs84_pos#" xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/"
	>

<channel>
	<title>In Search of Inner Peace &#124; ইসলামিক বাংলা ব্লগ</title>
	<atom:link href="http://bnislam.com/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://bnislam.com</link>
	<description>বাংলা ভাষায় ইসলামিক জ্ঞানের উপকরণ : আকিদা, কুরআন, সুন্নাহ, তাজকিয়া,মানহায &#124; বাংলা ইসলামিক  ব্লগ &#124; ইসলামিক ওয়েবসাইট</description>
	<lastBuildDate>Wed, 08 May 2013 01:36:45 +0000</lastBuildDate>
	<language>bn</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
	<generator>http://wordpress.com/</generator>
<cloud domain='bnislam.com' port='80' path='/?rsscloud=notify' registerProcedure='' protocol='http-post' />
<image>
		<url>http://0.gravatar.com/blavatar/8c913e672ce592b79aed610d7205c10a?s=96&#038;d=http%3A%2F%2Fs2.wp.com%2Fi%2Fbuttonw-com.png</url>
		<title>In Search of Inner Peace &#124; ইসলামিক বাংলা ব্লগ</title>
		<link>http://bnislam.com</link>
	</image>
	<atom:link rel="search" type="application/opensearchdescription+xml" href="http://bnislam.com/osd.xml" title="In Search of Inner Peace &#124; ইসলামিক বাংলা ব্লগ" />
	<atom:link rel='hub' href='http://bnislam.com/?pushpress=hub'/>
		<item>
		<title>মুসলিম উম্মাহর মানসিক বিপর্যয় ঃ কারণ ও প্রতিকার &#8211; ৩</title>
		<link>http://bnislam.com/2013/05/07/muslim-ummah-3/</link>
		<comments>http://bnislam.com/2013/05/07/muslim-ummah-3/#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 08 May 2013 01:15:07 +0000</pubDate>
		<dc:creator>bn.islaam</dc:creator>
				<category><![CDATA[বাংলা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://bnislam.com/?p=2828</guid>
		<description><![CDATA[মূল ঃ ড. আব্দুল্লাহ আল-খাতির অনুবাদ ঃ মুফতী কিফায়াতুল্লাহ সম্পাদনা ঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুররহমান মানসিক বিপর্যয় হতে মুক্তি লাভের উপায় {ইতিপূর্বে মানসিক বিপর্যয়ের কতিপয় লক্ষণ ও কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এ পর্যায়ে উক্ত ব্যাধি হতে আরোগ্য লাভের উপায় &#8230; <a href="http://bnislam.com/2013/05/07/muslim-ummah-3/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bnislam.com&#038;blog=14847374&#038;post=2828&#038;subd=bnislaam&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p><em>মূল ঃ ড. আব্দুল্লাহ আল-খাতির</em><br />
<em> অনুবাদ ঃ মুফতী কিফায়াতুল্লাহ</em><br />
<em> সম্পাদনা ঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুররহমান</em></p>
<h2><span style="color:#993300;">মানসিক বিপর্যয় হতে মুক্তি লাভের উপায়</span></h2>
<p>{ইতিপূর্বে মানসিক বিপর্যয়ের কতিপয় লক্ষণ ও কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এ পর্যায়ে উক্ত ব্যাধি হতে আরোগ্য লাভের উপায় সম্পর্কে পথ-নির্দেশ দেয়া হলো, যা অনুসরণ করলে মুসলিম উম্মাহ এ ভয়াবহ মানসিক বিপর্যয় হতে মুক্তি লাভ করে ভবিষ্যত বিনির্মাণে অগ্রসর হতে পারবে বলে আশা করা যায়}</p>
<ul>
<li><span style="color:#339966;"><strong>এক. সমস্যা উপলব্ধি করা । </strong></span>প্রথমতঃ আমাদেরকে সমস্যা উপলব্ধি করতে হবে। কারণ, সমস্যা উপলব্ধি না করলে সমাধানের প্রশ্নই উঠে না। এজন্য বলা হয় ‘সমস্যা উপলব্ধি সমাধানের অর্ধাংশ’। সমস্যা উপলব্ধির সাথে সাথে সমস্যা সৃষ্টির কারণ চিহ্ণিত করতে হবে। অন্যথায় সঠিক পথ নির্ণয় করা সম্ভব হবে না। অতএব, প্রথমেই আমাদেরকে বুঝতে হবে, আমরা ভয়াবহ মানসিক বিপর্যয়ের শিকার এবং এর একমাত্র কারণ হচ্ছে আল্লাহর মনোনীত দ্বীন হতে সরে পড়া।</li>
<li><span style="color:#339966;"><strong>দুই. সহীহ ঈমানের তারবিয়্যাত ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা । </strong></span>আমাদেরকে সহীহ ঈমানের তারবিয়্যাত ও প্রশিক্ষণ নিতে হবে। কারণ বিপর্যয় উত্তরণের এ দীর্ঘ পথ-পরিক্রমার প্রথম পদক্ষেপই হলো বিশুদ্ধ ঈমানের প্রশিক্ষণ গ্রহণ। কাজেই আবাল-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ তথা সর্বস্তরের মুসলিমদের খালেস দ্বীনের পূর্ণ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ঈমানের এমন স্তরে পৌঁছতে হবে, যে স্তরে পৌছে তারা আল্লাহ ছাড়া অপর কোন শক্তিকে ভয় করবে না।&lt;ঈমান কোন বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তাধারা বা দৃষ্টিভঙ্গির নাম নয়, যা কেবল চিন্তার জগতে সীমাবদ্ধ থাকে। এজন্য বিশুদ্ধ ঈমান আক্বীদাকে প্রকৃত অর্থে অন্তরে স্থাপন করতে হবে এবং জীবনের সর্বক্ষেত্রেই তার বাস্তবায়ন ও প্রতিফলন ঘটাতে হবে।বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, এক শ্রেণীর লোকের কাছে ঈমান শুদ্ধকরণ ও তা কর্মজীবনে বাস্তবায়নের কোন গুরুত্ব নেই। অধিকন্তু তারা এ বিষয়ের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আমাদের প্রশ্ন করে থাকে, তোমরা কেবল আমল-আক্বীদা শুদ্ধ করার কথাই বলো ঃ কিন্তু সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদ ও কমিউনিজমসহ অপরাপর ভ্রান্ত মতবাদের বিরুদ্ধে কিছুই বল না!এর জবাবে আমরা বলবো, সাম্রাজ্যবাদ, পুজবাদ, কমিউনিজমসহ সকল ইসলাম-বিরোধী অপশক্তি ও ভ্রান্ত মতবাদের বিরুদ্ধে সহীহ আক্বীদা বিশ্বাসই পারে কথা বলার শক্তি ও সাহস যোগাতে : চিন্তা ধারা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটাতে এবং সর্ব ক্ষেত্রে স্বাতন্ত্র ফুটিয়ে তুলতে।ঈমান আক্বীদা বিশুদ্ধ না হলে বাতিলের ভয়ে অন্তর ভীত থাকে। তার বিরুদ্ধে কথা বলার সৎ সহস সৃষ্টি হয় না। নানা প্রকার জেহালাত ও কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে ক্ষুদ্র মাখলুকের ভয়ে হীনমন্য ও বিপর্যন্ত জীবন যাপন করতে হয়। এ বক্তব্যের স্বপক্ষে আমি কতিপয় উপমা পেশ করছি।
<p>যামানায়ে জাহেলিয়্যার মূর্খ লোকেরা যখন কোন উপত্যকায় গমন করতো তখন দুষ্ট জিন ও প্রেতাত্মাদের ভয়ে এতই ভীত হতো যে, তারা সামনে এগিয়ে চলার মনোবল পর্যন্ত হারিয়ে ফেলত। জিনদের প্রতি তাদের মাত্রাতিরিক্ত ভয় ও ভ্রান্ত বিশ্বাসের কারণে তাদের কাছে সাহায্য চাইতো। তারা বলতো “হে উপত্যকাপতি, আমরা এখানকার প্রেতাত্মা হতে তোমার আশ্রয় চাই, তুমি আমাদের আশ্রয় দাও।”</p>
<p>তাদের এরূপ করার কারণ ছিল, জিনদের সম্পর্কে তাদের ভ্রান্ত আক্বীদা-বিশ্বাস। জ্বিনদেরকে তারা ত্রাণকর্তা মনে করত।</p>
<p>কিন্তু আমরা যেহেতু জিনদের ভয়ে ভীত নই এবং জিনদের সম্পর্কে আমাদের সঠিক ধারণা রয়েছে, সেহেতু আমরা জিনদেরকে ত্রাণকর্তা মনে করে তাদের সাহায্য কামনা করি না, বরং সর্বাবস্থায় আমরা আল্লাহরই সাহায্য ও নিরাপত্তা কামনা করি। কারণ, জিন সম্পর্কে আমাদের বোধ ও বিশ্বাস কেমন হওয়া উচিত, সে বিষয়ে আমরা সম্যক অবগত। আমরা জানি, জিনদের মধ্যে সৎ ও অসৎ দু’ধরণের জিন রয়েছে। পবিত্র কুরআনে জিনদের স্বীকারোক্তি এভাবে বর্ণিত হয়েছে ঃ</p>
<blockquote><p>وَأَنَّا مِنَّا الصَّالِحُونَ وَمِنَّا دُونَ ذَلِكَ كُنَّا طَرَائِقَ قِدَدًا . وَأَنَّا مِنَّا الْمُسْلِمُونَ وَمِنَّا الْقَاسِطُونَ</p>
<p>“আমাদের কেউ কেউ সৎকর্মপরায়ণ এবং কেউ আবার এরূপ নয়। আমরা ছিলাম বিভিন্ন পথে বিভক্ত। আমাদের কিছু সংখ্যক মুসলিম এবং কিছু সংখ্যক অন্যায়কারী। (সুরা জিনঃ১১, ১৪)</p></blockquote>
<p>জিন সম্প্রদায়ের কিছু সংখ্যক এমনও রয়েছে, যারা দ্বীনের দা’য়ী হিসাবে আল্লাহর পথের দিক-নির্দেশনা দিয়ে থাকে। জিন সম্পর্কে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস হল, এরা আল্লাহর এক প্রকার সৃষ্ট জীব, যারা আল্লাহর হুকুম ছাড়া কারো কোন ক্ষতি বা উপকার করতে পারে না। যেমন অন্যান্য সৃষ্টি আল্লাহর হুকুম ছাড়া কোন প্রকার ক্ষতি বা উপকার করার ক্ষমতা রাখে না। এ লালিত বিশ্বাস আমাদেরকে এমন শক্তি, সাহস ও এক্বীন প্রদান করে যে, আমরা যে কোন পরিস্থিতির মোকাবেলা করার সৎসাহস পাই এবং যে কোন পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সক্ষম হই। বস্তুতঃ সঠিক আক্বীদা সামগ্রিক জীবনের আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে মানুষকে এক স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব উপহার দেয়।</p>
<p>সঠিক ধর্ম-বিশ্বাসই যে মানসিক শক্তির উৎস এবং সর্ব প্রকার প্রকার মনস্তাত্বিক দুর্বলতা বিদূরণের প্রধান উপকরণ সে বিষয়ে আরেকটি উপমা দেয়া যাক।</p>
<p>কোন বিষয়ে শুভাশুভ ধারণা পোষণ প্রসঙ্গে বুখারী শরীফে বর্ণিত একখানা হাদীসে রাসূলে পা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন ঃ</p>
<blockquote><p>لا طيرة وأحب الفال الصالح</p>
<p>“কোন বিষয়ে অশুভ ধারণা রাখা ঠিক নয়, আমি শুভ ধারণা পোষণ করাকেই পছন্দ করি।” (বুখারী ২/৮৫৬)</p></blockquote>
<p>অন্যত্র ইরশাদ করেন ঃ لا عدوى ولا طيرة</p>
<blockquote><p>“ইসলামে শুভাশুভের ধারণার ভিত্তি নেই।” (বুখারী ২/৮৫৬)</p></blockquote>
<p>এই শুভাশুভের ধারণা জাহেলী যুগের মানুষের অন্তরে এতই প্রবলভাবে বদ্ধমূল ছিল যে, সফরের উদ্দেশ্যে বহির্গমনকালে যদি তারা কোন কাল পাখি দেখতো তাহলে তারা সফরের ইচ্ছা ত্যাগ করতো। কারণ, কালো পাখিকে তারা অশুভ লক্ষণ মনে করতো। এদের এই ভ্রান্ত বিশ্বাস ও অমূলক ভয় যে এক প্রকার মনস্তাত্বিক বিপর্যয়- এতে কোন সন্দেহ নেই।</p>
<p>পক্ষান্তরে মুসলিমগণ যখন সঠিক আক্বীদা শিক্ষা লাভ করবে তখন বস্তুর শুভাশুভের ধারণাকে ভিত্তিহীন বলে জ্ঞান করবে। তারা আরও বুঝবে যে, এই ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে জাহেলী যুগের মানুষদের কতই না বিপর্যস্ত জীবন যাপন করতে হয়েছে, তখন মুসলিমরা শুভাশুভের এই অমূলক ধারণাকে আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করবে। বস্তুতঃ এতদবিষয়ে যখন মুসলিমদের বোধ ও বিশ্বাস বিশুদ্ধ হয়ে যাবে, তখন তারা বাস্তবিকভাবেই প্রবল মানসিক শক্তির অধিকারী হবে এবং তাদের জীবনে এক ক্রিয়াশীল নব অধ্যায়ের সূচনা হবে।</p>
<p>কিন্তু তিক্ত হলেও সত্য যে, এক শ্রেণীর মুসলিম এখনো সেই জাহেলী যুগের মনোভাব ও ভিত্তিহীন আক্বীদা নিয়ে বসবাস করছে। তারা ঘরের ফটকে গরু বা ঘোড়ার হাড় এবং গাড়ীতে শিশুদের জুতা ঝুলিয়ে রাখে। তাদের ধারণা হলো, এগুলো কুদৃষ্টি হতে গাড়ী ও বাড়ীকে রক্ষা করবে। এটা একটা অলীক ধারণা। এ ধারণা পোষণের কারণ হলো কুদৃষ্টি ও জিনদের প্রতি তাদের সীমাহীন ভয়-ভীতি, যার ফলে তারা অত্যন্ত বিপর্যস্ত জীবন যাপন করে।</p>
<p>পক্ষান্তরে যে মুসলিম প্রকৃত অর্থেই সঠিক আক্বীদা পোষণ করে, সে সর্বদা স্থিতিশীল জীবন যাপন করে। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রসহ জীবনের সর্বস্তরে ইসলামী আদর্শ মেনে চলে। কোন পর্যায়েই সে আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হয় না। উদাহরণতঃ জীবিকা নির্বাহ বা রিযিক যোগাড়ের বিষয়টি মানব জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। এ সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে বহু মুসলিম এমন রয়েছেন, যারা ইসলামী বিধি-বিধান, শরয়ী অুনশাসন অহরহ লংঘন করে চলছেন। কিন্তু যারা আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখে যে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা প্রতিটি জীবের জীবিকা ব্যবস্থা করেন, তিনি সকলের রিযিকদাতা-রায্যাক, তারা কখনও রিযিক জোগাড় করতে গিয়ে হারাম কাজে লিপ্ত হয় না। তাদের পক্ষে তা কখনো সম্ভবপরও নয়।</p>
<p>এ প্রসঙ্গে একটি সুন্দর ঘটনা আমার মনে পড়েছে। লন্ডনে এক আলজেরীয় মুসলিম ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ হলে সে তার এই ব্যক্তিগত ঘটনাটি আমাকে শোনায়। যুবকটি বলল ঃ</p>
<p><em>“একদিন আমি কাজের সন্ধানে এক হোটেলে গেলাম। হোটেল মালিক যথারীতি আমার প্রাইভেট ইন্টারভিউ গ্রহণ করল। কিন্তু তার কোন ফলাফল আমাকে জানালো না, বরং বলল ঃ এ বিষয়ে আমাদের একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে, সেখানেই ফলাফল জানানো হবে। তোমার বিষয়টিও আমরা ভেবে দেখবো।</em></p>
<p><em>“অতঃপর সে আমাকে মদ্যপানের আমন্ত্রণ জানালো। হোটেল মালিকের এমন আমন্ত্রণে আমি বিপাকে পড়ে গেলাম। মুসলিম হিসাবে তার এ আহ্বানের সাড়া দেয়া আমার পক্ষে ছিল অসম্ভব। কিন্তু এ মূহুর্তে সাড়া না দিলে যে রিযিকের সম্ভাব্য পথটিও বন্ধ হবার উপক্রম! এজন্য আমি সিদ্ধান্তহীনতায় পড়ে গেলাম। পরক্ষণেই এ স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম যে, মালিক আমাকে চাকুরীর জন্য গ্রহণ করুক বা না-ই করুক, আমি তার এ আমন্ত্রণে কিছুতেই সাড়া দেব না এবং মদও পান করব না। তাই বললাম ঃ “জনাব! আমি মুসলিম, আমাদের ধর্মে মদ্যপান হারাম। এজন্য আপনার আমন্ত্রণে সাড়া দিতে পারলাম না।”</em></p>
<p><em>এ কথা শুনে হোটেল মালিক বিস্মিত হয়ে বললো, তাই নাকি!</em></p>
<p><em>আমি বললাম ঃ হ্যাঁ তা-ই!</em></p>
<p><em>মালিক বলল ঃ তাহলে আর বিলম্ব নয় তুমি এখন থেকেই চাকুরীর জন্য নির্বাচিত।</em></p>
<p><em>আমি বিস্মিত হয়ে বললাম ঃ তা কীভাবে?</em></p>
<p><em>“মালিক বলল ঃ এখানে হোটেল কর্মচারীদের নিয়ে ভীষণ সমস্যা। এরা রাতভর মদের নেশায় মত্ত হয়ে আমোদ ফুর্তিতে কাটায়। তারপর ঘুমের কোলে ঢলে পড়ে। এজন্য প্রত্যহ আসতে তাদের দেরী হয়। দেরী করা ছাড়া তারা আসতেই পারে না। তুমি যেহেতু মদ পান করো না সেহেতু তোমার ঘুমাতেও দেরী হবে না, আর আসতেও বিলম্ব হবে না। কাজেই তোমার জন্য সু-সংবাদ, এ হোটেলের চাকুরী প্রার্থীদের মধ্যে তোমাকেই প্রথমে নির্বাচন করা হল।”</em></p>
<p>বস্তুতঃ মানুষ যখন এ এক্বীন করবে যে, রিযিক একমাত্র আল্লাহরই হাতে, কেউ তার রিযিক বন্ধ করার ক্ষমতা রাখে না, তখন আল্লাহ তাআলা তার জন্য রিযিকের অসংখ্য দ্বার উন্মোচন করে দেন।</p>
<p>উপরোল্লিখিত ঘটনাই তার সুস্পষ্ট প্রমাণ। যেখানে এ যুবক ধারণাই করতে পারেনি যে, নিজেকে মুসলিম হিসাবে পরিচয় দেয়ার পর এবং মদ্যপানের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করার পরও তাকে চাকুরীর জন্য গ্রহণ করা হবে, সেখানে তাকে কতইনা সম্মানের সাথে চাকুরীতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।</li>
<li><span style="color:#339966;"><strong>তিন. পার্থিব ঘনিষ্ঠতা বর্জন করা</strong></span><br />
যে সব বিষয় নিছক দুনিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট, আখেরাতের কোন ফায়েদা তাতে নেই, কিংবা আখেরাতের জন্য তা ক্ষতিকর, সেসব বিষয় থেকে অবশ্যই দূরে থাকতে হবে। সাথে সাথে আখেরাতের সাথে সম্পর্ক গভীর করতে হবে। অর্থাৎ পার্থিব লোভ-লালসা পরিত্যাগ করে নেক আমলের প্রতি মনোনিবেশ করতে হবে।এক শ্রেণীর লোভাতুর মানুষ রয়েছে, যারা এসব বিষয়ের কোন বিবেচনা না করেই বিভিন্ন ভোজানুষ্ঠান, অলীমা, বৌভাবত যিয়াফত, চেহলাম, কুরআনখানির দাওয়াতের খোঁজে ঘুরে বেড়ায়। এদের সার্বক্ষণিক চিন্তা-ফিকিরই কেবল এসব অনুষ্ঠান। এদের ব্যক্তিগত ইমেজ ও আত্মমর্যাদাবোধ বলতে কিছুই নেই। এর ফলে তাদের ব্যক্তিত্বের প্রভাব ক্রমশঃ লোপ পেতে থাকে। ফলে এরা সামজে মর্যাদাহীনভাবে জীবন যাপন করে।পক্ষান্তরে এমন বহু আলেম রয়েছেন যারা দাওয়াত যিয়াফতের লোভে ঘুরে বেড়ানো তো দূরের কথা, তাঁরা হাদিয়া গ্রহণ করতেও চিন্তা করেন। বিশেষ করে আত্মম্ভরী ও অহংকারী প্রকৃতির লোকদের হাদিয়া। কারণ, দুনিয়ার প্রতি তাঁদের কোন আকর্ষণ নেই, নেই কোন লোভ-লালসা। এজন্য তাঁরা সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে মহান ও উঁচু মর্যাদার অধিকারী হয়ে থাকেন। মানুষের উপর তাঁদের ব্যক্তিত্বের প্রখর প্রভাব সর্বদা বিরাজমান থাকে। আমরাও যদি তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণে পার্থিব লোভ-লাসা পরিত্যাগ করি, তাহলে মানব সমাজে আমরাও মাথা উঁচু করে সগৌরবে বসবাস করতে পারবো এবং দৃঢ় মনোবলের অধিকারী হতে পারবো। ইতিহাসে এর বহু নজীর বিদ্যমান। আগের দিনকার রাজা-বাদশাগণও নির্লোভ জ্ঞানী-গুণী দুনিয়া বিমুখ আলেমদের খুবই কদর করতেন।একবার জনৈক বাদশা এক দরবারবিমুখ আলেমকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি আমার শাহী দরবারে আসেন না কেন?আলেম সাহেব বললেন ঃ আমি আপনার প্রশ্নের জবাব দেব, তবে তার আগে আমার জীবনের নিরাপত্তা দিতে হবে। বাদশা দাম্ভিক ও জালেম প্রকৃতির ছিল বিধায় উক্ত আলেমকে এমন আবেদন করতে হলো। বাদশা বললেন ঃ ঠিক আছে, আপনার জীবনের নিরাপত্তা দেয়া হলো, আপনি নির্দ্ধিধায় বলতে পারেন।</p>
<p>এবার আলেম দৃঢ় মনোবল নিয়ে বললেন ঃ আমি যদি স্বেচ্ছায় দরবারে না আসি, তাহলে আমাকে ডেকে পাঠাবেন না। আর আমি যদি নিজে আপনার কাছে কিছু না চাই, তাহলে আমার জন্য কিছু পাঠাবেন না। অর্থাৎ আলেম সাহেব কারণ না দর্শিয়ে তাকে না ডাকার আহ্বান জানালেন।</p>
<p>আলেম সাহেবের এমন জবাবে বাদশা ক্ষুদ্ধ হলেন বটে, কিন্তু পূর্ব অঙ্গীকারের কারণে ক্ষোভ সংবরণ করে গেলেন। বুঝে নিলেন, এ আলেমকে কখনো অনুগত করা যাবে না। বস্তুতঃ দুনিয়া বিমুখীতাই আমাদের মর্যাদাশীল জীবন, স্বকীয় ব্যক্তিত্ব ও আকশছোঁয়া মনোবল প্রদান করতে পারে।</li>
<li><span style="color:#339966;"><strong>চার. ইসলাম ও মুসলিমদের স্বর্ণোজ্জ্বল ইতিহাস অধ্যায়ন করা</strong></span>আমাদেরকে ইসলাম ও মুসলিমদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস অধ্যায়ন করতে হবে। এ অধ্যায়ন নিছক আত্ম-প্রশান্তি লাভের জন্য নয়, বরং ইতিহাস হতে শিক্ষা গ্রহণের নিমিত্তেই তারীখ ও সীরাতের গ্রন্থাদি অধ্যায়ন করতে হবে।এ বিষয়ে আল্লামা ইবনে কাসীরের (রহ.) “আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া” একটি অদ্বিতীয় ইতিহাস গ্রন্থ। এটি অধ্যায়ন করলে বিস্ময়কর ঐতিহাসিক কাহিনী, সীরাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তৎপরবর্তী মুসলিমদের উত্থান ও পতনের নির্ভূল বর্ণনা জানা যাবে।এটি অধ্যায়নে আপনার মানসপটে প্রকৃত মুসলিমের নির্মল প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠবে এবং আপনার মনে আশার আলো জ্বলে উঠবে।বর্তমান যুগের মুসলিমদের আচার-আচরণ দিয়ে প্রকৃত মুসলিমের পরিচয় খুঁজে পাওয়া কঠিন। কারণ, আমাদের চরিত্র, আমাদের আমল-আখলাক মারাত্মকভাবে ত্র“টিপূর্ণ। এ জন্য আমাদের আমল দিয়ে আসল মুসলিমের অনুসন্ধান না করাই ভাল। কারণ, এতে আপনি নিরাশ হবেন এবং ভাববেন, উম্মতের দায়ী, ইমাম ও আলেমদের যদি এ দুরবস্থা হয়, তাহলে মানুষের সমাজে বাস না করে বন-জঙ্গলে নির্জনবাসই শ্রেয়। অথচ এ ধরণের চিন্তা-ভাবনা মোটেও ঠিক নয় এবং তা অবশ্যই বর্জনীয়। বরং কর্তব্য হলো, ইতিহাস ভালভাবে অধ্যায়ন করে মুসলিমদের শক্তির উৎস খুঁজে বের করা এবং তাদের সার্বিক সংশোধণ, পরিপূর্ণ আমলী যিন্দেগী গঠন ও স্বর্ণোজ্জ্বল অতীতের দিকে প্রতাবর্তনের পথ ও পদ্ধতি অনুসন্ধান করা। এতে মুসলিমরা হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে।</li>
<li><strong><span style="color:#339966;">পাঁচ. যুব সমাজকে উন্নত চরিত্র ও উঁচু মনোবলের দীক্ষা দান করা</span></strong>জাতির মেরুদন্ড যুব সমাজকে উন্নত চরিত্র, উচ্চাকাঙ্খা ও বীরত্বের দীক্ষা দিতে হবে। গাফলতীর ঘুম ভেঙ্গে যুবকদেরকে ইসলামী পুনর্জাগরণের সব চেতনায় উজ্জীবিত করতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীদেরকে উচুঁ মনোবল ও বীরত্বের শিক্ষা দিতেন। সে সঙ্গে যে সকল কাজের দ্বারা হীনমন্যতা দূরিভূত হয়ে মনোবল বৃদ্ধি পায় এবং সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো যায়, সে সব কাজে তিনি উৎসাহ প্রদান করতেন। যেমন, তিনি জীবিকা নির্বাহের ব্যাপারে স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য শ্রম-সাধনা ও পরিশ্রম করে রিযিক যোগাড়ের শিক্ষা দিতেন।কাজেই প্রত্যেকের কর্তব্য হল, অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে স্বনির্ভরতা অর্জন করার জন্য সম্ভাব্য সকল বৈষয়িক উপকরণ গ্রহণ করা। এতে শত্র“পক্ষ আমাদের উপর প্রভাব খাটানোর সুযোগ পাবে না। উপরন্তু মুসলিমরা যে কোন বাতিল অপশক্তির মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে।এখানে (লন্ডন) বহু মুসলিম রয়েছে, যারা জীবনের অধিকাংশ সময় রাষ্ট্রীয় ভাতার উপর নির্ভর করে চলে। এদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার কোন ফিকির নেই, যার কারণে এরা সরকারের কোন ইসলাম বিরোধী পদক্ষেপের প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। সর্ব ক্ষেত্রেই এদেরকে সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হয়। কারণ, প্রতিবাদ করলে যে রাষ্ট্রীয় ভাতা বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে তাদের জীবন বাঁচানোই মুশকিল হয়ে পড়বে।কিন্তু এখানকার মুসলিমগণ ইচ্ছা করলে অর্থোপার্জনের বহু ক্ষেত্র যেমন মিল, ফ্যাক্টরী ইত্যাতি প্রতিষ্ঠা করতে পারতো। এতে তারা পরমুখাপেক্ষিতার গ্লানিমুক্ত হয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতো এবং এমন শক্তি সহস ক্ষমতার অধিকারী হতো যে, তারা সর্ব ক্ষেত্রেই কুফরী শক্তির দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে সক্ষম হতো।
<p>এ কথা চিরসত্য যে কর্ম-বিমুখিতাই হল পরমুখাপেক্ষিতার প্রধান কারণ। আর মুখাপেক্ষিতা হীনমন্যতার শীর্ষ উপকরণ। এজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্মে অবহেলা ও অলসতাকে সর্বদা অপছন্দ করতেন। তাই উম্মতকে এসব মন্দ স্বভাব থেকে মুক্তি লাভের জন্য নিম্নোক্ত দুআ দ্বারা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইতে বলেছেন ঃ</p>
<p>اللهم إنى أعوذبك من الهم والحزن وأعوذبك من العجز والكسل وأعوذبك من غلبة الدين وقهر الرجال.</p>
<p>অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি দুঃশ্চিন্তা ও পেরেশানী হতে আপনার আশ্রয় চাই। আরও আশ্রয় চাই অক্ষমতা, অলসতা, ঋণবৃদ্ধি ও মানুষের অযাচিত প্রভাব থেকে। (বুখারী ঃ ২/৯৪১)</p>
<p>মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দুআ এ জন্য শিক্ষা দিয়েছেন যে, পেরেশানী মানুষের সৎ চিন্তাকে নষ্ট করে দেয়। অকর্মণ্যতা, অলসতা ও ঋণবৃদ্ধি মানুষকে অপরের গোলামে পরিণত করে। এজন্য এগুলো হতে বেঁচে থাকার সম্ভাব্য সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয় এবং সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর কাছে আশ্রয় কামনা করা কর্তব্য।</p>
<p>রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী মুসলিমের প্রসংশা করে ইরশাদ করেছেন ঃ</p>
<p>المؤمن القوي خير وأحب إلى الله من المؤمن الضعيف وفى كل خير</p>
<p>“সবল মু‘মিন দুর্বল মু’মিন অপেক্ষা উত্তম এবং আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। তবে উভয়ের মধ্যে কল্যাণ নিহিত।”</p>
<p>তিনি আরো ইরশাদ করেন ঃ</p>
<p>أحرص على ما ينفعك واستعن بالله ولا تعجز وان أصابك شئ فلا تقل لو أنى فعلت كذا لكان كذا وكذا ولكن قل قدر الله وما شاء الله فعل.</p>
<p>“তোমরা কল্যাণকর বিষয়ের কামনা করবে। কোন কাজে অক্ষমতা প্রকাশ না করে আল্লাহর সাহায নিয়ে তা অব্যাহত রাখবে। কখনো কোন মুসিবতে নিপতিত হলে হতাশ হয়ে এমন বলবে না যে, হায়! যদি এমন না করে অমন করতাম, তাহলে এ মুসিবতে পড়তে হতো না। বরং বলবে ঃ</p>
<p>قدر الله ما شاء الله فعل</p>
<p>“এটা আল্লাহর পক্ষ হতে নির্ধারিত তিনি যা ইচ্ছা তা-ই করেন।” (মুসলিম ঃ ২/৩৩৮)</p>
<p>সুতরাং কখনো বিপদগ্রস্ত হলে হাতাশ না হয়ে দৃঢ় সাহসের সাথে পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে সচেষ্ট হবে। কেননা হতাশ হয়ে নিজের কাজে নিজেকে তিরস্কৃত করতে থাকলে পরিণাম আরও মন্দ হবে।</p>
<p>এজন্য প্রত্যেক মুসলিমের সৎ সাহস ও দৃঢ় মনোবল থাকা চাই। কখনো ভুলক্রমে কোন অঘটন ঘটে গেলে কিংবা কোন সমস্যা দেখা দিলে যেন এই মনোভাব নিয়ে সকল পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে পারে যে, এটাতো আল্লাহর পক্ষ থেকে আমার জন্য অবধারিত, তিনি যা ইচ্ছা তা’ই করতে পারেন। এ অঘটন ও সমসা সৃষ্টির ব্যাপারে আমার কোন হাত নেই, অতএব, হতাশ হওয়ারও কোন কারণ নেই। মনোবিজ্ঞানীরা বলে থাকেন ঃ</p>
<p>لوم النفس يورث الاكتئاب</p>
<p>অর্থাৎ আত্ম ভর্ৎসনা নৈরাশ্য টেনে আনে।</p>
<p>এজন্য হাতাশ না হয়ে নব উদ্যমে কাজ করে যাওয়া এবং ভবিষ্যত গড়ার লক্ষ্যে কাজে আত্মনিয়োগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। কেউ যদি সূচনাতেই নিজেকে তিরস্কার করে, তাহলে পরিণতিতে সে ভয়াবহ দুশ্চিন্তায় নিপতিত হবে। কারণ, কোন ব্যক্তিকে ভর্ৎসনা করলে যেমন সে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়, তদ্রুপ নিজের মনকে তিরস্কৃত করলে সেও দুশ্চিন্তায় নিপতিত হয়। এজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আত্মভর্ৎসনা করতে নিষেধ করেছেন এবং বিপদ বা কোন সমস্যা দেখা দিলেন-</p>
<p>قدر الله وما شاء الله فعل</p>
<p>“এটা আল্লাহর পক্ষ হতে নির্ধারিত তিনি যা ইচ্ছা তা-ই করেন।” কিংবা</p>
<p>حسبنا الله ونعم الوكيل</p>
<p>“আল্লাহ আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং মঙ্গলময় কর্মবিধায়ক”</p>
<p>বলে নব উৎসাহে কাজ শুরু করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন।</p>
<p>রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ বাক্য দু’টি বলতে নির্দেশ দিয়ে এদিকে ইঙ্গিত করেছেন যে, বিপদে ভেঙ্গে পড়ার কোন কারণ নেই। নব উদ্দীপনায় কাজ চালিয়ে যাওয়া চাই। কারণ কাজে সাহায্য ও সফলতার জন্য তো আল্লাহ তাআলাই রয়েছেন। তিনি আমাদের সর্বোত্তম অভিভাবক।</p>
<p>আবু দাউদ শরীফে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ</p>
<p>إن الله يلوم على العجز ولكن عليك بالكيس فإذا غلبك أمر فقل حسبي الله ونعم الوكيل.</p>
<p>“ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কাজে অক্ষমতা পকাশ করাকে আল্লাহ তাআলা অপছন্দ করেন। এজন্য তোমাকে ‘কাইস’ كيس বা কর্মন্যতা অর্জন করতে হবে। আর যখন অনভিপ্রেত কিছু ঘটে যায় তখন নৈরাশ্য প্রকাশ না করে বলবে حسبي الله ونعم الوكيل (আবু দাউদ ঃ ৫/১১)</p>
<p>অর্থৎ কোন ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে কিংবা কোন সমস্যা দেখা দিলে মোটেই হতাশ হবে না, বরং আল্লাহর অনুগ্রহের উপর ভরসা করে মনকে এ বলে সান্তনা দিবে যে, “আল্লাহই আমার উত্তম অভিভাবক, তিনিই আমার সমস্যা সমাধানের জন্য যথেষ্ট। “অতঃপর অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে নব উদ্দীপনায় সম্মুখ পানে অগ্রসর হতে থাকবে।</p>
<p>উপরোক্ত হাদীসে ‘অক্ষমতার’ বিপরীতে ‘কর্মণ্যতা’ বুঝাতে ‘কাইস’ كيس শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। আভিধানিকভাবে শব্দটি ক্ষিপ্রতা, মেধার প্রখরতা, সক্ষমতা, বুদ্ধিমত্তা, প্রভৃতি অর্থে ব্যবহৃত হয়। সে হিসাবে হাদীসের অর্থ দাঁড়ায়, তোমার কর্তব্য হলো কাজে-কর্মে উৎসাহী, ক্ষিপ্র হবে, তখন মনকে এই বলে সান্তনা দিবে যে, “আল্লাহই সর্বোত্তম অভিভাবক এবং তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট”। হীনমন্য হয়ে পিছু হটবে না, বরং সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সচেষ্ট হবে এবং নিজের জ্ঞান বুদ্ধি ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাবে।</li>
<li><span style="color:#339966;"><strong>ছয়. হতাশা ও হতাশাবদীদের থেকে দূরে থাকা</strong></span>আমাদেরকে অবশ্যই হতাশা ও হতাশাবাদীদের থেকে দূরে থাকতে হবে। আমাদেরকে দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে হবে যে, ভবিষ্যত একমাত্র ইসলামেরই। এটাই আল্লাহর অঙ্গীকার। পবিত্র কুরআনের বহু আয়াত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অসংখ্যা হাদীসে আল্লাহর এ অঙ্গীকার তথা ইসলামের বিজয়ের সু-সংবাদ সুস্পষ্টভাবে বিবৃত হয়েছে। মুসলিমদের বর্তমান অবস্থাও প্রমাণ করছে যে, সেই শুভক্ষণ সন্নিকটে। তারা অতি দ্রুত সেই সোনালী যুগের দিকে প্রত্যাবর্তন করছে। কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন ঃوَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آَمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًاوَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آَمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا“তোমাদের মধ্যে যারা আমার উপর ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের ওয়াদা দিয়েছেন যে, তাদেরকে অবশ্যই পৃথিবীতে শাসন কর্তৃত্ব প্রদান করবেন, যেমন তিনি শাসন কর্তৃত্ব প্রদান করেছেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই সুদৃঢ় করবেন তাদের দ্বীনকে- যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন। ভয়-ভীতির পরিবর্তে অবশ্যই তাদেরকে নিরাপত্তা দান করবেন। তারা আমার ইবাদত করবে এবং আমার সাথে কাউকেও শরীক করবে না। (সূরা নূর ঃ ৫৫)উপরোক্ত আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুসলিমদের হাতে পৃথিবীর শাসনভার অর্পণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তবে শর্তারোপ করেছেন ঈমান ও সৎ-কর্মপরায়নতার। কাজেই এ শর্ত দু’টি পূরণ না করলে উক্ত শুভ সংবাদের অধিকারী হওয়া যাবে না। অনুরূপভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ বিষয়ে ভবিষ্যদ্বানী করেছেন ঃ
<p>لا تقوم الساعة حتى يقاتل المسلمون اليهود فيقاتلهم المسلمون حتى يختبئ اليهودي من وراء الحجر، فيقول الحجر أو الشجر يا مسلم، يا عبد الله، هذا يهودي خلفى فتعال فاقتله إلا الغرقد فإنه من شجر اليهود.</p>
<p>“কেয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত মুসিলমরা ইয়াহুদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করবে। মুসলিমরা এত বীর-বিক্রমে লড়াই করবে যে, ইয়াহুদীরা পালিয়ে পাথর ও বৃক্ষের আড়ালে আশ্রয় নিবে। আর তখন পাথর ও বৃক্ষ চিৎকার করে বলবে ঃ হে মুসলিম, হে আল্লাহর বান্দা! এই দেখ, আমার পিছনে ইয়াহুদী! এসো, এদের হত্যা কর! কিন্তু ‘গারক্বাদ’ غرقد বৃক্ষ এমন আহ্বান জানাবে না। কারণ এটি ইয়াহুদীরেদ গাছ। (মুসলিম ঃ ২/৩৯৬)</p>
<p>এটা সুস্পষ্ট যে, এ হাদীসে বর্ণিত সময়কাল এখনও অতিবাহিত হয়নি। তাই বলছি, ভবিষ্যত একমাত্র আমাদের। সাওবান (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন ঃ</p>
<p>إن الله زوى لى الأرض فرأيت مشارقها ومغاربها وإن أمتى سيبلغ ملكها ما زوى لى منها.. الحديث.</p>
<p>“আল্লাহ কিছুক্ষণের জন্য আমার সম্মুখে গোটা পৃথিবীকে সংকুচিত করে উপস্থিত করে, তখন আমি পৃথিবীর প্রাচ্য-পাশ্চাত্য অবলোকন করি। আমার দৃষ্টি যতদূর পর্যন্ত পৌঁছেছে ততদূর পর্যন্ত অবশ্যই আমার উম্মতের শাসন কর্তৃত্ব বিস্তৃতি লাভ করবে&#8230; (মুসলিম : ২/৩৯০)</p>
<p>এ হাদীসের আলোকে প্রতীয়মান হয় যে, অচিরেই মুসলিম উম্মাহর কর্তৃত্ব সমগ্র পৃথিবীতে বিস্তৃতি লাভ করবে। কেননা বর্ণিত হাদীসে “যতদূর” বলতে সমগ্র পৃথিবীকে বুঝানো হয়েছে। আর এখন পর্যন্ত সমগ্র পৃথিবী মুসলিমদের করতলে আসেনি। সুতরাং আমরা দৃঢ় চিত্তে বলতে পারি যে, নিশ্চয়ই অদূর ভবিষ্যতে সারা বিশ্বে মুসলিমদের শাসন কর্তৃত্ব লাভ করবে, ইনশাআল্লাহ। অন্যত্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন ঃ</p>
<p>ليبلغن هذا الأمر ما بلغ الليل والنهار ولا يترك الله بيت مدر ولا وبر إلا أدخله الله هذا الدين بعز عزيز أن بذل ذليل عزا يعزالله به الإسلام زذلا يذل به الكفر.</p>
<p>“দিন রাতের আবর্তন যে পর্যন্ত রয়েছে, ইসলাম ধর্ম সে পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করবে। কাঁচা-পাকা কোন ঘরই অবশিষ্ট থাকবে না। সম্মানিতকে সম্মান দিয়ে আর অপদস্তকে অপমানিত করে এ দ্বীনকে আল্লাহ তাআলা সর্বত্রই প্রতিষ্ঠা করবেন। ইসলামকে করবেন সম্মানিত, আর কুফরকে করবেন লাঞ্ছিত। (মুসনাদে আহমদ ঃ ৪/১০৩) হাদিসটি মুহাদ্দিস ইবনে হাব্বান বর্ণনা করেন এবং শায়খ নাছেরুদ্দীন আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।</p>
<p>অন্যত্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন ঃ</p>
<p>تكون النبوة فيكم ما شاء الله ان تكون ثم يرفعها الله إذا شاء أن يرفعها، ثم تكون خلافة على منهاج النبوة، فتكون ما شاء الله أن تكون، ثم يرفعها إذا شاء أن يرفعها، ثم تكون ملكا عاضا فتكون ما شاء الله أن تكون، ثم يرفعها إذا شاء أن يرفعها، ثم تكون ملكا جبريا فتكون ما شاء الله أن تكون، ثم يرفعها إذا شاء أن يرفعها ثم تكون خلافة على منهاج النبوة، ثم سكت.</p>
<p>“নবুওয়াত ব্যবস্থা তোমাদের মাঝে ততদিন থাকবে, যতদিন আল্লাহ তাআলা মঞ্জুর করেন। অতঃপর যখন ইচ্ছা, তখন তিনি তা উঠিয়ে নিবেন। তারপর তোমাদের মাঝে নবুওয়াতের পদ্ধতিতে খেলাফত ব্যবস্থা কায়েম হবে এবং তা আল্লাহ তাআলা যতদিন ইচ্ছা ততদিন থাকবে। অতঃপর তিনি তা উঠিয়ে নিবেন। তারপর হানাহানির রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তা আল্লাহ তাআলার যতদিন ইচ্ছা ততদিন থাকবে। অতঃপর আল্লাহর ইচ্ছায় তার বিলুপ্তি ঘটবে। তারপর জবর দখল তথা আধিপত্য বিস্তারের রাজত্ব কায়েম হবে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় দুনিয়াতে কিছুকাল বিরাজমান থাকবে। তারপর যখন আল্লাহ ইচ্ছা করবেন, তখন এরও অবসান ঘটবে। অতঃপর নবুওয়াতের পদ্ধতিতে খেলাফত রাষ্ট্র-ব্যবস্থা কায়েম হবে। এ বলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চুপ রইলেন। (মুসনাদে আহমদঃ ৪/২৭৩)</p>
<p>ثم تكون الخلافة على منهاج النبوة অতঃপর নবুওয়াতের পদ্ধতিতে খেলাফত ব্যবস্থা কায়েম হবে- মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ উক্তিই প্রমাণ করে সারা বিশ্বে ইসলামী শাসন পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হবে। রাজত্বের লাগাম মুসলিমদের হস্তগত হবে। কখনো এর ব্যতিক্রম হবে না। কারণ, বিভিন্ন বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তা যথা সময়ে বাস্তবায়িত হয়েছে। ইতিহাসে তার বহু প্রমাণ রয়েছে। যেমন এক হাদীসে আবি কাবিল (রহ.) বলেন ঃ</p>
<p>كنا عند عبد الله بن عمر وبن العاص وسئل أي المدينتين تفتح أولا الفسطنطينية ام رومية، فدعى عبد الله بينما نحن حول رسول الله صلى الله عليه وسلم نكتب إذ سئل رسو الله صلى الله عليه وسلم أي المدينتين تفتح أولا القسطنطينية أم رومية، فقال الرسول صلى الله عليه وسلم مدينة هرقل أولا ـ يعنى الفسطنطينية.</p>
<p>“একদা আমরা আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস রা. এর সাথে উপবিষ্ট ছিলাম। জনৈক ব্যক্তি পশ্ন করল, কোন শহর সর্বপ্রথম বিজিত হবে, কন্সটান্টিনোপল না রোম? আব্দুল্লাহ রা. একটি কড়া বিশিষ্ট বাক্স উপস্থিত করলেন এবং তা থেকে একখানা লিখিত পত্র বের করে বললেন, একদা আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দরবারে লিখছিলাম। ইতিমধ্যে প্রশ্ন করা হল, সর্ব প্রথম কোন শহর বিজয় হবে, কন্সটান্টিনোপল না রোম? জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেব, সর্ব প্রথম হিরাক্লিয়াসের রাজ্য (কন্সটান্টিনোপল) বিজিত হবে। (মুসনাদে আহমাদ, ২/১৭৬)</p>
<p>এ হাদীস ইমাম আহমদ বিন হাম্বল র. রেওয়াতে করেন এবং শায়খ আলবানী রহ. বিশুদ্ধ বলে মত ব্যক্ত করেন। এই হাদীসে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভবিষ্যদ্বাণী পরিবর্তিতে হুবহু বাস্তবায়িত হয়েছে। সুতরাং অন্যান্য বিষয়ে তাঁর প্রদত্ত সকল ভবিষ্যদ্বাণী চিরসত্য হিসাবে প্রমাণিত হবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। এটাই আমাদের ঈমান ও একীন।</li>
</ul>
<h4><span style="color:#993300;">একটি সন্দেহের নিরসন</span></h4>
<p>দুর্বল ঈমানের এক শেণীর মুসলিমের ধারণা পৃথিবীতে আর কখনো পুর্ণাঙ্গ ইসলামী শাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগেই যা একবার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তারা নিজেদের এ সংশয় ও ভুল ধারণার স্বপক্ষে পবিত্র কুরআানের এ আয়াত পেশ করেন ঃ</p>
<p>هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ .</p>
<p>“তিনিই প্রেরণ করেছেন আপন রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীন সহকারে, যেন এ দ্বীনকে অপরাপর ধর্মের উপর জয়যুক্ত করেন। যদিও মুশরিকরা তা অপ্রীতিকর মনে করে।” (সূরা তাওবা : ৩৩)</p>
<p>উপরোক্ত শ্রেণীর লোকদের মতে এ আয়াতের উদ্যেশ্য ও প্রতিশ্র“তি ইসলামী খেলাফত কায়েম সম্পন্ন হয়ে গেছে। আর কখনও তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।</p>
<p>এদের এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। এ ধারণার অসারতা প্রমানের জন্য আয়েশা রা. এর এই হাদীসটিই যথেষ্ট যে-</p>
<p>قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يذهب الليل والنهار حتى تعبد اللات والعزي فقالت عائشة: يا رسول الله إن كنت لاظن حين أنزل الله (هوالذي أرسل رسوله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله ولو كره المشركون) إن ذالك تماـ أى ان ذلك قد تم قال إنه سيكون من ذلك ما شاء الله &#8230; الحديث.</p>
<p>“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘দিবা রাত্রির অবসান ঘটবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত পুনরায় ‘লাত’ উজ্জার পুজা করা না হবে। (আয়েশা (রা.) আরজ করলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ। সূরায়ে তাওবার এ আয়াত ঃ هوالذي أرسل رسوله بالهدى ودين الحق নাযিল হওয়ার পর মনে করতাম এ আয়াতের প্রতিশ্র“ত ইসলামের বিজয় সম্পন্ন হয়েছে, আর কখনো এর পরিবর্তন হবে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন ঃ এমন নয়, বরং আল্লাহর ইচ্ছায় এর পরিবর্তন ঘটবে। (মুসনাদে আহমদ ঃ ৫/২৭৮)</p>
<p>অর্থাৎ এক সময় কুফর শিরকের প্রভাব বিস্তার লাভ করবে। তারপর আবারো ইসলামের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা হওয়ার মাধ্যমে উক্ত আয়াতের পুনঃ বাস্তবায়ন ঘটবে। এ হাদীসটি এ কথার জ্বলন্ত প্রমাণ যে, সংশয়বাদীদের সংশয় ভিত্তিহীন ও অমূলক। পৃথিবীতে আবারো ইসলামের বিজয় হবে। মুসলিমদের দ্রুত প্রত্যাবর্তনই প্রমাণ করে যে, অচিরেই বিশ্বে খালেস ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, সুতরাং সংশয়ের কোন কারণ নেই।</p>
<p>সময় সংকীর্ণ, নতুবা আমি এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনা করতাম যে, বর্তমান পরিস্থিতির আলোকেও বুঝা যায়- ভবিষ্যত কেবল ইসলামরেই। আমরা আশাবাদী যে, অচিরেই উম্মতের উপর আল্লাহর নুসরাত নাযিল হবে। আল্লাহর দরবারে আমাদের আকুতি, তিনি যেন আমাদেরকে হতাশা ও হতাশাবাদীদের থেকে দূরে রাখেন এবং আমাদেরকে দৃঢ় মনোবলের অধিকারীদের অন্তর্ভূক্ত করেন, যে মনোবল আমাদেরকে সম্মুখপানে এগিয়ে নিবে, কখনো পিছপা হতে দিবেনা। আমীন!</p>
<p>سبحانك اللهم وبحمدك أشهد ان لا إله إلا أنت استغفرك وأتوب إليك وصلى الله على نبينا محمد وعلى إله وصحبه وسلم.</p>
<br />Filed under: <a href='http://bnislam.com/category/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be/'>বাংলা</a>  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bnislaam.wordpress.com/2828/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bnislaam.wordpress.com/2828/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bnislam.com&#038;blog=14847374&#038;post=2828&#038;subd=bnislaam&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://bnislam.com/2013/05/07/muslim-ummah-3/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
	
		<media:content url="http://1.gravatar.com/avatar/d9d4481fa439526a301e6cf04e2bdc3b?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">bnislaam</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>মুসলিম উম্মাহর মানসিক বিপর্যয় ঃ কারণ ও প্রতিকার – ২</title>
		<link>http://bnislam.com/2013/05/06/muslim-ummah-2/</link>
		<comments>http://bnislam.com/2013/05/06/muslim-ummah-2/#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 07 May 2013 01:15:08 +0000</pubDate>
		<dc:creator>bn.islaam</dc:creator>
				<category><![CDATA[বাংলা]]></category>
		<category><![CDATA[সাম্প্রতিক বিষয়]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামী বিপ্লব]]></category>
		<category><![CDATA[চরমপন্থী]]></category>
		<category><![CDATA[নতজানুমূলক]]></category>
		<category><![CDATA[পরিবর্তন]]></category>
		<category><![CDATA[বিপ্লব]]></category>
		<category><![CDATA[মানবাধিকার]]></category>
		<category><![CDATA[মানসিক ব্যাধি]]></category>
		<category><![CDATA[মুনাফিক]]></category>
		<category><![CDATA[রুস্তম]]></category>
		<category><![CDATA[সংকোচবোধ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://bnislam.com/?p=2827</guid>
		<description><![CDATA[মূল ঃ ড. আব্দুল্লাহ আল-খাতির অনুবাদ ঃ মুফতী কিফায়াতুল্লাহ সম্পাদনা ঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুররহমান মানসিক বিপর্যয়ের কারণসমূহ মানসিক বিপর্যয়ের কিছু কারণ রয়েছে আভ্যন্তরীণ- যা নিজেদেরই সৃষ্ট। আর কিছু কারণ রয়েছে বহিরস্থ যা শত্র“দের সৃষ্ট। নিম্নে আমরা উভয় প্রকার কারণ নির্দেশের &#8230; <a href="http://bnislam.com/2013/05/06/muslim-ummah-2/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bnislam.com&#038;blog=14847374&#038;post=2827&#038;subd=bnislaam&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<div style="font-size:14px;text-align:justify;"><em>মূল ঃ ড. আব্দুল্লাহ আল-খাতির</em><br />
<em> অনুবাদ ঃ মুফতী কিফায়াতুল্লাহ</em><br />
<em> সম্পাদনা ঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুররহমান</em></p>
<h3><span style="color:#993300;">মানসিক বিপর্যয়ের কারণসমূহ</span></h3>
<p>মানসিক বিপর্যয়ের কিছু কারণ রয়েছে আভ্যন্তরীণ- যা নিজেদেরই সৃষ্ট। আর কিছু কারণ রয়েছে বহিরস্থ যা শত্র“দের সৃষ্ট। নিম্নে আমরা উভয় প্রকার কারণ নির্দেশের যথাসাধ্য চেষ্টা করব। প্রথমে আভ্যন্তরীণ কারণ নিয়ে আলোচনা করা যাক।</p>
<h3><span style="color:#993300;">আভ্যন্তরীণ কারণসমূহ</span></h3>
<h3><span style="color:#339966;">প্রথম কারণ ঃ ঈমানের দুর্বলতা</span></h3>
<p>ঈমান যখন দুর্বল হয়ে যায়, মনোবল তখন ভেঙে পড়ে। অন্তর হয়ে উঠে হতাশা গ্রস্ত। ব্যক্তি তখন ধৈর্যহারা হয়ে বিপদ-আপদ সহ্য করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ফলে তার পক্ষে মহান কোন দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয় না। সে এমন সব সাধারণ ও তুচ্ছ কাজে লিপ্ত হয়, যা তার ব্যক্তিত্বকে আরও দুর্বল ও খাটো করে দেয়।</p>
<p>বর্তমানে অধিকাংশ মুসলিমদের অবস্থাও এ পর্যায়ে এসে পৌছেছে। ঈমানী দুর্বলতার কারণে তারা হীনমন্য, ধৈর্যহীন ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক বিষয়াবলী ছেড়ে দিয়ে তারা সাধারণ ও অনর্থক কাজে লিপ্ত রয়েছে।</p>
<h3><span style="color:#339966;">দ্বিতীয় কারণ ঃ  জিহাদ বর্জন</span></h3>
<p>বর্তমানে মুসলিমগণ প্রকৃত অর্থে জিহাদ ছেড়ে দিয়েছে। অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিহাদ বর্জনের ভয়াবহ পরিণতির ব্যাপারে সতর্ক করে বলেছেন জিহাদ বর্জন মুসলিমদের জন্য লাঞ্ছনা ও অপমান-অপদস্থতা ডেকে আনবে। সহীহ হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন ঃ</p>
<p>إذا تبايعتم بالعينة، وأخذتم إذناب البقر، ورضيتم بالزرع، وتركتم الجهاد سلط الله عليكم ذلا، لا ينـزعه عنكم حتى ترجعوا إلى دينكم.</p>
<blockquote><p>“যখন তোমরা ‘ঈনা’ পদ্ধতিতে বেচা-কেনা করবে, চাষাবাদে ব্যস্ত হয়ে পড়বে, জমিজমা ও ফসল নিয়ে সন্তুষ্ট থাকবে এবং জিহাদ বর্জন করবে, তখন আল্লাহ তোমাদের উপর অপমান-লাঞ্ছনা চাপিয়ে দিবেন। এ অপমান-অপদস্থতা থেকে তোমরা মুক্তি পাবে না যতক্ষন না তোমরা তোমাদের ধর্মে (জিহাদে) ফিরে আসবে। (আবু দাউদ ঃ ৪৯০)</p></blockquote>
<p>ব্যাখ্যা ঃ عينه “ঈনা” এক প্রকার বিক্রয় পদ্ধতি, যার মাধ্যমে কৌশলে সুদী লেনদেন করা হয়। বর্তমানে তো কৌশলে সুদ গ্রহণের প্রয়োজন নেই। মুসলিমগণ সরাসরিই সুদী কারবারে জড়িত।</p>
<p>أخذتم أذناب البقر অর্থ ঃ তোমরা গরু বা বলদের লেজ ধরবে- এ বাক্য দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে চাষাবাদের প্রতি।</p>
<p>رضيتم بالزرع ফসল নিয়ে সন্তুষ্ট থাকবে- বাক্য দিয়ে বুঝানো হয়েছে তোমরা পার্থিব ভোগ বিলাসিতা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকবে।</p>
<p>لا ينزعه عنكم حتى ترجعوا إلى دينكم আল্লাহ তোমাদের লাঞ্ছনা ঘুচাবেন না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের ধর্মে ফিরে আসবে- হাদীসের এই অংশটি হচ্ছে চিকিৎসা। অর্থাৎ সুদী কারবার, পার্থিব ভোগ বিলাসিতা অবলম্বন ও জিহাদ বর্জনের ব্যাধিতে যখন মুসলিম উম্মাহ আক্রান্ত হবে তখন তারা চরমভাবে লাঞ্ছনা গঞ্ছনার শিকার হবে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে অবশ্যই তাদেরকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে হবে। দ্বীন ইসলামকে মজবুত ভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে এবং জিহাদের ঝান্ডা হাতে নিতে হবে।</p>
<h3><span style="color:#339966;">তৃতীয় কারণ ঃ দ্বীন প্রতিষ্ঠার পথে অনিবার্য বিপদাপদের ভয়</span></h3>
<p>দ্বীন আহকাম পালনে এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠার পথে যেসব বিপদাপদের মুখোমুখি হতে হয়, বর্তমান মুসলিমগণ তার জন্য সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত। সেগুলোকে তারা অনাকাঙ্খিত মনে করে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় তারা যেন এই আশা নিয়ে বসে আছে যে, দ্বীনের পথ হবে কুসুমাস্তীর্ণ, সহজ-সংক্ষেপ ও বিপদমুক্ত। অথচ প্রকৃত সত্য হল, দ্বীনের পথ হচ্ছে বিপদসংকুল ও কন্টকাকীর্ণ। পরীক্ষা করার জন্যই আল্লাহ তাআলা এসব বিপদাপদ দিয়ে থাকেন। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন ঃ</p>
<p>أَحَسِبَ النَّاسُ أَنْ يُتْرَكُوا أَنْ يَقُولُوا آَمَنَّا وَهُمْ لا يُفْتَنُونَ . وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ .</p>
<blockquote><p>“মানুষ কি মনে করে যে, তারা এ কথা বলেই অব্যাহতি পেয়ে যাবে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’ আর তাদেরকে পরীক্ষা করা হবে না। আমি তো তাদেরকে পরীক্ষা করেছি যারা এদের পূর্বে ছিল। আল্লাহ নিশ্চয়ই জেনে নিবেন (প্রকাশ করবেন) কারা সত্যবাদী এবং নিশ্চয়ই জেনে নিবেন (প্রকাশ করবেন) কারা মিথ্যাবাদী।” (সূরা আনকাবুত ঃ ২-৩)</p></blockquote>
<p>সুতরাং যারা এ আশা পোষণ করে যে, দ্বীনের পথ হবে নিস্কন্টক, সহজ ও বিপদমুক্ত, তারা মূলত ঃ ভুলের মধ্যে রয়েছে। কেননা বিপদাপদ এসে থাকে ইসলাম অনুসরণে একনিষ্ঠতার দাবীতে সত্যবাদী ও মিথ্যাবাদীদের মাঝে পার্থক্য নির্ণয় করার জন্য। এ জন্য আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেনঃ</p>
<blockquote><p>فليعلمن الله الذين صدقوا وليعلمن الكاذبين.</p>
<p>“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা জেনে নিবেন (প্রকাশ করে দিবেন) কারা সত্য বলেছে, আর কারা মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে।”</p></blockquote>
<p>যারা সত্যবাদী, শত বিপদের সময়েও তারা দ্বীনের উপর অবিচল থাকে। আর যারা মিথ্যাশ্রয়ী, বিপদের সময় তাদের স্বরূপ উন্মোচিত হয়ে যায়।</p>
<p>সত্যবাদিতা ও একনিষ্ঠতা তো আর দাবী করে প্রমাণ করার বিষয় নয় যে, ‘আমার ঈমান ঠিক’ ‘আমার দিল সাফ’ ইত্যাদি বাগাড়ম্বর দ্বারা তা প্রমাণিত হয়ে যাবে। বরং সত্যবাদিতা হল কঠিন বাস্তবতা- যা প্রমাণিত হয় বাস্তব জীবনে বিপদ ও মুসীবতের মুখোমুখি হলে।</p>
<p>এ বিপদ দু’ধরনের হয়ে থাকে, ছোট ও বড়। দ্বীনের উপর চলতে গিয়ে পরিবারস্থ লোকজন, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের দিক থেকে যে সব বাধা বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয় সেগুলো ছোট বিপদ। আর জেল, জুলুম, হত্যা, নির্যাতন, নাগরিকত্ব হরণ ইত্যাকার মুসিবত হল বড় বিপদ। ছোট হোক, আর বড় হোক- দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বাধা-বিপত্তি ও বিপদাপদের সম্মুখীন হওয়াটা স্বাভাবিক। এসব বাধা-বিপত্তি ডিঙ্গিয়ে এবং দুঃখ-যতনা জয় করেই অবিরাম সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। কাজেই দ্বীন প্রতিষ্ঠার পথে কষ্ট-ক্লেশ সহ্য করার জন্য সবাইকে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। কেননা দ্বীনের পথ হল কন্টকময়, বন্ধুর। স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন ঃ</p>
<blockquote><p>حفت النار بالشهوات وحجت الجنة بالمكاره</p>
<p>“জাহান্নামকে প্রবৃত্তির কামনা দ্বারা, আর জান্নাতকে কষ্ট-ক্লেশ দ্বারা আবৃত করা হয়েছে।” (বুখারী : ২/৯৬০)</p></blockquote>
<p>অর্থাৎ যে সব কর্মের পরিণতিতে মানুষ জাহান্নামে যাবে, তার সবগুলোই বাহ্যিকভাবে সুন্দর ও মনোগ্রাহী। সফস বা প্রবৃত্তি এগুলোকে খুবই পছন্দ করে। এজন্য জাহান্নামের পথ অতি সহজ। আর যে সব কর্মগুণে মানুষ জান্নাতের অধিকারী হবে, সেগুলো কঠিন ও কষ্টকর। প্রবৃত্তি কখনো তা করতে চায় না। এজন্য জান্নাতের রাস্তা কঠিন ও বিপদসংকুল। তাই জান্নাতের প্রত্যাশী ঈমানদারদের বিপদাপদে মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।</p>
<h3><span style="color:#339966;">চতুর্থ কারণ ঃ ক্ষেত্র বিশেষের ব্যর্থতাকে সার্বিক ব্যর্থতা মনে করা</span></h3>
<p>এক শ্রেণীর মানুষ এমন রয়েছে, যারা কোন এক ক্ষেত্রের ভুল-ভ্রান্তিকে সর্বক্ষেত্রের ভুল মনে করে এবং ক্ষেত্র বিশেষের ব্যর্থতাকে সার্বিক ব্যর্থতা বিবেচনা করে সীমাহীন মানসিক যন্ত্রনায় ভুগতে থাকে। নিজের মধ্যে এই ধারণা বদ্ধমূল করে নেয় যে, “ব্যর্থতা ছাড়া কিছুই ভাগ্যে নেই।” ফলে সে হতাশা ও মানসিক দুর্বলতায় চরমভাবে নিপতিত হয়।</p>
<h3><span style="color:#339966;">পঞ্চম কারণ ঃ ইতিহাসকে সংকীর্ণ দৃষ্টিতে বিবেচনা করা</span></h3>
<p>উদাহরণ স্বরূপ মনে করুন, কোন ব্যক্তি এমন শহরে বসবাস করে, যেখানে মুসলিমদের পারস্পরিক মতানৈক্য ও দলাদলি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ লোক তার এলাকার এ সমস্যাকে ব্যাপক আকারে দেখতে শুরু করে। মনে করে, সারা পৃথিবীতেই বুঝি মুসলিমদের এই দুর্দশা। ফলে সে হতাশায় ভুগতে থাকে। কাজেই এ ধরণের বিচ্ছিন্ন কোন সমস্যাকে ব্যাপকরূপে বিবেচনা করা উচিত নয়। অন্যথা হতাশায় নিমজ্জিত হওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।</p>
<p>কিছুদিন পূর্বে আমি জনৈক লোকের সাথে আলোচনা করছিলাম। তিনি বলছিলেন, “আমাদের দেশে শিশু-কিশোরদের মাঝে কোরআন হিফজ করার চর্চা এখনো গড়ে উঠেনি। বড়রাও মৃত্যু পথযাত্রী। এ অবস্থা চলতে থাকলে তো হাফেজে কুরআনের সংকট প্রকট আকারে দেখা দিবে।” এ লোক নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলে তার দৃষ্টি সীমাবদ্ধ রাখার কারণে হতাশ হয়ে পড়েছেন। অথচ তিনি যদি বহির্বিশ্ব সফর করতেন, কিংবা তার আশেপাশে নজর দিতেন তাহলে অবশ্যই তার এই ভুল দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটত। তিনি দেখতে পেতেন যে, সাধারণ মুসলিমদের মাঝে ইসলামের চর্চা কত বেশী, আর দ্বীনি চেতনা কত প্রখর। হয়তো সামাজিক কোন সমীবদ্ধতা কিংবা অন্য কোন কারণে তার এলাকায় সে চেতনা অনুভূত হচ্ছে না।</p>
<p>কিন্তু অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টি দিয়ে দেশ-বিদেশে সফর করলে এবং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে পড়া- লেখা করলে মুসলিম উম্মাহর প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে, যা মনে আশাবাদ সৃষ্টি করবে এবং ইসলামী পুনর্জাগরণের চেতনায় উজ্জীবিত করবে। সুতরাং নির্দিষ্ট একটি ভূখন্ডে দৃষ্টিকে নিবদ্ধ রাখলে নিরাশ হতে হবে।</p>
<p>অনুরূপভাবে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের পরিধিকে যদি বিশেষ কোন সময়ের মাঝে সীমাবদ্ধ রাখা হয়, তাহলেও অন্তরে হতাশা ছেয়ে যাবে। যেমন, বর্তমান সময়ের প্রতি লক্ষ্য করে যদি বলা হয়, আন্তর্জাতিক সীমারেখা ইসলামী বিশ্বের মাঝে ফাটল সৃষ্টি করেছে, গোটা মুসলিম জাতি ভূখন্ডে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, তাদের পারস্পরিক অবস্থান খুবই দুর্বল, দ্বীনের দা’য়ীগণও প্রত্যেকে বিচ্ছিন্নভাবে মেহনত করেছেন, তাহলে এ জাতীয় চিন্তা-ভাবনা আমাদেরকে মানসিকভাবে দুর্বল করে দিবে।</p>
<p>পক্ষান্তরে আমরা যদি অতীত ইতিহাসের প্রতি দৃষ্টিপাত করি, তাহলে সেখান থেকে অনেক কিছুই শিখতে পারি। তাতারীদের সময়ের কথাই ধরা যাক। তাতারীরা মুসলিমদেরকে চরমভাবে পর্যুদস্ত করে লক্ষ লক্ষ মুসলিমকে তারা অবলীলায় হত্যা করেছে। লাগাতার দীর্ঘ চল্লিশ দিন তারা মুসলিম নিধন করেছে। তাদের ভয়ে সমস্ত মানুষ এমনভাবে আত্মগোপন করেছিল যে, দীর্ঘ চল্লিশ দিন যাবত বাগদাদে কেউ জামাআতে নামাজ আদায় করতে বের হয়নি।</p>
<p>হিজরী চতুর্থ শতকের শুরুতে কারামেতা বাহিনী পূর্ব আরব শাসন করত। তিনশত তের হিজরীর ৮ই যিলহজ আবু তাহের কারামতীর নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র বাহিনী মক্কায় প্রবেশ করে অসংখ্য মুসলিমকে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং “হাজরে আসওয়াদ” ছিনিয়ে নেয়। অতঃপর তাদের নেতা সদম্ভে চিৎকার করে বলে, ‘কোথায় সে আবাবীল পাখি! কোথায় পাথর বৃষ্টি?’ এ জালিমরা হাজরে আসওয়াদ ছিনিয়ে নিয়ে দীর্ঘ বাইশ বৎসর (৩১৭-৩৩৭ হি:) পর্যন্ত পূর্ব আরবে স্থাপন করে রাখে। সেখানে শুধু শিয়া কারামতীরাই হাজরে আসওয়াদের তাওয়াফ করতো। তারা কা’বা শরীফ স্থানান্তারিত করার মত চরম দৃষ্টতাও দেখিয়েছে। এতদসত্বেও মুসলিম উম্মাহ পুনরায় তাদের শক্তি সম্মান ফিরে পেয়েছে।</p>
<p>খৃষ্টান ক্রুসেড বাহিনী বায়তুল মোকাদ্দাসকে জবর দখল করে দীর্ঘ একানব্বই বছর পর্যন্ত তারা মসজিদে আকসায় তালা ঝুলিয়ে রেখেছিল। না জামাআত হতো, না জুমআ হত, বরং ৪৯২ হিজরী থেকে ৫৮৩ হিজরী পর্যন্ত প্রায় এক শতাব্দীকাল যাবত আল-আকসার উপর ক্রুস স্থাপিত ছিল। কিন্তু তারও অবসান ঘটে এবং মুসলিমরা সুলতান সালাহ উদ্দীন আইয়ুবীর (র.) নেতৃত্বে বায়তুল মোকাদ্দাস খৃস্টান- দখল মুক্ত করে।</p>
<p>পক্ষান্তরে বর্তমানে বায়তুল মোকাদ্দাসের উপর ইয়াহুদী শাসন এখনও পঞ্চাশ বছর অতিক্রম করেনি। সেখানে জামাআতের সাথে নামাজ আদায় হচ্ছে, জুমআর জামাআতও হচ্ছে, এখানে মসজিদের উপর ক্রুস স্থাপিত হয়নি। এতদসত্বেও মুসলিমদের মাঝে দেখা যায় পরাজয় ও দুর্বলতার ছাপ। তারা ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দিচ্ছে। আর বলছে, ইসরাইলের প্রতিষ্ঠা যেহেতু বাস্তব, সেহেতু তার সাথে শান্তি ও সহাবস্থানের সম্পর্ক গড়ে তোলার বিকল্প নেই।</p>
<p>অথচ অতীতে যখন ক্রুসেডার বাহিনী আল-আকসা দখল করেছিল, তৎকালীন মুসলিমগণ নিজেদেরকে দুর্বল ভাবেনি, পরাজিত মনে করেনি, বরং তারা আল্লাহ তাআলার এ অভয়বাণীকে সামনে রেখে নির্ভীকভাবে এগিয়ে গিয়েছিলো ঃ</p>
<blockquote><p>وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنْتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ .</p>
<p>“তোমরা হীনবল হয়ো না এবং দু:চিন্তা করো না, তোমরাই জয়ী হবে যদি তোমরা মু’মিন হও। (সুলা আলে ইমরান : ১৩৯)</p></blockquote>
<p>ইতিহাস সাক্ষী, তৎকালীন মুসলিমগণ নিরাশ হয়নি, ভেঙ্গে পড়েনি। ইবনে কাসীরের ‘আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ’ খুলে দেখুন, ৫৮৩ হিজরীতে কি বীর-বিক্রমে মুসলিম বাহিনী আল-আকসায় প্রবেশ করেছিল এবং দীর্ঘ একানব্বই বছর পর সেখানে তারা কি বীরত্বের সাথে জুমআর নামাজ আদায় করেছিল।</p>
<p>এ সকল ঐতিহাসিক ঘটনা মনে আশার সঞ্চার করে যে, বর্তমান অবস্থাও অতি দ্রুত পরিবর্তিত হবে, ইনশাআল্লাহ। কিন্তু ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করে যদি নির্দিষ্ট একটি সময়ের মাঝে নিজের দৃষ্টিকে সীমাবদ্ধ করে রাখা হয়, তাহলে আমাদেরকে তা হতাশায় নিমজ্জিত করবে। ইতিহাসের এ সব ঘটনাবলী গভীরভাবে আমাদের অধ্যয়ন করা উচিত। তাহলে ঈমানী প্রেরণা সৃষ্টি হবে এবং অন্তরে নতুন সঞ্জীবনী শক্তি সঞ্চারিত হবে।</p>
<h3><span style="color:#339966;">ষষ্ট কারণ ঃ শক্তির উৎস-দ্বীন অনুসরণে চরম শিথিলতা</span></h3>
<p>দ্বীন ইসলাম আঁকড়ে ধরে আমরা যে প্রবল ক্ষমতার অধিকারী হতে পারি, সে বাস্তবতার উপলব্ধি আমাদের নেই। আমরা আমাদের দ্বীনকে ছেড়ে দিয়েছি এবং তার মাঝে লুকায়িত প্রবল শক্তির অনুসন্ধান বর্জন করেছি। আমাদের ধর্মে যেমন রয়েছে ধর্মীয় বিধি-বিধান, তেমনি রয়েছে যাবতীয় বৈষয়িক সমস্যার সুষম সমাধান, যা কেয়ামত পর্যন্ত জীবন-পথের বিস্তৃত পরিসরে সকল সমস্যর সুষ্ঠু সমাধান দিতে সক্ষম। কোন জাতির জীবনে এর চেয়ে চরম ব্যর্থতা আর কি হতে পারে যে, সে পরিপূর্ণ শক্তি ও ক্ষমতার অধিকারী এবং বিশাল ধন-ভান্ডারের মালিক হওয়া সত্ত্বেও এই শক্তি-সামর্থ ও বিপুল অর্থবিত্ত তার কোন কাজেই লাগাতে পারলো না। কবির ভাষায় ঃ</p>
<p>ولم أر فى عيوب الناس شيئا ، كنقص القادرين على التمام.</p>
<p>অর্থঃ শক্তি আছে পূর্ণ করিবার পূর্ণ করে না তবু,</p>
<p>এর চে’ বড় দোষ মানুষের মাঝে দেখিনি আমি কভু।</p>
<h3><span style="color:#339966;">সপ্তম কারণ ঃ উচ্চাকাংখার অভাব</span></h3>
<p>বর্তমান মুসলিমদের অনেকের মাঝেই লক্ষ্য করা যায় যে, তাদের ভবিষ্যত আশা-আকাঙখা অতি ক্ষুদ্র ও সীমিত। তারা বড় ধরনের কোন আশা পোষণ করে না বিধায় উন্নতির শিখরে পৌঁছা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। ফলে তারা পর্বত শৃঙ্গে আরোহনের সাহস হারিয়ে গুহা উপত্যকায় পড়ে জীবন কাটাচ্ছে, যা তাদের জন্য চরম অবমাননাকর। কবির ভাষায় ঃ</p>
<p>ومن يتهيب صعود الجبال يعش أبداالدهر بين الحفر</p>
<p>অর্থঃ পর্বত শৃঙ্গে আরোহনে ভীত হয়ে যে জন</p>
<p>গুহার মাঝে জীবন তাহার কাটে আমরণ।</p>
<p>আলী (রা.) সম্পর্কে বর্ণিত আছে, একদা তিনি তার এক ছেলেকে জিজ্ঞেস করলেন ঃ তুমি কার মত হতে চাও?</p>
<p>ছেলে বলল ঃ আমি আপনার মত হতে চাই।</p>
<p>আলী (রাঃ) বললেন ঃ না, বল! আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মত হতে চাই। কেননা তোমার অভীষ্ট লক্ষ যদি হয় আলী, তাহলে তুমি হয়ত আলীর স্তরে পৌঁছতে পারবে না। কিন্তু তোমার লক্ষ যদি হয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাকেই যদি তুমি অনুকরণীয় আদর্শ হিসাবে গ্রহণ কর তাহলে তুমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মত না হলেও অসম্ভব নয় যে, তুমি আলীকে অতিক্রম করে যাবে।</p>
<p>সুতরাং বুঝা গেল, মানুষের লক্ষ্য যত বড় হবে, আশা-আকাঙ্খা যত মহান হবে, চেষ্টা সাধনা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সে তত বড় হতে পারবে।</p>
<h3><span style="color:#339966;">অষ্টম কারণ ঃ পরাজিতের ন্যায় বিজাতির অন্ধানুকরণ</span></h3>
<p>কোন জাতি যখন অন্য জাতির কাছে পরাজিত হয়, তখন সে বিজয়ী জাতির সংস্কৃতির অনুসরণ করতে শুরু করে। বিখ্যাত ঐতিহাসিক আল্লামা ইবনে খালদুন স্বীয় ইতিহাস গ্রন্থের ভূমিকায় বিজিত জাতির এই দুর্বল মানসিকতার বর্ণনা এভাবে দিয়েছেন ঃ</p>
<p><em>“বিজিত সর্বদা বিজয়ীর অন্ধানুকারণের দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রাক্ত হয়। সভ্যতা-সংস্কৃতিসহ সর্বক্ষেত্রেই বিজিত জাতি বিজয়ীর অন্ধানুকারণ করতে শুরু করে। কেননা, মানুষের স্বভাব হল, সে বিজয়ীর মাঝে সর্বদা পূর্ণতাই দেখতে পায়। বিজয়ীর জয় পরাজিতের মনে এই বিশ্বাসই জন্ম দেয় যে, বিজয়ী কোন সাধারণ ক্ষমতায় বিজয় লাভ করেনি। বরং সে তার আদর্শিক ও সংস্কৃতিক পূর্ণতার কারণেই বিজয়ী হয়েছে। এজন্য পরাজিত পক্ষ বিজয়ী শিক্ষা-সংস্কৃতিকে সাগ্রহে গ্রহণ করে নেয়।”</em></p>
<p>মুসলিম উম্মাহর বর্তমান অবস্থাকে নিরীক্ষণ করলে দেখা যায়, মানসিক এ দুর্বলতা তথা বিজয়ী জাতির অন্ধানুকরণ বর্তমান মুসলিম উম্মাহর মাঝে পুরোপুরিই বিদ্যমান। তারা সব ক্ষেত্রেই বিজাতির অন্ধানুকরণ করে চলছে।</p>
<h3><span style="color:#993300;">মানসিক বিপর্যয়ের বহিরস্থ কারণসমূহ</span></h3>
<h3><span style="color:#339966;">প্রথম কারণ ঃ শত্র“ পক্ষের সামরিক শক্তিকে অপরাজেয় মনে করা</span></h3>
<p>এক শ্রেণীর লোক রয়েছে, যারা মনে করে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এক একটি পরাশক্তি। এদের মোকাবেলা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। ঈমানের দুর্বলতার কারণেই তারা তথাকথিত পরাশক্তির সামনে নিজেকে ছোট ও তুচ্ছ মনে করে। অথচ তারা যদি আল্লাহ তাআলার অসীম শক্তি ও অগণিত অদৃশ্য বাহিনীর কথা চিন্তা করতো- যার হিসাব একমাত্র আল্লাহই ভাল জানেন, তাহলে তারা অবশ্যই বলতে বাধ্য হত যে, আল্লাহর নির্দেশে সামান্য একটি ভূমিকম্পই মেক্সিকো ও সানফ্রান্সিসকো’র মত জৌলূসপূর্ণ শহরকে নিমিষেই ধ্বংস করে দিতে সক্ষম। আল্লাহর নির্দেশে তাদের তৈরী আনবিক বোমা তাদের দিকেই বুমেরাং হতে পারে। ‘চেরনোবিল’ এর মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আজও তাদের হৃদকম্পন সৃষ্টি করে, যে ঘটনায় নিহত হয়েছিল অসংখ্য বনী আদম। এ ঘটনার পর থেকে আজ পর্যন্ত তারা এই চিন্তায় অস্থির হয়ে আছে যে, কিভাবে আনবিক শান্তির বিস্তার রোধ করা যায়। (গ্রন্থকারের এ বক্তব্যটি সোভিয়েট ইউনিয়নের পতনের পুর্বে দেয়া। সোভিয়েট রাশিয়ার পতন তার এ আশাবাদকে আরো জোড়ালো করেছে। সম্পাদক)</p>
<p>সুতরাং মুসলিমদের এ বিশ্বাস রাখা উচিত যে, আমাদের জন্য আল্লাহর অসংখ্য বাহিনীই যথেষ্ট যে বাহিনীর সাথে মোকাবেলা করার সাধ্য কোন পরাশক্তির নেই। তথাপি আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে আসবাব গ্রহণ ও বৈষয়িক শক্তি সঞ্চয়ের চেষ্টা করতে হবে। তবেই আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য আসতে থাকবে।</p>
<h3><span style="color:#339966;">দ্বিতীয় কারণ ঃ মুসলিমদের দুর্বল করতে পশ্চিমাদের স্নায়ুযুদ্ধ</span></h3>
<p>শত্র“রা মুসলিমদেরকে মানসিকভাবে দুর্বল করার জন্য ক্রমাগত ভীতি প্রদর্শন, গুজব, অপপ্রচার ও আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে নিজেদের শক্তিকে বিশাল আকারে প্রকাশ করে থাকে। অথচ এ অপপ্রচারের পিছনে ততটা বাস্তবতা নেই। তাদের এই চক্রান্ত নস্যাৎ করে বিজয় লাভের জন্য প্রয়োজন সুদৃঢ় ঈমান, পাহাড়সম ধৈর্য এবং পরিপূর্ণ তাকওয়া। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন ঃ</p>
<blockquote><p>وَإِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا لَا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئًا</p>
<p>“আর যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ কর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর, তাহলে তাদের কোন চক্রান্তই তোমাদের ক্ষতি সাধন করতে পারবে না।” (সুরা আলে ইমরান ঃ ১২০)</p></blockquote>
<h3><span style="color:#339966;">পঞ্চম ঃ  বাহিনী সমস্যা</span></h3>
<p>আমাদের মাঝে একটি শ্রেণী রয়েছে, যারা আমাদেরই সন্তান, আমাদেরই ভাই, আমাদের ভাষাতেই কথা বলে এবং আমাদের দেশেই তারা বসবাস করে, কিন্তু প্রতিপালিত হয়েছে শত্র“দের কোলে। তারা শিক্ষা পেয়েছে পশ্চিমাদের কাছ থেকে। তাদের মস্তিস্কের খোরাক পাশ্চাত্য সভ্যতা সংস্কৃতি। তারা স্বদেশে বসে পশ্চিমাদের জয়গান গায় এবং তাদের তথাকথিত সভ্যতার বাস্তবায়ন ঘটাতে চায়। এরা মূলতঃ পাশ্চাত্য সভ্যতার(?) সামনে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে। নিজেদেরকে পশ্চিামাদের কাছে বিক্রি করে ফেলেছে। রক্তে মাংসে যদিও তারা মুসলিম, কিন্তু বাস্তবে তারা কপট-পঞ্চম বাহিনী এবং ইসলামের চরম দুশমন।</p>
<h3><span style="color:#339966;">চতুর্থ কারণ ঃ মুসলিম নেতৃবৃন্দকে প্রবৃত্তির জালে জড়াতে শত্র“দের চক্রান্ত</span></h3>
<p>শত্র“রা বর্তমান মুসলিমদের দুর্বলতার উৎস ভালভাবেই জেনে নিয়েছে। এজন্য তারা মুসলিমদের পরাজিত করতে সে পথেই অগ্রসর হচ্ছে। দুর্বলতার সে উৎস পথটি হল নফস বা কু-প্রবৃত্তি। পশ্চিমারাও এ কথা স্বীকার করেছে।</p>
<p>ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নবম লুইস মিসর আক্রমনের সময় আল-মানসুরায় বন্দী হয়। অতঃপর তাকে চার বৎসরের কারাদন্ড দেয়া হয়। বন্দী জীবনের এই দীর্ঘ সময়ে সে মুসলিমদের মানসিক অবস্থা ভালভাবে অনুধাবন করতে সক্ষম হয়। মুক্তির পর স্বদেশে ফিরে সে তার জাতিকে বলেছিল, “সমর শক্তিতে কখনোই তোমরা মুসলিমদেরকে পরাস্ত করতে পারবে না। তাদেরকে পরাজিত করার একমাত্র উপায় কমনীয় নারী ও সুপেয় শরাবের পেয়ালা”।</p>
<p>মিঃ লুইসের দেয়া এ তথ্যই শত্র“রা আজ কাজে লাগাচ্ছে। শত্র“রা তাদের ইচ্ছার বাস্তবায়ন ঘটাতে এ পথটি বেছে নিয়েছে। খাহেশাতে নফসানী তথা প্রবৃত্তির তাড়নার এ ঘৃণিত পথেই তারা মুসলিমদের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করছে। যেমন, ‘আল-মাসুনিয়া’র মত সংগঠনগুলো অতি ঘৃণিত পথে তাদের কার্যসিদ্ধি করে থাকে। বিভিন্ন ক্লাব প্রতিষ্ঠা করে তারা মুসলিম নেতৃবৃন্দকে সেখানে দাওয়াত করে। সমাজের বড় বড় ব্যক্তি ও সরকারী উপরস্থ প্রতিনিধিগণই এতে উপস্থিত হয়। এ সকল সংগঠনের লক্ষ হল, ইসলামী দুনিয়ার বড় বড় ব্যক্তিত্বকে ঘায়েল করা এবং তাদের চরিত্রে কালিমা লেপন করা। দাওয়াত পেয়ে নেতৃবর্গ সম্বেলনে যোগ দেন। সেখানে মদ ও নারী দিয়ে তাদের কু-প্রবৃত্তি চাঙ্গা করে কোন রূপসীর সাথে অভিসারে লিপ্ত হতে বাধ্য করা হয় এবং তা ক্যামেরা বন্দী করে মূলতঃ তাদেরকে জিম্মি করে রাখা হয়। তারপর এসব ছবি বা ভিডিও ক্যাসেটকে পুঁজি করে শত্র“রা তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করার সুযোগে তারা মুসলিমদের গুরুত্বপূর্ণ ও সংরক্ষিত স্থানগুলোতে তাদের লোক নিয়োগের প্রস্তাব করে। যেমন, তারা বলে ঃ ‘আমাদের সুশিক্ষিত অমুক ব্যক্তিকে আপনার অমুক দপ্তরে নিয়োগ দিতে হবে এবং তার পদ হতে হবে সর্বোচ্চ। আমাদের এ প্রস্তাবে আপনি অসম্মত হলে আপনার এ ক্যাসেট আমরা সারা দুনিয়ায় প্রচার করে দিব। নেতার পক্ষে তখন ঐ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা সম্ভ হয় না। ফলে বাধ্য হয়েই তাকে তা মেনে নিতে হয়। অন্যথায় তার ইজ্জত সম্মান (?) সবই যে শেষ হয়ে যাবে!</p>
<p>অনুরূপভাবে নেতৃবৃন্দের জাতীয় অর্থ আত্মসাৎ, উৎকোচ গ্রহণ, দুর্নীতি প্রভৃতির প্রমাণ শত্র“দের হাতে থাকে, যার কারণে নেতৃবৃন্দ তাদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকেন। আর তাদের এ দুর্বলতার সুযোগে শত্র“রা তাদের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সফল হয়।</p>
<p>কিন্তু মুসলিম নেতৃবৃন্দ যদি মদ ও নারীর হাতছানিতে আত্মভোলা না হতেন, ঘুষ ও উৎকোচ গ্রহণ করে, দুর্নীতিতে জড়িয়ে নিজেদের চরিত্রকে কলঙ্কিত না করতেন তাহলে তারা স্বাধীন ও পবিত্র ব্যক্তিত্বের অধিকারী হতে পারতেন। শত্র“রাও তাদের কার্যসিদ্ধিতে সফল হতে পারতো না এবং তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হতো না।</p>
</div>
<br />Filed under: <a href='http://bnislam.com/category/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be/'>বাংলা</a>, <a href='http://bnislam.com/category/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a7%9f/'>সাম্প্রতিক বিষয়</a> Tagged: <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%80-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%ac/'>ইসলামী বিপ্লব</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a7%80/'>চরমপন্থী</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a7%82%e0%a6%b2%e0%a6%95/'>নতজানুমূলক</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%a8/'>পরিবর্তন</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%ac/'>বিপ্লব</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0/'>মানবাধিকার</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a6%bf/'>মানসিক ব্যাধি</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%95/'>মুনাফিক</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%ae/'>রুস্তম</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%9a%e0%a6%ac%e0%a7%8b%e0%a6%a7/'>সংকোচবোধ</a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bnislaam.wordpress.com/2827/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bnislaam.wordpress.com/2827/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bnislam.com&#038;blog=14847374&#038;post=2827&#038;subd=bnislaam&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://bnislam.com/2013/05/06/muslim-ummah-2/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
	
		<media:content url="http://1.gravatar.com/avatar/d9d4481fa439526a301e6cf04e2bdc3b?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">bnislaam</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও ইসলাম</title>
		<link>http://bnislam.com/2013/05/04/secularism/</link>
		<comments>http://bnislam.com/2013/05/04/secularism/#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 04 May 2013 14:34:26 +0000</pubDate>
		<dc:creator>bn.islaam</dc:creator>
				<category><![CDATA[বাংলা]]></category>
		<category><![CDATA[কায়সার]]></category>
		<category><![CDATA[কোপার্নিকাস]]></category>
		<category><![CDATA[গ্যালিলিও]]></category>
		<category><![CDATA[ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ]]></category>
		<category><![CDATA[ধর্মহীনতা]]></category>
		<category><![CDATA[ফ্রিমেশন]]></category>
		<category><![CDATA[স্পিনোজা]]></category>
		<category><![CDATA[Copernicus]]></category>
		<category><![CDATA[Freemasons]]></category>
		<category><![CDATA[Galileo]]></category>
		<category><![CDATA[Holy Communion]]></category>
		<category><![CDATA[Indulgence]]></category>
		<category><![CDATA[Inquisition]]></category>
		<category><![CDATA[John Lock]]></category>
		<category><![CDATA[Secularism]]></category>
		<category><![CDATA[Spinoza]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://bnislam.com/?p=2841</guid>
		<description><![CDATA[রাষ্ট্রীয় জীবন ও সামাজিক জীবন থেকে ধর্মকে বহিষ্কার করে জাগতিক জ্ঞান ও বিবেকবুদ্ধির ভিত্তিতে জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার আহবানই- ধর্মনিরপেক্ষতা। যে ব্যক্তি ইসলামের পরিবর্তে ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করে এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে ইসলামী শরীয়তকে আইন হিসেবে গ্রহণ করে না এবং আল্লাহ তা‘আলা যা কিছু হারাম করেছেন সেগুলোকে সে নিষিদ্ধ করে না- সে মুরতাদ, সে মুসলিম নয়। দলীল-প্রমাণের ভিত্তিতে তার যুক্তি খণ্ডন করা ও তাকে তওবা করার আহ্বান জানানো ওয়াজিব- যেন সে ইসলামে ফিরে আসার সুযোগ পায়। অন্যথায় ইহকালে ও পরকালে তার ব্যাপারে ইসলাম ত্যাগকারী মুরতাদের বিধান প্রযোজ্য হবে। <a href="http://bnislam.com/2013/05/04/secularism/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bnislam.com&#038;blog=14847374&#038;post=2841&#038;subd=bnislaam&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<div style="font-size:16px;text-align:justify;">
<p><em> ড. মানে‘ ইবন হাম্মাদ আল-জুহানী</em><br />
<em><b>অনুবাদ :</b><b> </b>মুহাম্মদ নূরুল্লাহ তারীফ</em><br />
<em><b>সম্পাদনা : </b>ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া</em></p>
<p>Secularism শব্দের সঠিক অনুবাদ হচ্ছে- ধর্মহীনতা। তবে বাংলা ভাষায় শব্দটির অনুবাদ তা না করে করা হয়ে থাকে ধর্মনিরপেক্ষতা। বস্তুত এ মতবাদটি ধর্মকে এড়িয়ে নিছক বস্তুবাদী স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে মানববিদ্যা ও বুদ্ধির ভিত্তিতে মানবজীবন প্রতিষ্ঠার প্রতি আহ্বান করে। ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি বলতে বুঝানো হয় &#8211; ধর্মের প্রভাবমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা। এ মতবাদটি ১৭শত শতাব্দীতে ইউরোপে আত্মপ্রকাশ করে এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এটি প্রাচ্যে প্রসারিত হয়। প্রথমদিকে মিসর, তুরস্ক, ইরান, লেবানন, সিরিয়াতে প্রসার লাভ করে। ধীরে ধীরে তিউনিশিয়াতে এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে ইরাকে প্রসারিত হয়। এছাড়া বিংশ শতাব্দীতে এসে অন্যান্য আরব দেশগুলোতেও বিস্তার লাভ করে।</p>
<p>আরব বিশ্বে এই মতবাদকে বুঝাতে ‘লা-দ্বীনিয়্যাহ্‌’ (لا دينية) বা ‘ধর্মহীনতা’ বলার কথা থাকলেও এ মতবাদের প্রবর্তকরা সে শব্দটির পরিবর্তে ‘ইলমানিয়্যাহ্‌’ (علمانية) বা ‘বিজ্ঞানময়’ শব্দটি ব্যবহার করে থাকে। প্রথম দৃষ্টিতে কারও কারও মতে হতে পারে যে শব্দটি বোধ হয় ‘ইলম’ তথা ‘জ্ঞান’ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। বস্তুত বিষয়টি এ রকম নয়। এ মতবাদের সাথে বিজ্ঞান বা Science এর কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু তারা এ শব্দটি ব্যবহারে বেশি সাচ্ছন্দ বোধ করে; কারণ শব্দটিকে জ্ঞানের দিকে সম্পর্কযুক্ত করতে পারলে আরব সমাজে অপেক্ষাকৃত কম প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে। তাই এ বিভ্রান্তির নিরসনার্থে শব্দটিকে আরবীতে ‘ইলমানিয়্যাহ্‌’ উচ্চারণ না করে ‘আলামানিয়্যাহ’ বলা উচিত।</p>
<p>আমরা আগেই বলেছি যে, এ মতবাদের উৎপত্তিস্থলে তার জন্য Secularism শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যার অর্থ হচ্ছে ধর্মহীনতা বা ধর্মের সাথে সম্পর্কহীন। কিন্তু বাংলাভাষাভাষি মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য এর একটি ভুল অনুবাদ করা হয়ে থাকে, আর বলা হয় যে, এর অর্থ, ধর্মনিরপেক্ষতা।</p>
<p>আমরা এ প্রবন্ধে এটাকে এ প্রচলিত অর্থেই বর্ণনা করব। পাঠকগণ অবশ্যই সেটাকে তার আসল অর্থে বুঝে নিবেন।</p>
<p>Secularism যাকে ধর্মনিরপেক্ষতা বলা হয়ে থাকে, তার সর্বজনস্বীকৃত সংজ্ঞা হচ্ছে- রাষ্ট্রীয় ও সমাজিক জীবন থেকে ধর্মকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা। ধর্ম ব্যক্তির অন্তরের খাঁচায় বন্দি থাকবে। ধর্মের পরিধি ব্যক্তি ও তার উপাস্যের সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। ধর্মকে প্রকাশ করার কোনো সুযোগ থাকলে সেটা শুধুমাত্র উপাসনাতে এবং বিবাহ ও মৃত্যু সংক্রান্ত রসম-রেওয়াজে।</p>
<p>রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে আলাদা রাখার ক্ষেত্রে ধর্মনিরপেক্ষতার সাথে খ্রিস্টান ধর্মের মিল রয়েছে। রাষ্ট্রক্ষমতা থাকবে <strong>কায়সার</strong> (খ্রিস্টান সরকার প্রধানের উপাধি) এর হাতে, আর গির্জার ক্ষমতা থাকবে আল্লাহর হাতে। যীশুর নামে প্রচারিত বাণী ‘‘কায়সারের অধিকার কায়সারকে দাও এবং আল্লাহর অধিকার আল্লাহকে দাও’’ থেকেও এ বিষয়টি সুস্পষ্ট। কিন্তু ইসলাম এ ধরনের দ্বিমুখী নীতির অনুমোদন করে না। মুসলিম নিজেও আল্লাহর মালিকানাধীন এবং তার গোটা জীবনও আল্লাহর জন্য। কুরআনে কারীমে এসেছে</p>
<blockquote><p>‘‘হে রাসূল! আপনি বলুন, নিশ্চয় আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য।’’[সূরা আন‘আম: ১৬২]</p></blockquote>
<p><b>ধর্মনিরপেক্ষতার উৎপত্তি ও উল্লেখযোগ্য ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিত্বঃ </b><b></b></p>
<ul>
<li>এই মতবাদটি প্রথমে ইউরোপে প্রসার লাভ করে। তারপর প্রাশ্চাত্যের উপনিবেশ শাসন ও কমিউনিজমের প্রভাব-প্রতিপত্তির সুবাদে বিশ্বের অন্যান্য দেশে বিস্তার লাভ করে। ১৭৮৯ সালে ফ্রান্সে শিল্প বিপ্লবের আগে ও পরের বেশকিছু পরিস্থিতি ধর্মনিরপেক্ষতার ব্যাপক প্রসার ঘটায় এবং ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ ও চিন্তাধারার বিকাশ ঘটায়। নিম্নে উল্লেখিত ক্রমধারায় ঘটনাগুলো ঘটেছেঃ</li>
<li>এক্লিরোস, বৈরাগ্যবাদ, ঐশ্বরিক নৈশভোজ (Holy Communion), ক্ষমাপত্র (Indulgence) বিক্রি ইত্যাদির আড়ালে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বগণ তাগুতী শক্তি, পেশাদার রাজনীতিবিদ ও স্বৈরাচারে পরিণত হয়েছিল।</li>
<li>গির্জাগুলোর বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে অবস্থান, মানুষের চিন্তাধারার উপর গির্জার একচ্ছত্র আধিপত্য, গির্জা কর্তৃক Inquisition কোর্ট গঠন করা এবং বিজ্ঞানীদেরকে ধর্মদ্রোহী হিসেবে অভিযুক্তকরণ। উদাহরণতঃ-
<ul>
<li><em>কোপার্নিকাস (Copernicus) : ১৫৪৩ সালে ‘‘আকাশে গ্রহ নক্ষত্রের আবর্তন’’ নামক একটি বই প্রকাশ করেন। গির্জা কর্তৃক বইটি নিষিদ্ধ করা হয়।</em></li>
<li><em>গ্যালিলিও (Galileo): টেলিস্কোপ আবিস্কার করার কারণে ৭০ বছর বয়সী এই বিজ্ঞানীর ওপর কঠোর নির্যাতন নেমে আসে। ১৬৪২ সালে তিনি মারা যান।</em></li>
<li><em>স্পিনোজা (Spinoza): তিনি ইতিহাস সমালোচনার প্রবক্তা ছিলেন। তাঁর শেষ পরিণতি হয়েছিল তরবারীর আঘাতে মৃত্যুদণ্ড।</em></li>
<li><em>জন লক (John Lock) : তিনি দাবী উত্থাপন করেছিলেন যে, স্ববিরোধিতা পাওয়া গেলে ঐশীবাণীর বিপক্ষে বিবেকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।</em></li>
</ul>
</li>
<li><strong>বিবেকবুদ্ধি ও প্রকৃতি নীতির উদ্ভবঃ</strong> ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিবর্গ বিবেকের মুক্তির দাবী তোলেন এবং প্রকৃতিকে উপাস্যের বিশেষণে বিশেষিত করার দাবী জানান।</li>
<li><strong>ফরাসি বিপ্লবঃ</strong> গীর্জা ও নতুন এ আন্দোলনের মাঝে দ্বন্দের ফলে ১৭৮৯ সালে ফ্রান্সে একটি সরকার গঠিত হয়। জনগণের শাসনের নামে এটাই ছিল প্রথম ধর্মনিরপেক্ষ সরকার। কেউ কেউ মনে করেন যে, ফ্রিমেশন (Freemasons) এর সদস্যরা গির্জা ও ফরাসি সরকারের ত্রুটিগুলোকে পুঁজি করে বিদ্রোহ ঘটায় এবং যতদূর সম্ভব তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করার প্রয়াস চালায়। এ বিপ্লবের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, গ্রন্থ ও প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে,
<ul>
<li> জঁ-জাক রুশো (Jean Jacques Rousseau) মৃত্যু ১৭৭৮ খ্রিঃ &#8211; Social Contract (সামাজিক চুক্তি, অনুবাদ: ননীমাধব চৌধুরী) নামে তাঁর একটি গ্রন্থ রয়েছে। ফরাসি বিপ্লবের ক্ষেত্রে এ গ্রন্থটি ইঞ্জিলের মর্যাদায় ছিল।</li>
<li> মনটাসকিউ (Montesquieu) এর রচিত গ্রন্থ The Spirit of Laws.</li>
<li>ইহুদী ধর্মাবলম্বী স্পিনোজা (Spinoza) কে ধর্মনিরপেক্ষতার পথিকৃত মনে করা হয়। তিনি ধর্মনিরপেক্ষতাকে জীবন ও আচার আচরণের পদ্ধতি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। ইশ্বরতত্ত্ব ও রাজনীতি নিয়ে তাঁর রচিত একটি পুস্তিকা রয়েছে।</li>
<li> প্রাকৃতিক আইনের প্রবক্তা ভলটেয়ার (Voltaire): তাঁর রচিত বই হচ্ছে- ‘‘বিবেকের গন্ডিতে ধর্ম’’ (১৮০৪ খ্রিঃ)।</li>
<li>উইলিয়াম গডউইন (William Godwin) (১৭৯৩খ্রিঃ): তাঁর রচিত গ্রন্থ হচ্ছে- Political Justice (রাজনৈতিক ন্যায়পরায়নতা)। এই গ্রন্থে ধর্মনিরপেক্ষতার দিকে তাঁর আহবান সুস্পষ্ট।</li>
<li>মিরাবোঁ (Mirabeau): যাঁকে ফরাসি বিপ্লবের প্রবক্তা, নেতা ও দার্শনিক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।</li>
<li>বাস্তিল (Bastille) ধ্বংস করার দাবী নিয়ে গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতে তাদের শ্লোগান ছিল- ‘‘রুটি চাই’’। পরবর্তীতে এ শ্লোগান ‘‘স্বাধীনতা, সম অধিকার ও ভ্রাতৃত্ব’’ তে পরিবর্তিত হয়। এটি মূলতঃ ফ্রিমেশন এর শ্লোগান। তাদের আরেকটি শ্লোগান ছিল ‘‘পশ্চাৎমুখিতার পতন হোক’’। এর দ্বারা তারা ধর্মের পতনকে উদ্দেশ্য করে। এই শ্লোগান দিয়ে ইয়াহূদীরা একটা হট্টগোল বাধিয়ে দেয়, এর মাধ্যমে তারা রাষ্ট্রের কর্ণধারদের সাথে তাদের দূরত্ব নির্মূল করার চেষ্টা করে এবং ধর্মীয় বিরোধগুলো মিটিয়ে দেয়ার প্রয়াশ চালায়। এভাবে ফরাসি বিপ্লব ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গের অত্যাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পরিবর্তে খোদ ধর্মের বিরুদ্ধে আন্দোলনে রূপ ধারণ করে।</li>
</ul>
</li>
<li><strong>ধর্মবিমুখ বিভিন্ন মতবাদের উদ্ভব:</strong> স্যাকুলারিজমের উদ্ভবের পেছনে বেশ কিছু ধর্মবিমুখ- ধর্মবিদ্বেষী মতবাদের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। নিম্নে কয়েকটি মতবাদের উল্লেখ করা হলো:
<ul>
<li>বিবর্তনবাদ: ১৮৫৯ সনে ডারউইন (Charles Darwin) এর বই The Origin of Species (প্রজাতির উৎপত্তি, অনুবাদক- অধ্যাপক ম. আখতারুজ্জামান) প্রকাশিত হয়েছে। এই গ্রন্থে ডারউইন প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural Selection) এবং বংশগতি তত্ত্বের উপর গুরুত্বারোপ করেন। মানুষের আসল পূর্বপুরুষ হিসেবে একটি অনুজীবকে চিহ্নিত করা হয়। যে অনুজীবটি মিলিয়ন মিলিয়ন বছর একটি বদ্ধ ডোবাতে ছিল। বিবর্তনের ফলে এটি এক পর্যায়ে বানর এবং শেষ পর্যায়ে মানুষে পরিবর্তিত হয়। বিবর্তনবাদ ধর্মীয় বিশ্বাসকে উচ্ছেদ করে নাস্তিকতার বিস্তার ঘটায়। ইয়াহূদীরা সুকৌশলে এই মতবাদকে ব্যবহার করে তাদের স্বার্থ উদ্ধার করে।</li>
<li>নিতশার (Nietzsche) দর্শনের উদ্ভব: দার্শনিক নিতশা দাবী করেন- ইশ্বরের মৃত্যু হয়েছে। মানুষ হচ্ছে সুপারম্যান। মানুষকে ইশ্বরের স্থলাভিষিক্ত হওয়া উচিত।</li>
<li>দুরখীম (ইয়াহূদী) এর দর্শন: তিনি সামষ্টিক বিবেক (Group mind) তত্ত্বের ভিত্তিতে মানুষদেরকে জন্তু ও বস্তু সত্তার সম্মিলিত রূপ বলে মত প্রকাশ করেন।</li>
<li>ফ্রুয়েড (Freud) (ইয়াহূদী) এর দর্শন: তিনি বস্তুজগতের সবকিছুতে যৌন বাসনাকে মূল প্রেরণা মনে করেন এবং তাঁর দৃষ্টিতে মানুষ নিছক যৌনাকাঙ্ক্ষী প্রাণী।</li>
<li>কার্ল মার্ক্স (Karl Marx) (ইয়াহূদী) এর দর্শন: তিনি বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ইতিহাসকে ব্যাখ্যা করেন। মার্ক্স ‘‘অনিবার্য বিবর্তন’’ তত্ত্বে বিশ্বাস করতেন। তিনি কমিউনিজমের প্রচারক ও প্রথম প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ধর্মকে জাতিসমূহের আফিম হিসেবে আখ্যায়িত করেন।</li>
<li>জঁ-পল সার্ত্র্ (Jean-Paul Sartre) তাঁর Existentialism নামক গ্রন্থে ও কলিং উইলসন (Colin Wilson) তাঁর The Outsider নামক গ্রন্থে অস্তিত্ববাদ (existentialism) ও নাস্তিক্যবাদের প্রতি আহবান জানান।</li>
</ul>
</li>
</ul>
<p><b>আরব ও ইসলামী বিশ্বে ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির কিছু নমুনা:</b><b></b></p>
<ul>
<li>§ <b>মিসর:</b> নেপোলিয়ন বোনাফোর্ট এর আক্রমনের সাথে মিসরে ধর্মনিরপেক্ষতার অনুপ্রবেশ ঘটে। আল-জিবরিতি তাঁর ইতিহাসগ্রন্থে (মিসরের উপর ফরাসি হামলা ও সংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহ শীর্ষক অংশে) এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি তাঁর লেখায় এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করেছেন যা স্যাকুলারিজম তথা ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদের অর্থ বহন করে। যদিও তিনি এ শব্দটি সরাসরি ব্যবহার করেননি। যিনি সর্বপ্রথম ‘ইলমানিয়্যাহ্‌’ বা স্যাকুলারিজম পরিভাষাটি ব্যবহার করেছেন তিনি হচ্ছেন- কাতারের অধিবাসী খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী ইলিয়াস; ১৮২৭ সালে প্রকাশিত আরবী-ফরাসি অভিধানে। খিদীভ (মিশরের শাসকদের উপাধি) ইসমাঈল ১৮৮৩ সালে ফ্রান্সের আইন মিসরে প্রবেশ করান। এই খিদীভ প্রাশ্চাত্য-সংস্কৃতির অন্ধভক্ত ছিলেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল মিসরকে ইউরোপের একটি টুকরোতে পরিণত করবেন।</li>
<li>§ <b>ভারত:</b> ১৭৯১ সাল পর্যন্ত ভারতে ইসলামি আইন (শরিয়া) মোতাবেক শাসনকার্য পরিচালিত হয়েছে। এরপর ইংরেজদের প্ররোচনায় ক্রমান্বয়ে ইসলামি আইন বিলুপ্ত করা শুরু হয়। ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে সম্পূর্ণভাবে ইসলামি আইন বিলুপ্ত করা হয়।</li>
<li>§ <b>আলজেরিয়া:</b> ১৮৩০ সালে ফ্রান্স কর্তৃক উপনিবেশ শাসনের স্বীকার হওয়ার পর ইসলামি আইন বিলুপ্ত করা হয়।</li>
<li>§ <b>তিউনিশিয়া:</b> ১৯০৬ সালে তিউনিশিয়াতে ফ্রান্সের আইন স্থান করে নেয়।</li>
<li>§ <b>মরক্কো:</b> ১৯১৩ সালে মরক্কোতে ফ্রান্সের আইন অনুপ্রবেশ করে।</li>
<li>§ <b>তুরস্ক:</b> ইসলামি খেলাফত বিলুপ্ত হওয়ার পর এবং মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক কর্তৃক সর্বক্ষেত্রে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের পর তুরস্ক স্যাকুলারিজমের চাদর পরিগ্রহ করে করে। যদিও তারও আগ থেকেই কিছু কিছু লক্ষণ ও কর্মকাণ্ড দেখা দিয়েছিল।</li>
<li>§ <b>ইরাক ও সিরিয়া:</b> উসমানী খিলাফত আমলে ইরাক ও সিরিয়া থেকে ইসলামি আইন বিলুপ্ত করা হয় এবং সেখানে ইংরেজ ও ফরাসিদেরকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়।</li>
<li>§ <b>আফ্রিকার অধিকাংশ অঞ্চল:</b> দখলদার ঊপনিবেশী শক্তির পতনের পর আফ্রিকার অনেক দেশে খ্রিস্টান রাষ্ট্রপ্রধানেরা ক্ষমতা দখল করে নেয়।</li>
<li>§ ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ দেশ স্যাকুলার রাষ্ট্র।</li>
<li>§ <b>স্যাকুলার ও জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দলের প্রসার:</b> বার্থ পার্টি, সিরিয়ান জাতীয়তাবাদী দল, ফেরাউনি মতবাদ, তুরানি মতবাদ, আরব জাতীয়তাবাদ।</li>
</ul>
<ul>
<li><b>আরব ও মুসলিম বিশ্বে উল্লেখযোগ্য স্যাকুলার ব্যক্তিবর্গ:</b></li>
</ul>
<p>আহমাদ লুতফি সৈয়দ, ইসমাঈল মাযহার, কাসেম আমীন, ত্বাহা হোসাইন, আব্দুল আযিয ফাহমি, মিশেল আফলাক, আন্তুন সাদাত, সূকর্ণ, সুহার্তু, নেহেরু, মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক, জামাল আব্দুন নাসের, ‘‘রাজনীতিতে ধর্ম নেই; ধর্মে রাজনীতি নেই’’ এই শ্লোগানের প্রবক্তা আনোয়ার সাদাত, ড. ফুয়াদ যাকারিয়া, ড. ফারাজ ফৌদাহ প্রমুখ।</p>
<p><b>স্যাকুলারদের চিন্তাধারা ও বিশ্বাসাবলী:</b><b></b></p>
<ul>
<li>কিছু ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তি আল্লাহর অস্তিত্বকেও অস্বীকার করে। তাদের কেউ কেউ আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস রাখলেও আল্লাহর অস্তিত্বের সাথে মানুষের জীবনের কোনরূপ সম্পর্ক আছে বলে তাঁরা বিশ্বাস করে না।</li>
<li>নিছক বিজ্ঞানের ভিত্তিতে এবং বিবেক ও অভিজ্ঞতার শাসনাধীনে মানবজীবন প্রতিষ্ঠিত হবে।</li>
<li>আধ্যাত্মিক জগৎ ও বস্তুজগতের মধ্যে দুর্ভেদ্য ব্যবধান তৈরী করা। তাদের দৃষ্টিতে আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ নেতিবাচক মূল্যবোধ।</li>
<li> ধর্মকে রাজনীতি থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন রাখা এবং নিরেট বস্তুবাদী ভিত্তির উপর জীবন প্রতিষ্ঠিত করা।</li>
<li> জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে pragmatism (সুবিধাবাদ) প্রতিষ্ঠা করা।</li>
<li> শাসন, রাজনীতি ও নীতি নৈতিকতার ক্ষেত্রে ম্যাকিয়াভেলীর সূত্র অনুসরণ করা।</li>
<li>অশ্লীলতা ও চারিত্রিক অবক্ষয় ছড়িয়ে দেয়া এবং পারিবারিক ভিত ভেঙ্গে দেয়া। যেহেতু পরিবার হচ্ছে সামাজিক বন্ধনের প্রথম বীজ।</li>
<li>সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও মিশনারী সংস্থাগুলোর অপচেষ্টায় আরব ও মুসলিম বিশ্বে প্রচারিত ধর্মনিরপেক্ষ বিশ্বাসগুলো হচ্ছে-
<ul>
<li>ইসলাম, কুরআন ও নবুয়তের মূলে আঘাত করা।</li>
<li>এ দাবী করা যে, ইসলামের আবেদন নিঃশেষ হয়ে গেছে। ইসলাম কিছু আধ্যাত্মিক পূজা-অর্চনা ছাড়া কিছু নয়।</li>
<li>এ দাবী করা যে, ইসলামী ফিকহ বা ইসলামী আইন শাস্ত্র রোমান আইন থেকে উদ্ভুত।</li>
<li>এই দাবী তোলা যে, ইসলাম বর্তমান সভ্যতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ইসলাম মানুষকে পশ্চাৎমুখী হওয়ার আহবান জানায়।</li>
<li>পাশ্চাত্য চিন্তাধারার আলোকে নারীমুক্তির আহবান জানানো।</li>
<li>ইসলামী সভ্যতাকে বিকৃতভাবে পেশ করা। ইসলামের ইতিহাসে সংঘটিত ধ্বংসাত্মক আন্দোলনগুলোকে অতিরঞ্জিতভাবে প্রচার করা এবং এ আন্দোলনগুলোকে সংস্কারমূলক আন্দোলন হিসেবে দাবী করা।</li>
<li>প্রাচীন সভ্যতাগুলোকে পুনর্জীবিত করার চেষ্টা করা।</li>
<li>পাশ্চাত্যের ধর্মহীন আইনকানুন ও কারিকুলাম আমদানী করা এবং নিজেদের কর্মকাণ্ডে পাশ্চাত্যের ধারা চালু করা।</li>
</ul>
</li>
</ul>
<h3> স্যাকুলারিজম কি মুসলিম সমাজে গ্রহণযোগ্য?</h3>
<p>পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে স্যাকুলারিজম বা ধর্মহীনতা বিকাশের কোনো কারণ যদি থেকেও থাকে কোনো মুসলিম দেশে তা বিকাশের কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। কেননা কোনো খ্রিস্টানকে যখন মানবরচিত সিভিল ল’ দিয়ে শাসন করা হয় তখন সে অল্প বা বিস্তর বিরক্ত হয় না। কারণ এতে করে সে এমন কোনো কিছুকে অকেজো করছে না যা মান্য করা তার ধর্ম তার উপর আবশ্যক করে দিয়েছে; কেননা তাঁর ধর্মে জীবনবিধান হিসেবে কিছু নেই। কিন্তু মুসলিমের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। মুসলিমের ঈমানই তাঁকে আল্লাহর আইনের শাসন গ্রহণে বাধ্য করে।</p>
<p>তাছাড়া &#8211; যেমন ড. ইউসুফ আল-কারাদাভী বলেন- ধর্ম থেকে রাজনীতিকে বিচ্ছিন্ন রাখা হলেও খ্রিস্টান ধর্ম তার প্রভাব প্রতিপত্তি ও ক্ষমতাতে অটুট থাকবে এবং খ্রিস্টান ধর্মরক্ষী পোপ, ফাদার, মাদার ও ধর্মপ্রচারকগণ বিনা প্রতিবন্ধকতায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে। পক্ষান্তরে মুসলিম দেশে যদি এ মতবাদ চালু করা হয় তাহলে ইসলাম শক্তিহীন ও আশ্রয়হীন হয়ে পড়বে। কারণ ইসলাম কোনো ব্যক্তির জন্য পোপ, যাজক, এক্লিউরিস এর মত আধিপত্য অনুমোদন করে না। ইসলামের তৃতীয় খলিফা উসমান (রাঃ) ঠিকই বলেছেন- ‘‘আল্লাহ তাআলা শাসককে দিয়ে যা বাস্তবায়ণ করান, কুরআন দিয়ে তা বাস্তবায়ণ করান না।’’</p>
<ul>
<li><b>স্যাকুলার মতবাদের আদর্শিক ও বিশ্বাসগত শেকড়ঃ</b><b></b></li>
</ul>
<p>প্রথমতঃ গির্জার সাথে শত্রুতা। দ্বিতীয়ত ধর্মের সাথে শত্রুতা, চাই সে ধর্ম বিজ্ঞানের পক্ষে অবস্থান নিক অথবা বিজ্ঞানের বিপক্ষে অবস্থান নিক।  স্যাকুলারিজম প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে ইয়াহূদীদের বড় ভূমিকা রয়েছে; যাতে করে তারা এর মাধ্যমে তাদের ও বিশ্বের অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যকার ধর্মীয় দেয়াল নির্মূল করতে পারে।</p>
<p>আলফ্রেড ওয়াইট হু বলেন: <em>‘‘যে ইস্যুতেই ধর্ম বিজ্ঞানের বিরোধিতা করেছে সেখানে বিজ্ঞানের অভিমতই সঠিক পাওয়া গেছে এবং ভুল সবর্দা ধর্মের মিত্র।’</em>’ যদি এ উক্তিটি ইউরোপে প্রচলিত জ্ঞান-বিজ্ঞান ও ধর্মীয় বিশ্বাসের ব্যাপারে সঠিক হয়েও থাকে, ইসলামের ব্যাপারে এ বক্তব্য সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যাত এবং কোনো বিবেচনায় সঠিক নয়। কারণ ইসলাম ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণিত তত্ত্বগুলোর মাঝে কোনো সংঘর্ষ নেই। ইসলাম ও বাস্তব বিজ্ঞানের মাঝে কখনো কোনো বিরোধ বাঁধেনি, খ্রিস্টান ধর্মের সাথে যেরূপ বিরোধ বেঁধেছিল। একজন সাহাবী থেকে একটি উক্তি বর্ণিত আছে- ‘‘ইসলাম যা আদেশ দিয়েছে সে বিষয়ে বিবেক কখনো বলেনি যে, হায়! এ ব্যাপারে যদি নিষেধ করা হত। অথবা ইসলাম যা থেকে বারণ করেছে সে বিষয়ে বিবেক কখনো বলেনি যে, হায়! ইসলাম যদি এ ব্যাপারে আদেশ দিত।’’ বৈজ্ঞানিক বাস্তব তত্ত্ব-উপাত্তগুলো এ উক্তিকে সত্য প্রমাণিত করে। পাশ্চাত্যের একদল বিজ্ঞানীও এ কথার স্বীকৃতি দিয়েছেন। তাঁদের মুখনিসৃত শত শত উক্তির মাধ্যমে ইসলামের এই বৈশিষ্টের প্রতি তাঁদের অনুরক্ততা ও এ বৈশিষ্টের সত্যতা প্রকাশ পেয়েছে।</p>
<p>‘‘বিজ্ঞান ও ধর্মের মাঝে শত্রুতা’’ এই দৃষ্টিভঙ্গিকে ব্যাপকতা প্রদান, যাতে এর আওতায় ইসলামও এসে যায়। অথচ ইসলাম গির্জার ন্যায় জীবন ও বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি। বরং অভিজ্ঞতাবাদ পদ্ধতি (empirical method) প্রয়োগে ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসারে ইসলামই ছিল অগ্রণী।  আখেরাতকে অস্বীকার করা এবং আখেরাতের জন্য আমল না করা এবং এ বিশ্বাস রাখা যে, ভোগ ও উপভোগের জন্য দুনিয়ার জীবনই একক ক্ষেত্র।</p>
<ul>
<li><b>ইসলাম কেন স্যাকুলারিজম (ধর্মনিরপেক্ষতা) প্রত্যাখান করে?</b><b></b>
<ul>
<li>স্যাকুলারিজম (ধর্মহীনতা) যা আমাদের দেশে ধর্মনিরপেক্ষতা নামে প্রসিদ্ধ তা মানব প্রকৃতির একটি বিশেষ দিককে উপেক্ষা করে। দেহ ও আত্মার সমন্বয়ে মানুষের সৃষ্টি। ধর্মনিরপেক্ষতা মানুষের দেহের চাহিদা পূরণের উপর গুরুত্বারোপ করে। কিন্তু আত্মার চাহিদার প্রতি বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ করে না।</li>
<li> পাশ্চাত্যের ঐতিহাসিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এ মতবাদটির উৎপত্তি হয়েছে। আমরা প্রাচ্যবাসীদের নিকট এটি একটি সম্পূর্ণ অপরিচিত অজানা অচেনা চিন্তাধারা বৈ কিছু নয়।</li>
<li> ধর্মনিরপেক্ষতা রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে সম্পূর্ণ আলাদা করে ফেলে। যার ফলে ব্যক্তিতন্ত্র, জাতেভেদ তথা উঁচুনীচু বৈষম্য, বর্ণবৈষম্য, মতবাদভিত্তিক বিভেদ, গোত্রীয় বিভেদ, জাতীয়তাভিত্তিক বিভেদ, দলাদলি, শ্রেণী বৈষম্য ইত্যাদির উন্মেষ ঘটে।</li>
<li> এই মতবাদ নাস্তিকতা, পাশবিকতা, বিচ্ছিন্নতা, দুর্নীতি, প্রজন্মের বিনাশ ইত্যাদির প্রসার ঘটায়।</li>
<li> ধর্মনিরপেক্ষতা আমাদেরকে পাশ্চাত্যের বিবেক দিয়ে চিন্তা করতে বাধ্য করে। যার ফলে আমরা নারীপুরুষের অবাধ মেলামেশাকে নিন্দা করব না। আমরা মুসলিম সমাজের স্বভাব-চরিতকে ভুলুণ্ঠিত করব এবং অনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য সমাজের রুদ্ধদারকে খুলে দেব। ধর্মনিরপেক্ষতা সুদী কারবারের বৈধতা দেয় এবং সিনেমা, নাটক, চলচ্ছিত্র ইত্যাদি শিল্প হিসেবে অতি মর্যাদা দেয়। ধর্মনিরপেক্ষতার ছায়াতলে প্রত্যেক মানুষ অন্যের ক্ষতি করে হলেও নিজের স্বার্থসিদ্ধির প্রয়াস চালায়।</li>
<li> ধর্মনিরপেক্ষতা পাশ্চাত্য সমাজের সমস্যাগুলো আমাদের সমাজে টেনে আনে। যেমন পরকালের হিসাবনিকাশকে অস্বীকার করা। যার ফলশ্রুতিতে মানুষ ধর্মীয় ভাবধারার বিধিনিষেধ থেকে মুক্ত হয়ে জাগতিক রিপু যেমন- লোভলালসা, ব্যক্তিস্বার্থ, অস্তিত্বের লড়াই ইত্যাদি দ্বারা তাড়িত হয়ে জীবন যাপন করে; সেখানে আত্মার বিবেচনা একেবারে শূণ্য।</li>
<li> ধর্মনিরপেক্ষতা বিকাশ ঘটলে জাগতিক জ্ঞানের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়; যে জ্ঞান অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ নির্ভর। গায়েবী বিষয়াবলীকে উপেক্ষা করা হয়। যেমন আল্লাহর উপর ঈমান, পূণরুত্থান, পূণ্য ও পাপ। এর ফলে এমন এক সমাজের উদ্ভব ঘটে যে সমাজের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হচ্ছে- দুনিয়ার ভোগ ও সস্তা সব খেলতামাশা।</li>
</ul>
</li>
<li><b>ধর্মনিরপেক্ষতার প্রসার ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির কেন্দ্রবিন্দু</b><b></b>ধর্মনিরপেক্ষতার উৎপত্তি ইউরোপে। ১৭৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লবের মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষতা রাজনৈতিক অস্তিত্ব অর্জন করে। ঊনবিংশ শতাব্দীতে গোটা ইউরোপ জুড়ে ধর্মনিরপেক্ষতা বিস্তার লাভ করে। বিংশ শতাব্দীতে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও মিশনারীর প্রভাবে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে রাজনীতি ও শাসনকার্যে ধর্মনিরপেক্ষতা ছড়িয়ে পড়ে।</li>
</ul>
<p><b>উপসংহার</b><b></b><br />
পূর্বের আলোচনা থেকে এ কথা পরিস্কার যে &#8211; রাষ্ট্রীয় জীবন ও সামাজিক জীবন থেকে ধর্মকে বহিষ্কার করে জাগতিক জ্ঞান ও বিবেকবুদ্ধির ভিত্তিতে জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার আহবানই- ধর্মনিরপেক্ষতা। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের মতে, ধর্ম মানুষের মনের খাঁচায় বন্দি থাকবে, খুবই সীমাবদ্ধ পরিসরে ধর্মকে প্রকাশ করা যাবে। অথচ যে ব্যক্তি ইসলাম ধর্মের পরিবর্তে ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করে এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে ইসলামী শরিয়তকে আইন হিসেবে গ্রহণ করে না এবং আল্লাহ তাআলা যা কিছু হারাম করেছেন সেগুলোকে সে নিষিদ্ধ করে না- সে মুরতাদ, সে মুসলিম নয়। দলীল-প্রমাণের ভিত্তিতে তার যুক্তি খণ্ডন করা ও তাকে তওবা করার আহ্বান জানানো ওয়াজিব- যেন সে ইসলামে ফিরে আসার সুযোগ পায়। অন্যথায় ইহকালে ও পরকালে তার ব্যাপারে ইসলাম ত্যাগকারী মুরতাদের বিধান প্রযোজ্য হবে।</p>
<p><b>নিম্নোক্ত রেফারেন্সগুলো হতে আরো বিস্তারিত জানুন:</b><b></b></p>
<ul>
<li>জাহিলিয়াতুল কারনিল ইশরিন (বিংশ শতাব্দীর জাহেলিয়াত), লেখক: মুহাম্মদ কুতুব।</li>
<li>আলমুস্তাকবাল লি হাযাদ্বীন (এই দ্বীনের ভবিষৎ), লেখক: সাইয়েদ কুতুব।</li>
<li> তাহাফুতুল ইলমানিয়্যাহ (ধর্মনিরপেক্ষতার অসারতা), লেখক: এমাদুদ্দীন খলিল।</li>
<li>আল ইসলাম ওয়াল হাদারাতুল গারবিয়্যাহ (ইসলাম ও পাশ্চাত্য সভ্যতা), লেখক: মুহাম্মদ মুহাম্মদ হোসাইন</li>
<li> আল-ইলমানিয়্যাহ (ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ), লেখক: সাফার ইবনে আব্দুর রহমান আলহাওয়ালী</li>
<li>তারিখুল জামইয়্যত আসসিরিয়্যাহ ওয়াল হারাকাত আলহাদ্দামাহ (গোপন সংগঠন ও ধ্বংসাত্মক আন্দোলনগুলোর ইতিহাস), লেখক: মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আনান।</li>
<li>আলইসলাম ও মুশকিলাতুল হাদারাহ (ইসলাম ও সভ্যতার দ্বন্ধ), লেখক: সাইয়েদ কুতুব।</li>
<li>আলগা-রাহ আলাল আলাম আল ইসলামী (মুসলিম বিশ্বের উপর হামলা), অনুবাদ: মুহিববুদ্দীন আলখতীব ও মুসাঈদ আলইয়াফী।</li>
<li> আল-ফিকর আল-ইসলামী ফি মুওয়াজাতিল আফকার আলগারবিয়্যাহ (ইসলামী চিন্তাধারা বনাম পাশ্চাত্য চিন্তাধারা), লেখক: মুহাম্মদ আল-মুবারক।</li>
<li> আল-ফিকর আল-ইসলামী আলহাদীস ওয়া সিলাতুহু বিল ইসতিমার আলগারবি (আধুনিক ইসলামী চিন্তাধারা ও পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদের সাথে এর সম্পর্ক), লেখক: মুহাম্মদ আল-বাহী।</li>
<li> আলইসলাম ওয়াল ইলমানিয়া ওয়াজহান বি ওয়াজহ (ইসলাম ও ধর্মনিরপেক্ষতা পরস্পর মুখোমুখি), লেখক: ড. ইউসুফ কারাদাবী।</li>
<li> আলইলমানিয়া: আন্নাশআ ওয়াল আছার ফিশ শারকি ওয়াল গারব (ধর্মনিরপেক্ষতা: উৎপত্তি, প্রাচ্যে ও পাশ্চাত্যে এর প্রভাব), লেখক: যাকারিয়া ফায়েদ।</li>
<li> ওজুবু তাহকিমুস শরিয়া ইসলামিয়া লিল খুরুজে মিন দায়িরাতিল কুফর আলই‘তিকাদি (কুফরী বিশ্বাসের গন্ডি থেকে বেরোবার জন্য ইসলামি শরিয়া মোতাবেক শাসনকার্য পরিচালনার আবশ্যকতা), লেখক: ড. মুহাম্মদ শাত্তা আবু সাদ, কায়রো, ১৪১৩হিঃ</li>
<li> জুযুরুল ইলমানিয়্যাহ (ধর্মনিরপেক্ষতার গোড়ার কথা), লেখক: ড. আসসাইয়েদ আহমাদ ফারাজ, দারুল ওফা, আলমানসুরা, ১৯৯০ খ্রিঃ</li>
<li>  ইলমানি ওয়াল ইলমানিয়া (ধর্মনিরপেক্ষ ও ধর্মনিরপেক্ষতা), লেখক: ড. আসসাইয়েদ আহমাদ ফারাজ, ১৯৮৬ খ্রিঃ</li>
</ul>
<p align="center"><b>সমাপ্ত</b><b></b></p>
</div>
<br />Filed under: <a href='http://bnislam.com/category/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be/'>বাংলা</a> Tagged: <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0/'>কায়সার</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b8/'>কোপার্নিকাস</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%93/'>গ্যালিলিও</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%a7%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%aa%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a6/'>ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%a7%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a6%be/'>ধর্মহীনতা</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a6%a8/'>ফ্রিমেশন</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8b%e0%a6%9c%e0%a6%be/'>স্পিনোজা</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/copernicus/'>Copernicus</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/freemasons/'>Freemasons</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/galileo/'>Galileo</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/holy-communion/'>Holy Communion</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/indulgence/'>Indulgence</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/inquisition/'>Inquisition</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/john-lock/'>John Lock</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/secularism/'>Secularism</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/spinoza/'>Spinoza</a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bnislaam.wordpress.com/2841/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bnislaam.wordpress.com/2841/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bnislam.com&#038;blog=14847374&#038;post=2841&#038;subd=bnislaam&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://bnislam.com/2013/05/04/secularism/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>2</slash:comments>
	
		<media:content url="http://1.gravatar.com/avatar/d9d4481fa439526a301e6cf04e2bdc3b?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">bnislaam</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>মুসলিম উম্মাহর মানসিক বিপর্যয় ঃ কারণ ও প্রতিকার &#8211; ১</title>
		<link>http://bnislam.com/2013/05/02/muslim-ummah-1/</link>
		<comments>http://bnislam.com/2013/05/02/muslim-ummah-1/#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 03 May 2013 02:08:43 +0000</pubDate>
		<dc:creator>bn.islaam</dc:creator>
				<category><![CDATA[বাংলা]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামী বিপ্লব]]></category>
		<category><![CDATA[চরমপন্থী]]></category>
		<category><![CDATA[নতজানুমূলক]]></category>
		<category><![CDATA[পরিবর্তন]]></category>
		<category><![CDATA[বিপ্লব]]></category>
		<category><![CDATA[মানবাধিকার]]></category>
		<category><![CDATA[মানসিক ব্যাধি]]></category>
		<category><![CDATA[মুনাফিক]]></category>
		<category><![CDATA[রুস্তম]]></category>
		<category><![CDATA[সংকোচবোধ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://bnislam.com/?p=2825</guid>
		<description><![CDATA[মুসলিম উম্মাহর মানসিক বিপর্যয়: কারণ ও প্রতিকার, ড. আব্দুল্লাহ আল-খাতিরের একটি কালজয়ী বই। মুলত এটি বৃটেনে প্রদত্ত একটি বক্তৃতা। আজকে মুসলিম উম্মাহর সর্বত্র বিপর্যয়কর অবস্থা। সামরিক, রাজনৈতিক, চিন্তা-চেতনায় ও মানসিক দিক দিয়ে তো অবশ্যই। আসল বিপর্যয় শুরু হয় মানসিক দিক থেকে। অত:পর তা ছড়িয়ে পরে সর্বক্ষেত্রে। গ্রন্থাকার এ বিষয়টি সুন্দরভাবে আলোচনা করেছেন। তিনি একজন মনোবিজ্ঞানী ও ইসলামী চিন্তাবিদ হওয়ার কারণে এর যথাযথ প্রতিকার বিষয়ে আলোচনা করতে প্রয়াস পেয়েছনে এ বইটিতে।  <a href="http://bnislam.com/2013/05/02/muslim-ummah-1/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bnislam.com&#038;blog=14847374&#038;post=2825&#038;subd=bnislaam&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<div style="font-size:14px;text-align:justify;">মূল ঃ ড. আব্দুল্লাহ আল-খাতির<br />
অনুবাদ ঃ মুফতী কিফায়াতুল্লাহ<br />
সম্পাদনা ঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুররহমান</p>
<h3><span style="color:#993300;">ভূমিকা</span></h3>
<p>সকল প্রশংসা সর্ব শক্তিমান মহান আল্লাহ তা’আলার। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাহাবাীগণের উপর। “আল হাযীমাতুন্নাফসিয়্যাহ ইনদাল মুসলিমীন” বা মুসলিম উম্মাহর মানসিক বিপর্যয় বইখানি প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ, আল-মুনতাদা আল ইসলামীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ড. আব্দুল্লাহ খাতির (রহ.) এর দ্বিতীয় পুস্তক। মুলতঃ এটি একটি ভাষন, যা তিনি বৃটেনে প্রদান করেছিলেন।<br />
অতীতে বহু যুগ ধরে লক্ষ্য করা গেছে যে, মুসলিম জাতি চিন্তা-চেতনায়, শক্তি-সামর্থে ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বর্তমান সময়ে এ বিপর্যয় আরও প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। তাই এ বিষয়টির আলোচনা খুবই গুরুত্বের দাবীদার।</p>
<p>আজকের মুসলিম জাতি প্রকাশ্যেই তাদের ধর্ম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয়, তারা মুনাফিকীর জীবন বেছে নিয়েছে। তারা সত্যিকার মুসলিমদের সাথেও নয়, আবার পুরাপুরি ইসলামের শত্র“দের সাথেও নয়, বরং এর মাঝামাঝি একটা পথ ইখতিয়ার করেছে, যার চিন্তা- চেতনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য একেবারে অস্পষ্ট। তারা আজ দ্বীন ইসলামকে পূর্ণ অনুসরণের মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেও কোন অগ্রগতি বা সফলতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। পরিণতিতে শুধু পিছিয়ে পড়েছে। এটাই হল প্রকৃত বিপর্যয়। যে ব্যক্তি নিজের আদর্শকে আঁকড়ে ধরেছে, হোক তা সামাজিক আবহাওয়ার প্রতিকূল, তার আদর্শের পতাকা শত প্রতিবন্ধকতায়ও সমুন্নত রেখেছে। সেই পারে নিজেদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কুরবানী করতে, ত্যাগ স্বীকার করতে।</p>
<p>আর যে ব্যক্তি নিজের আদর্শে অটল নয়, সামাজিক আবহাওয়ায় যার আদর্শ বারবার বদলে যায় সে কিছুই করতে পারেনা। পারে শুধু নিজের সাথে প্রতারণা করতে। এটাও মানসিক বিপর্যয়। মহান রাব্বুল আলামীন যেন এদের সম্পর্কেই বলেছেন ঃ</p>
<blockquote style="font-weight:bold;background-color:#fcf4d8;border-top:1px solid #003399;border-bottom:1px solid #003399;padding:7px;"><p><img alt="" src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif?w=593" />এমন কিছু মানুষ আছে যারা বলে, আমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস স্থাপন করেছি, অথচ তারা বিশ্বাস স্থাপন করেনি। তারা আল্লাহ ও ঈমানদারদের ধোকা দিতে চায়। তারা শুধু নিজেদেরই প্রতারিত করে। কিন্তু তারা তা অনুধাবন করে না। তাদের অন্তরে রয়েছে ব্যাধি। আল্লাহ তাদের ব্যাধি বৃদ্ধি করে দেন। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি। কারণ তারা মিথ্যাচারে লিপ্ত। (সুরা- আলবাকারা : ৮-১০)</p></blockquote>
<p>যারা এ রকম দোটানায় ভোগে তারা কোন ভাল পন্থা বেছে নিতে সক্ষম হয় না। তাই তারা একটা বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্তহীনতার জীবন যাপন করে। কারণ তাদের কাছে থাকে না সত্যের মাপকাঠি, যার মাধ্যমে সবকিছুকে সুসংগঠিত করতে পারে। আর এটাই হচ্ছে জীবন পরিচালনায় উত্তম পন্থা নির্ধারণে প্রথম সিদ্ধান্ত। অতএব মুনাফিক, আরামপ্রিয় ও প্রতারকরা এমনভাবে কাজ করে যাতে তাদের সঠিক পরিচয় ফুটে না উঠে এবং যাতে তারা ঝামেলামুক্ত জীবন যাপন করতে পারে, যদিও তাতে ক্ষতিপূরণ ও যথেষ্ট মূল্য দিতে হোক না কেন। তাদের মান সম্মান ও মানবাধিকার ছিনিয়ে নেয়া হোক না কেন, তারপরও তারা ভোগ বিলাসিতায় ব্যস্ত থাকতে চায়। অতএব কোথায় তাদের জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত ও উত্তম পন্থা? ফলে তারা কখনো সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে অগ্রসর হতে পারে না। পারে না দৃঢ় পরিকল্পনা গ্রহণ করতে কিংবা প্রস্তুতি নিতে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন ঃ</p>
<blockquote style="font-weight:bold;background-color:#fcf4d8;border-top:1px solid #003399;border-bottom:1px solid #003399;padding:7px;"><p><img alt="" src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif?w=593" /> “আর যদি তারা বের হবার সংকল্প নিত তাহলে অবশ্যই কিছু সরঞ্জাম প্রস্তুত করত। কিন্তু তাদের উত্থান আল্লাহর পছন্দ নয়। তাই তাদের নিবৃত্ত রাখলেন এবং বলা হল, বসা থাকা লোকদের সাথে তোমরা বসে থাক। (সূরা তাওবা : ৪৬)</p></blockquote>
<p>তাদের আর একটি খাছলত হল, তারা ইসলামের নামে নিজেদের নামকরণ করতে চায়। তাদের পরিচয় বহন করে নিজেদের মুসলিম হিসাবে জাহির করে। আর এগুলো করে নিজেদের স্বার্থের জন্য। একই সময় তারা মনের পাশবিক চাহিদা মিটায় এবং জুলুম-অত্যাচার ও দুর্নীতিগ্রস্ত জীবন পদ্ধতি অবলম্বন করে। ফলে তারা কোন সংকট সংঘর্ষের মুখোমুখী হবার সাহস ও সামর্থ হারিয়ে ফেলে। তখন তারা সঠিক পথ গ্রহণ করবে নাকি ভ্রান্ত পথ, এ নিয়ে মতদ্বৈততায় ভোগে। এটাও একটি মানসিক বিপর্যয়। আল্লাহ তা’আলা বলেন ঃ</p>
<blockquote style="font-weight:bold;background-color:#fcf4d8;border-top:1px solid #003399;border-bottom:1px solid #003399;padding:7px;"><p><img alt="" src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif?w=593" /> “যখন তারা মু’মিনদের সাথে মিলিত হয় তখন বলে, আমরা ঈমান এনেছি, আর যখন তারা নিভৃতে তাদের দলপতি ও দুষ্ট নেতাদের সাথে মিলিত হয় তখন বলে, আমরা তোমাদের সাথেই আছি, আমরা তো শুধু ঠাট্টা বিদ্রুপ ও প্রহসন করে থাকি।” (সূরা বাকারা : ২:১৪ আয়াত)</p></blockquote>
<p>আসলে এ ধরণের লোকেরা সবচেয়ে বেশী মানসিক বিপর্যয়ে ভোগে। আর এরাই যে কোন বিপদ-সংকটের মুখোমুখী হতে ভয় পায়। তারা আরও ভয় পায় সেগুলো অবলোকন করতে, স্বীকার করতে, ভূমিকা নিতে এবং সুসংগঠিত করতে। এটি হচ্ছে আর একটি মানসিক বিপর্যয়। আল্লাহ তাআলা বলেন ঃ</p>
<blockquote style="font-weight:bold;background-color:#fcf4d8;border-top:1px solid #003399;border-bottom:1px solid #003399;padding:7px;"><p><img alt="" src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif?w=593" />“আর যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর তাহলে তারা বলবে, আমরা তো শুধু আলাপ-আলোচনা ও হাসি তামাশা করছিলাম। তুমি বলে দাও ঃ তাহলে কি তোমরা আল্লাহ, তাঁর আয়াতসমূহ এবং তাঁর রাসূলের প্রতি হাসি তামাশা করছ? (সূরা তাওবা : ৬৫)</p></blockquote>
<p>লোকদের মাঝে সবচেয়ে বেশী মানসিক বিপর্যস্ত ঐ ব্যক্তি যে কোন উদ্দেশ্য ছাড়া কাজ করে, কোন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পিত লক্ষ্য ছাড়া চেষ্টা করে। তবে ঐ ব্যাপক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে কোন শিক্ষনীয় নেই যা পরিশ্রমী ও অপরিশ্রমী এবং মুজাহিদ ও অমুজাহিদরা সমানভাবে করে থাকে। বরং ঐসব লক্ষ্য ও উদ্দেশের মাধ্যমে শিক্ষনীয় রয়েছে যা এতদুভয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। অতএব যারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে এবং যারা বসে থাকে তাদের সকলের যদিও উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তাঁর ইবাদত করা, কিন্তু মুজাহিদগণ তাদের জিহাদের মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে, দীন সম্পূর্ভভাবে আল্লাহর, যাতে কোন ফিতনা থাকবে না। ঐ ব্যক্তির চেয়ে অধিক বিপর্যয় আর হতে পারে না যে ব্যক্তি কাজ করে ও জিহাদ করে- কিন্তু তা এজন্য নয় যে, দীন সম্পূর্ণই আল্লাহর জন্য হোক, বরং দীনকে ধ্বংস করার জন্য এবং ফিতনা সৃষ্টির জন্য। আর এটাই সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে নস্যাৎ করে দেয়, যার কারণে সে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেনা এবং উৎকৃষ্ট পন্থা নির্ণয় করতে সক্ষম নয়। এবং সে সংকটের মুখোমুখি হতে অক্ষম। অতএব এমন ব্যক্তির চেয়ে কঠিন মানসিক বিপর্যয়পূর্ণ আর কাউকে পাবেনা।<br />
আজকের এ সময়ে এ ধরণের মানসিক বিপর্যয়ের শিকার মুসলিম উম্মাহ। আর এ সকল বিপর্যয় কাটিয়ে উঠার দিক নির্দেশনা দেয়ার চেষ্টা করেছেন ড. আব্দুল্লাহ খাতির।</p>
<p>আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, আল্লাহ তাকে তার এ মহান প্রচেষ্টার পুরস্কার দান করুন। আমাদের সকলকে এর দ্বারা উপকৃত হওয়ার তাওফীক দান কারুন। তিনিই তো সর্বশ্রোতা ও প্রার্থনা কবুলকারী। সালাত ও সালাম আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণের প্রতি নাযিল হোক।</p>
<p>ড. আব্দুর রায্যাক মাহমূদ ইয়াসীন আল হামদ<br />
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মেডিকেল বিভাগ<br />
বাদশহ সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়,<br />
রিয়া, সৌদী আরব।<br />
তাং-১২-১০-১৪১১ হিজরী।</p>
<p style="text-align:center;">বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম</p>
<p style="text-align:left;">আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ</p>
<p>অদ্যকার এ মহতী সম্মেলনে হাজির হয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দ উপলব্ধি করছি। কারণ এ সম্মেলন উপলক্ষে আমি সাক্ষাত পেয়েছি তারুণ্যদীপ্ত এমন এক যুব সম্প্রদায়ের, যারা ধর্মীয় চেতনায় উজ্জীবিত। যাদের আকাংখা সীমাহীন, উৎসাহ ক্লান্তিহীন এবং অফুরন্ত যাদের প্রাণ-চাঞ্চল্য।</p>
<p>অতএব আমি বলব, আজকের এ সম্মেলন ঐ সকল তরুণদের জন্য, যারা বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ তা’আলা কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের আমলের পরিবর্তন করে। এ সম্মেলন সে সব তরুণদের জন্য, যারা সব সময় ইসলামের ভবিষ্যত নিয়ে আশাবাদী, হতাশাবাদীদের হতাশা যাদের কখনো নিরাশ করে না।</p>
</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">আজকের এ সম্মেলন এমন এক যুব সম্প্রদায়ের জন্য, যারা একটি পরিবর্তন ও সফল বিপ্লবের প্রত্যাশা করে। যদিও এ ক্ষেত্রে তারা এমন এক প্রবীন সম্প্রদায়ের বাধার সম্মুখীন হয়, যারা নিজেদের অলসতা, পশ্চাৎপদতা, পরাজয় বরণকে কৌশল তথা বিচক্ষনতা, দূরদর্শীতা ও বুদ্ধিমত্তার কাজ বলে বৈধতা দানের প্রয়াস চালায়। তারা নিজেরা তো পরাজয় বরণ করেই নিয়েছে, এখন অন্যদের ললাটেও পরাজয়ের কালিমা লেপনের চেষ্টায় লিপ্ত।<br />
আজকের সম্মেলন তাদের জন্য, যারা জানে যে, হাজার মাইলের পথ-পরিক্রমণও প্রথমতঃ এক পা দিয়েই শুরু হয়।</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">অদ্যকার এ সম্মেলনের আলোচ্য বিষয় রাখা হয়েছে “মুসলিম উম্মাহর মানসিক বিপর্যয় ও তার প্রতিকার”। আমার মতে বাক্যটিকে এত ব্যাপকভাবে না বলে এভাবে বলা উচিত “অধিকাংশ মুসলিমের মানসিক বিপর্যয়&#8230;। সকল মুসলিমের উপর মানসিক বিপর্যয়ের দোষ চাপিয়ে দেয়াকে আমি সমীচীন মনে করি না। কারণ, হাদীসের ভাষ্য মতে উম্মাতে মুহাম্মদী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি বিশেষ জামাআত সর্বদা হক্বের উপর অটল থাকবে। বিপক্ষ শক্তি তাদের কোন প্রকার ক্ষতি করতে পারবে না। এতে বুঝা যায়, এ দলটি কখনো মানসিক বিপর্যয়ের শিকার হবে না।</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">আমি এখানে আপনাদেরকে হতাশ করে দিতে উপাস্থিত হইনি যে, শুধুমাত্র দুর্দশাগ্রস্ত মুসলিমদের দুরবস্থা নিয়ে আলোচনা করেই ক্ষান্ত হব, বরং একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ও মুসলিমদের বর্তমান বিপর্যস্ত অবস্থার একজন প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে মানসিক ব্যাধিগুলো চিহ্ণিত করে তার প্রতিবিধান সম্পর্কে কিছু আলোচনা করব। আর এজন্যই আমি এখানে উপস্থি হয়েছি।</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">
<p>এই যে একটি ব্যাধি-যে ব্যাধিতে আজ অধিকাংশ মুসলিম আক্রান্ত এর যেমন কিছু লক্ষণ ও কারণ রয়েছে তেমনি রয়েছে তার প্রতিকার ব্যবস্থা। আমি আল্লাহর দরবারে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমাকে পাশ্চাত্যের পদ্ধতি বর্জন করে পবিত্র কুরআন ও হাদীসের আলোকে এ ব্যাধির লক্ষণ ও কারণ চিহ্ণিত করতঃ তার সুষ্ঠু চিকিৎসার সঠিক দিক নির্দেশনা দেয়ার তাওফীক দান করেন। আমীন!!প্রথম পরিচ্ছেদ</p>
<h3><span style="color:#993300;">মানসিক বিপর্যয়ের লক্ষণসমূহ</span></h3>
<h3><span style="color:#008000;">প্রথম লক্ষণ ঃ মুসলিম উম্মাহর পুনর্জাগরণের সম্ভাবনা নিয়ে হতাশা</span></h3>
<p>আজ অনেক মুসলিমই এতে আক্রান্ত। এদের যে কারো সাথে মুসলিমদের বর্তমান দুরবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করলে বুঝা যায়, তারা মুসলিমদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন, ভাবছেন এ দুরবস্থা হতে মুসলিমদের মুক্তির কোন উপায় নেই। অধিকন্তু তারা এর সাথে সামঞ্জস্যশীল দু’ একটি বাগধারা বা উদাহরণ পেশ করে তা প্রমাণের ব্যর্থ চেষ্টা করেন। যেমন তারা বলেন, মুসলিমদের এ অবস্থার পরিবর্তনের প্রচেষ্টা নিছক ‘অরণ্যে রোদন’ ছাড়া কিছুই নয়। কেউ আবার বলেন, এ প্রচেষ্টা ফুটো বেলুনে ফুঁক দেয়ার মতই। ফুটো বেলুনে ফুঁক দিয়ে যেমন কোন ফায়দা নেই, তেমনি মুসলিমদের বিরাজমান অবস্থার পরিবর্তনের চেষ্টা করেও কোন লাভ নেই। কতিপয় মুসলিমের এ ধরনের উক্তি উদ্যমীদেরকে হতাশ করে দেয়। যারা একটি বিপ্লবের প্রত্যাশা করে, যারা অন্যায়ের প্রতিরোধ করতে চায়, তাদেরকে নৈরাশ্যের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত করে।<br />
উপরোক্ত মনোভাব যাদের মাঝেই রয়েছে, বুঝতে হবে তারা নিশ্চিতভাবে মানসিক বিপর্যয়ের শিকার। এদের অনেকের সাথে আমার সাক্ষাত হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেক শিক্ষার্থী এবং বড় আলেমও রয়েছেন। আপনি তাদের কাউকে যদি জিজ্ঞেস করেন, ধর্মজ্ঞানহীন বা ধর্ম-বিমুখ মুসলিমদের দ্বীনি শিক্ষার কোন ব্যবস্থা করছেন না কেন? উত্তরে তিনি এ বলে দায়িত্ব এড়াতে চেষ্টা করবেন যে, কে আছে তোমার পাশে? কে তোমার নছিহত গ্রহণ করবে? কেউতো তোমার কথা শুনতে আগ্রহী নয়। বস্তুতঃ এ ধরনের ব্যক্তি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং পতনের দ্বার প্রান্তে উপনীত। তাই তারা এধরনের উক্তি করে থাকে।<br />
মুসলিম শরীফে বর্ণিত একটি হাদীসে রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই হীনমানসিকতার একটি সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করে বলেছেন ঃ</p>
<blockquote style="font-weight:bold;background-color:#fcf4d8;border-top:1px solid #003399;border-bottom:1px solid #003399;padding:7px;"><p><img alt="" src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif?w=593" />যখন কোন ব্যক্তি বলে যে, মানুষ সব ধ্বংস হয়ে গেছে, তাহলে বুঝতে হবে মূলতঃ সেই তাদেরকে ধ্বংসে নিপতিত করল। অন্য বর্ণনা মতে, সে’ই মুলতঃ ধ্বংসে নিপতিত (মুসলিম : ২/৩২৯)</p></blockquote>
<p>প্রথম বর্ণনায় أهلكهم  বা “সেই তাদেরকে ধ্বংসে নিপতিত করল”- এর ব্যাখ্যা হলো, “সবাই ধ্বংস হয়ে গেছে” বলার দ্বারাই যেন সে তাদেরকে ধ্বংসে নিপতিত করল। কারণ সবাই তো আর এমনটি নয়। আত্মপ্রত্যয়ী, সত্যনিষ্ঠ ও সৎ সাহসী লোক পৃথিবীতে সর্বদাই বিদ্যমান থাকে। কিন্তু হতাশাগ্রস্তদের এ ধরণের উক্তি আশাবাদীদের উৎসাহ, উদ্দীপনায় ভাটার সৃষ্টি করে।</p>
</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">আর দ্বিতীয় বর্ণনা মতে أهلكهم  বা “সে’ই ধ্বংসে নিপতিত” এর ব্যাখ্যা হলো, কোন ব্যক্তি যখন মনে করবে যে, মানুষ সব ধ্বংস হয়ে গেছে, সবাই ভ্রষ্ট হয়ে গেছে, এখন তাদের পরিশুদ্ধির কোন পথ নেই, এদের উদ্ধারে মেহনত করা ও শ্রম দেয়া একেবারেই বৃথা, তাহলে বুঝতে হবে সে নিজেই ভ্রান্তিতে নিপতিত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।<br />
বর্ণিত হাদীসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা এ ধরনের বিপর্যস্ত ও হতাশাগ্রস্ত মানসিকতার স্বরূপ উন্মোচিত করে দিয়েছে। এই হীনমানসিকতা আজ বহু মুসলিমকে গ্রাস করে নিয়েছে। ‘লোকে শুনবে না’ এ দোহাই দিয়ে দিয়ে তারা অন্যায়ের প্রতিরোধ এবং আল্লাহর পথে দাওয়াতের কাজ থেকে গা বাঁচিয়ে চলে। ফলে তারা হীনমন্যতায় ভোগে এবং সর্বদা হতাশায় নিমজ্জিত থাকে। পরিণতিতে তারা দ্বীনের প্রচার-প্রসার এবং আমর বিল মারূফ ও নাহি আনিল মুনকার বা সত্য প্রতিষ্ঠা ও অন্যায় প্রতিরোধের মহা দায়িত্ব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে।</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;"></div>
<h3 style="font-size:14px;text-align:justify;"><span style="color:#008000;">দ্বিতীয় লক্ষণ ঃ বিপর্যন্ত অবস্থার উপর আত্মসন্তোষ</span></h3>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">আপনি এক শ্রেণীর লোকদের দেখবেন, যারা জ্ঞানে গুনে ও সৎকর্ম সম্পাদনে নিজেদের চেয়ে নিম্ন স্তরের লোকদের প্রতি বেশী লক্ষ্য করে। অথচ এসব বিষয়ে সব সময় নিজেদের চেয়ে অগ্রগামীদের প্রতিই লক্ষ্য করা উচিত। কিন্তু তারা তা না করে নিজেদের অবস্থার উপর পরিতুষ্ট থেকে আত্মপ্রসাদ লাভ করে থাকে। দ্বীনের ক্ষেত্রে সীমাহীন দূরাবস্থায় থাকা সত্ত্বেও নিজেদের সাফাই গেয়ে এই বলে নির্দোষ হতে চায়, আরে! আমরাতো অনেকের চেয়ে ভালই আছি। এগিয়ে আছি।</div>
<h3 style="font-size:14px;text-align:justify;"><span style="color:#008000;">তৃতীয় লক্ষণ ঃ সৃজনশীল মানসিকতা বর্জন ও পরনির্ভরশীল জীবন যাপন</span></h3>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">মুসলিমদের একটি বিরাট অংশ আবিস্কার, উদ্ভাবনের ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন। তারাও যে আবিস্কারক ও উদ্ভাবক হতে পারে এবং বিজ্ঞান প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হতে পারে, তা যেন তারা কল্পনাও করে না। ফলে তাদেরকে সর্বদা অন্যের করুণা নির্ভর হয়েই থাকতে হয়। বহু মুসলিম দেশ আজ এ রোগে আক্রান্ত। তারা তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় সাধারণ জিনিসটি পর্যন্ত নিজেরা তৈরী করতে পারে না। সবকিছুই তারা অন্যদেশ থেকে আমদানী করে থাকে। ফলে এসব দেশকে সব সময় অন্যদের মুখাপেক্ষী হয়েই থাকতে হয়। বস্তুত ঃ এটাও এক ধরণের মানসিক দূর্বলতা এবং নিজেদের শক্তির বিপুল ভান্ডার সম্পর্কে অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ।</div>
<h3 style="font-size:14px;text-align:justify;"><span style="color:#008000;">চতুর্থ লক্ষণ ঃ বিজাতীয় সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত হওয়া</span></h3>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">এই লক্ষণটি এক শ্রেণীর মুসলিমদের মাঝে পরিলক্ষিত হয়, যারা পাশ্চাত্য বা প্রাচ্যের বিভিন্ন অমুসলিম দেশে লেখা-পড়া করতে যায় এবং সে সব দেশের শিক্ষা- সংস্কৃতির ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিকের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করে। বিজাতীয় সভ্যতায় প্রভাবিত হওয়াটাই ঐ লোকগুলোর বিপর্যন্ত মানসিকতার প্রমাণ বহন করে। কারণ, তারা ভাল মন্দের মাঝে পার্থক্য নির্ণয় করতে পারেনি। বিজাতিদের জাগতিক জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং তাদের তথাকথিত সভ্যতার মাঝে পার্থক্য নিরূপণে তারা অক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। ফলে পাশ্চাত্যের ইতিবাচক ও নেতিবাচক সব কিছুই তারা গ্রহণ করে স্বদেশে আমদানী করে।<br />
বস্তুত ঃ পাশ্চাত্য জগত যান্ত্রিক দিক দিয়ে উৎকর্ষ সাধন করলেও নৈতিকতা ও মানবিকতার ক্ষেত্রে তারা একেবারেই পিছিয়ে। তাদের উন্নতি ও অগ্রগতির যে চিত্র আমরা অবলোকন করছি, তা নিতান্তই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর।</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">কিন্তু যদি তাদের মানবিকতা ও নৈতিকতা নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করা হয় এবং তাদের কৃষ্টি-কালচার, রীতি-নীতি ও সার্বিক জীবন প্রণালীর প্রতি গভীর দৃষ্টিপাত করা হয় তাহলে দেখা যাবে যে, এক্ষেত্রে তারা অত্যন্ত শোচনীয় পর্যায়ে রয়েছে।</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;"></div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">এক কথায় বিজাতিদের উন্নতি ও অগ্রগতি কেবল যান্ত্রিক সভ্যতার, মানবিক সভ্যতার নয়। পক্ষান্তরে আমাদের রয়েছে একটি পরিপূর্ণ দ্বীন, যার আদলে জীবন গড়ার মাধ্যমে আমরা মানবিক ও নৈতিক উৎকর্ষ সাধন করতে পারি। এ ব্যাপারে আমরা কারো মুখাপেক্ষী নই। হ্যাঁ, প্রয়োজনে যান্ত্রিক বিষয়ের জ্ঞান তাদের কাছ থেকে নিয়ে তা আল্লাহর আনুগত্যের কাজে ব্যবহার করতে পারি।</div>
<h3 style="font-size:14px;text-align:justify;"><span style="color:#008000;">পঞ্চম লক্ষণ ঃ নতজানুমূলক নীতি গ্রহণ</span></h3>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রসহ প্রায় সব ক্ষেত্রে আজ মুসলিমদের আত্মসমর্পনমূলক মনোভাব লক্ষ্য করা যায় যা মানসিক বিপর্যয়ের একটি বিশেষ লক্ষণ। ফলে দেখা যায় যে, কোন চুক্তি বা সন্ধির ক্ষেত্রে মুসলিম নেতৃবৃন্দ নতজানুমূলক চুক্তি অথবা প্রাপ্যের অর্ধাংশ বা কিয়দাংশের উপরও চুক্তি করতে লজ্জাবোধ করে না। যেমন মুসলিম নেতৃবৃন্দের অনেকেই বলে থাকে যে, ‘ইসরাইল রাষ্ট্র এখন বাস্তব সত্য। তাদের সাথে এখন আমাদের মিলে মিশেই থাকা উচিত।’</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">বস্তুত ঃ তারা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ার কারণে শত্র“র উপর প্রাধান্য বিস্তারের সৎ সাহস হারিয়ে ফেলেছে। এ কারণে তারা এ ধরণের মনোবৃত্তি পোষণ করে থাকে। অথচ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন ঃ</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;"></div>
<blockquote style="font-weight:bold;background-color:#fcf4d8;border-top:1px solid #003399;border-bottom:1px solid #003399;padding:7px;"><p><img alt="" src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif?w=593" /> “তোমরা হীবনল হয়োনা, চিন্তা করোনা। তোমরাই জয়ী হবে যদি তোমরা মু’মিন হও।” (আলে ইমরান : ১৩৯)</p></blockquote>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">প্রকৃত মু’মিন হয়ে জয়ী হওয়ার ঐতিহ্য ও বৈশিষ্ট্য তারা আজ হারিয়ে ফেলেছে। এ কারণেই ফিলিস্তিন প্রেক্ষাপটে লজ্জাজনকভাবে পরাজিত হওয়া সত্ত্বেও তারা সন্তুষ্ট চিত্তে তা বরণ করে নিয়েছে। অথচ তাদের কর্তব্য ছিল ফিলিস্তিনকে ইহুদীদের কবল থেকে মুক্ত করার নিমিত্তে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে আবার আক্রমণ করা এবং তাদের যাবতীয় ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে পুনঃ পুনঃ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">আরও দুঃখজনক বিষয় হল, কতিপয় ওলামায়ে কেরামের বিভিন্ন বক্তব্য ও বিবৃতিতে উক্ত বিষয়ের প্রতি নীরব সমর্থন লক্ষ্য করা যায়। তারা এই দুরবস্থার পরিবর্তনের দিক-নির্দেশনা দেয়ার পরিবর্তে সাফাইমূলক বক্তব্য প্রদান করে থাকেন। এটাও বিপর্যস্ত ও দুর্বল মানসিকতার পরিচায়ক।</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;"></div>
<h3 style="font-size:14px;text-align:justify;"><span style="color:#008000;">ষষ্ট লক্ষণ ঃ ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশে সংকোচবোধ</span></h3>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">এই লক্ষণটি মুসলিম যুব সমাজের মাঝে বেশী দেখা যায়। তাদের মধ্যে এই প্রবণতা এতই বেশী যে, তারা হালালকে হালাল, আর হারামকে হারাম বলতেও সংকোচবোধ করে। বিশেষ করে যখন তারা কোন অমুসলিমের মুখোমুখি হয়,আর তাকে কোন হারাম জিনিস অফার করা হয়, কিংবা কোন হারাম কাজের প্রতি আহ্বান করা হয় তখন তা <strong>‘নো, থ্যাংকস’</strong> অথবা এ জাতীয় কিছু বলেই ক্ষান্ত হয়। তারা তাদের ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ করে এ কথা বলতে নারাজ যে, <em>‘আমি মুসলিম, আমার ধর্মে এটা হারাম ও গর্হিত কাজ।’</em></div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">আবার অনেকে এমনও রয়েছে, যারা তাদের ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ করতে ভয় পায় এই আশংকায় যে, তাকে ‘গোড়া’ ‘সাম্প্রদায়িক’ ‘চরমপন্থী’ ‘মৌলবাদী’ (Fundamentalist) প্রভৃতি বলে কটাক্ষ করা হবে। এ পর্যুদস্ত মানসিকতা আরও স্পষ্ট রূপে ধরা পড়ে কতিপয় মুসলিমের পোশাক-পরিচ্ছদে। তারা যখন কোন অমুসলিম রাষ্ট্র সফর করে তখন তারা ইসলামের পরিচয়বহী পোশাক পরিত্যাগ করে বিজাতীয় বেশ-ভূষা অবলম্বন করে। এমন কি তারা খৃষ্টানদের জাতীয়তার প্রতীক ‘টাই’ ব্যবহার করতেও দ্বিধাবোধ করে না। এরা বিজাতিদের সব কিছু অবলীলায় গ্রহণ করতে যেন আনন্দ বোধ করে। পশ্চিমাদের মন জয় করতে এরা সর্বক্ষেত্রে তাদের রীতি-নীতি গ্রহণ করে “নব্য ইউরোপিয়ান” সাজতে চায়। ইসলাম অনুমোদিত পোশাক-পরিচ্ছদ ও তাহযীব-তামদ্দুনের প্রতি এদের কোন আকর্ষণ নেই। এ জন্য এরা নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রেখে ইসলামী শিক্ষা-সংস্কৃতি মোতাবেক জীবন যাপন করাকে অপমানকর মনে করে। এটা তাদের দুর্বল মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">পক্ষান্তরে যারা উত্তরাধিকার সূত্রে মুসলিম নয়, বরং অন্য ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেছে, নতুন ও তার হুকুম আহকাম, শরয়ী অনুশাসন পালনে তাদের নিষ্ঠা এবং ইসলামী কৃষ্টি-কালচারের প্রতি আকর্ষণ রীতিমত বিস্ময়কর।<br />
একজন ইংরেজ নব-মুসলিমের ঘটনাই শুনুন, যিনি ইসলামী পরিচয় প্রকাশে মোটেও কুন্ঠিত হননি, বরং ইসলামী পরিচয় প্রকাশ করাকে তিনি গর্বের বিষয় মনে করেছিলেন।</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">তিনি ইসলাম গ্রহণের তিন সপ্তাহ পর অন্য এক শহরে চাকুরীর সন্ধান পেয়ে সেখানে যাওয়ার জন্য মনস্থ করলেন। এদিকে স্থানীয় একটি ইসলামী যুব কল্যাণ সংস্থার লোকজন তার সাথে সাক্ষাৎ করে পরামর্শ দিতে চেয়েছিল যে, তিনি যেন ইন্টারভিউ কালে ইসলাম গ্রহণের কথা কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকাশ না করেন, যাতে বিষয়টি চাকুরীতে অমনোনীত হওয়ার কারণ হয়ে না দাঁড়ায়। কারণ তারা আশংকা করছিল যে, ইসলাম গ্রহণের কারণে চাকুরীতে অমনোনীত হলে তিনি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে নতুন ধর্ম ত্যাগ করতে পারেন। কিন্তু তারা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে পারেনি। ততক্ষণে তিনি ইন্টারভিউ দিতে চলে গেছেন।</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">সেখানে তিনি আরো অনেক অমুসলিম লোকের দেখা পেলেন, যারা একই পদে চাকুরী প্রার্থী। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যখন তার ইন্টারভিউ শুরু হল, তিনি কর্মকর্তাদের বলে দিলেন ঃ আমি স্বধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম হয়েছি, পূর্বে আমার নাম ছিল ‘রোড’ আর বর্তমান নাম হল ‘উমার’। তিনি আরো বললেন, “আমি যেহেতু ইসলাম গ্রহণ করেছি সেহতেু আমাকে এই পদের জন্য মনোনীত করা হলে অবশ্যই নামাযের সময় দিতে হবে।”</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">উক্ত নব-মুসলিম যুবকের ইসলামী পরিচয় প্রকাশ চাকুরীর পথে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিতো করেইনি, বরং তা চুকুরীর জন্য সহায়ক হয়েছে। কারণ, কর্মকর্তারা তাকে তৎক্ষণাৎ উক্ত পদের জন্য মনোনীত করেন। সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, কর্মকর্তারা এই যুবকের ধর্মান্তরিত হওয়ার সংবাদে কোন প্রকার বিরূপ প্রতিক্রিয়া তো দেখায়নি, উপরন্তু তার এ সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে বলল, <em>“আমরা এই পদের জন্য এমনই একজন ব্যক্তির সন্ধান করছিলাম, যিনি সকল প্রতিকূলতা ডিঙ্গিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অসাধারণ ক্ষমতা রাখেন। আর আপনার মাঝে আমাদের প্রত্যাশিত গুণটি পাওয়া গেল। কারণ আপনি চরম বৈরী পরিবেশে থেকেও স্বধর্ম ত্যাগ ও নাম পরিবর্তনের মত একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে ব্যতিক্রমধর্মী সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়েছেন, আপনাকে ধন্যবাদ।”</em></div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">এই নব-মুসলিম তার ইসলামী পরিচয় প্রকাশ করেছে স্বগর্বে। কারণ তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন সামাজিক সেই সব সংকীর্ণতা বর্জন করে, যা আমাদের মাঝে বিদ্যমান। আমরা সে সব আল্লাহদ্রোহী ও হীনমন্য মুসলিমদের জন্য হিসাব কষি, যারা নিজেদের জীবনে ইসলামী বিধি-বিধান বাস্তবায়ন করতে চায় না। আমরা তাদের সাথে মাঝামাঝি ধরনের একটি সমঝোতায়ও আসতে চেষ্টা করি যেন তারা বুঝতে না পারে যে, দ্বীনের ব্যাপারে আমরা আপোষহীন এবং নামায রোযার প্রতি যত্নশীল।</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">বস্তুতঃ মানসিক পরাজয়টা এখান থেকেই সৃষ্টি হয়, যা মানুষের পরিচয় ও স্বকীয় বৈশিষ্ট্যকে স্বগর্বে প্রকাশ করতে বাধা দেয়। যারা নতুন করে মুসলিম হয়, তারা পারিপার্শ্বিক কোন চাপ ছাড়াই দ্বীনের সাথে সংশ্লিষ্ট সবকিছুকেই মনে প্রাণে গ্রহণ করে নেয় এবং তা মযবুতভাবে আঁকড়ে ধরতে সচেষ্ট হয়। ফলে তারা যে কোন প্রতিকুল পরিবেশে নিঃসংকোচে স্বীকার করেঃ <em>“আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি, আর এটা আমার ইসলামী পোশাক, সুতরাং তা পরিধান করতে আপত্তি কিসের?”</em></div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">আপনি লক্ষ্য করলে দেখবেন যে, তারা যে কোন স্থানে ইসলামী পোশাক পরিধান করে থাকেন এবং এসব পোশাক পরিধান করতে গর্ববোধ করেন। ধর্মীয় বিধানের প্রতি তাদের এই আগ্রহবোধ থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, তারা পুরোপুরি দ্বীন মেনে চলতে এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পূর্ণ দ্বীন বাস্তবায়ন করতে বদ্ধপরিকর। দৃষ্টান্ত স্বরূপ এখানে সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) গণের অসংখ্য বিস্ময়কর কাহিনী থেকে একটি কাহিনী বর্ণনা করব, যা আমাদের অন্তঃচক্ষু খুলে দিবে।</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">ঘটনাটি ঘটেছিল পারস্যের সাথে মুসলিমদের যুদ্ধ চলাকালে। এ যুদ্ধে পারস্যের সেনাপতি ছিল রুস্তম, আর মুসলিমদের সেনাপতি ছিলেন সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাঃ)। মুসলিম বাহিনী যখন পারস্য সীমান্তের নিকটবর্তী হলো, তখন রুস্তম দূত মারফত মুসলিমদের আগমনের কারণ জানতে চাইল। জবাবে সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) একটি প্রতিনিধি দল প্রেরণ করলেন। এ দলের প্রধান ছিলেন রিবয়ী ইবনে আমের (রা.) প্রতিনিধি দল রুস্তমের সভাকক্ষে পৌছলে রুস্তম তাদেরকে জিজ্ঞেস করলো, তোমাদের আগমনের উদ্দেশ্য কি?</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">রিবযী ইবনে আমের (রা.) বললেন, আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে পাঠিয়েছেন মানুষকে মানুষের গোলামী থেকে বের করে আল্লাহর গোলামীর পথ দেখাতে, এবং দুনিয়ার সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত করে তাঁর প্রশস্ততার দিকে নিয়ে যেতে। এ কথা শুনে রুস্তমের মনোজগতে এক আলোড়ন সৃষ্টি হল। সে মনে মনে ভাবতে লাগলো, কি দুর্ভাগ্য আমার! এই বিশাল সেনাবাহিনী যাতে কেবল গায়িকা আর বাবুর্চিই রয়েছে হাজার হাজার, অথচ এই লোকের (রিবযী ইবনে আমেরের) মত দৃঢ় মনোবল সম্পন্ন একজন লোকও নেই।</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;"></div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">রিবয়ী (রা.) এসেছেন একটি অখ্যাত দ্বীপ থেকে যাদেরকে বলা হয় মরুবাসী বেদুঈন। রুস্তমের সম্পদের জৌলুস ও নাগরিক সভ্যতার তুলনায় যাদের কোন সভ্যতাই নেই। এতদসত্ত্বেও রিবয়ী (রা.) রুস্তমকে বলেছেন, ‘পার্থিব জীবনের সংকীর্ণতা থেকে প্রশস্ততা’র দিকে নিয়ে যাওয়ার কথা। রিবয়ী (রা.) কথাগুলো রুস্তমের কাছে দুর্বোধ্যই মনে হলো। এজন্য তার ললাটে ফুটে উঠল চিন্তার রেখা।</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;"></div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">রিবয়ী ইবনে আমের (রা.) আরও বললেন, আমরা এসেছি ধর্ম নামের অধর্মগুলোর বর্বরতা হতে মানব জাতিকে মুক্ত করে ইনসাফপূর্ণ ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় দিতে। আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে তাঁর দ্বীন সহকারে বান্দাদের কাছে প্রেরণ করেছেন যে আমরা তাদেরকে দ্বীনের পথে আহ্বান করি। যারা এই দ্বীন গ্রহণ করবে, আমরা তাদেরকে সাদরে বরণ করে নেব এবং কোনরূপ সংঘর্ষ ছাড়াই দেশে ফিরে যাব। আর যারা এই দাওয়াত প্রত্যাখান করবে, আমরা তাদের সাথে অবিরাম যুদ্ধ চালিয়ে যাব, যতক্ষণ না আমরা আল্লাহর প্রতিশ্র“তি অর্জন করে ধন্য হব।</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;"></div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">রুস্তম বলল ঃ তোমাদের আল্লাহর প্রতিশ্র“তি কি?<br />
রিবয়ী (রা.) বললেন ঃ যারা যুদ্ধে মৃত্যুর সূধা পান করবে, তাদের জন্য রয়েছে অফুরন্ত সুখের চিরন্তন আবাস জান্নাত। আর যারা বেঁচে থাকবে, তাদের রয়েছে অনিবার্য সফলতা ও গৌরবময় বিজয়।<br />
রুস্তম বলল ঃ ঠিক আছে, তোমাদের বক্তব্য শুনলাম। এ ব্যাপারে কিছুদিন সময় চাই, যাতে আমরা বিষয়টি ভেবে দেখতে পারি। রিবয়ী (রা.) বললেন ঃ বেশ তো! আপনাদের ক’দিন সময় দরকার, একদিন না দু’দিন?<br />
রুস্তম বলল ঃ দু-একদিন নয়, বরং আমাদের নেতৃবৃন্দ ও নীতি-নির্ধারকদের সাথে আলোচনা করা পর্যন্ত সময় দরকার।</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;"></div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">রিবয়ী (রা.) বললেন ঃ দুশমনের মুখোমুখি অবস্থানকালে প্রতিপক্ষকে তিন দিনের অধিক সময় দেয়া আমাদের নবীজীর নীতি নয়। তিনি কথাগুলো বললেন জোরালো ভাষায় দীপ্ত কন্ঠে।<br />
রুস্তম এতে বিস্মিত হয়ে বলল ঃ আপনি কি তাদের নেতা?<br />
রিবয়ী (রা.) বললেন ঃ না, আমি তাদের নেতা নই। কিন্তু সমগ্র মুসলিম জাতি অভিন্ন দেহের ন্যায়। তাদের সাধারণ ব্যক্তিও বিশেষ লোকদের অনুমোদন ছাড়াই যে কোন লোককে আশ্রয় ও নিরাপত্তা দেয়ার ক্ষমতা রাখে। এতে সবাই তা মেনে নিতে বাধ্য থাকে।</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;"></div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">রুস্তম কথাবার্তায় আরও নমনীয় হয়ে গেল এবং সভাসদবৃন্দের পরামর্শ চাইল। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছিল যে, সে যেন পরাজয় বরণ করে নিতে চাচ্ছে। কিন্তু তার সভাসদবর্গ তাকে প্ররোচনা দিয়ে বলল, আপনি কি এ ‘কুকুর’ দের কাছে আপন ধর্ম ও মান-মর্যাদা বিসর্জন দিয়ে দিবেন? ওদের পোশাকের দিকে চেয়ে দেখুন, ওরা কত নিকৃষ্ট!<br />
রুস্তম বলল ঃ ধ্বংস হোক তোমাদের! পোষাকের দিকে দেখোনা, বরং তাদের চিন্তা-চেতনা, কথা-বার্তা ও স্বভাব-চরিত্রের দিকে তাকাও। আরবরা খাদ্য-বস্ত্রকে তুচ্ছ মনে করে, কিন্তু তারা তাদের বংশীয় মর্যাদা রক্ষা করে।</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;"></div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">সাহাবী রিবয়ী ইবনে আমের (রা.) এর বক্তব্য শুনে এই ছিল রুস্তমের প্রতিক্রিয়া। অথচ বর্তমানে আরবরা সম্পূর্ণ এর বিপরীত। তারা এখন পোশাকের প্রতিই গুরুত্ব দেয় বেশী। আর বংশের ব্যাপারে এতই শিথিলতা প্রদর্শন করে যে, অমুসলিম নারীদের সাথে সম্পর্ক করতেও তারা কুন্ঠাবোধ করে না। এ রকম আরও অনেক নিন্দনীয় কাজে তারা জড়িত। তারা বিভিন্ন রকমের ফ্যাশন ও বিনোদনের পিছনেই সময় কাটায় বেশী। সব সময় নতুন নতুন মডেলের খোঁজে ঘুরে বেড়ায়। এদের পোশাক  এখন ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। শীত, গ্রীষ্ম, বসন্ত তথা ঋতু ভিত্তিক জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক  পরিধান করা এদের নিত্য অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এটাই বর্তমান আরবদের প্রকৃত রূপ।</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">রিবয়ী বিন আমের (রা.) এর ঘটনা বলার উদ্দেশ্য হল, দ্বীনের তাবলীগের ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরামের অসীম সাহসিকতা ও বুলন্দ হিম্মতের দৃষ্টান্ত আপনাদের সামনে তুলে ধরা। ঐতিহাসিকগণ যেখানে রিবয়ী ইবনে আমের (রা.) এর এই কাহিনী উল্লেখ করেছেন, সেখানে তারা এ কথাও লিখেছেন যে, মুসলিম প্রতিনিধি দলকে যাতে প্রভাবিত করা যায় এবং তাদেরকে মানসিকভাবে দুর্বল করে দেয়া যায়, এই অভিপ্রায়ে পারসিকরা জৌলুসপূর্ণ বিশাল সভাকক্ষ তৈরী করে মেঝে ও আগমন পথে মূল্যবান গালিচা বিছিয়ে দেয় এবং আলোকসজ্জারও ব্যবস্থা করে। কিন্তু রিবয়ী (রা.) এতে কোনরূপ প্রভাবিত না হয়ে হাতে খঞ্জর নিয়েই সভাকক্ষে প্রবেশ করতে লাগলেন।<br />
প্রহরীরা বলল, আপনি খঞ্জর রেখে আসুন।</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;"></div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">রিবয়ী ইবনে আমের (রা.) বললেন ঃ আমি তোমাদের কাছে আসিনি। আমি হয় এই হাতিয়ার নিয়েই প্রবেশ করব, নতুবা আমি স্ব-শিবিরে ফিরে যাব।<br />
এ কথু শুনে প্রহরীরা খামোশ হয়ে গেল এবং সভাকক্ষে প্রবেশ করার জন্য অনুরোধ জানালো। পরে তিনি খঞ্জর ও সাওয়ারী নিয়েই রুস্তমের দরবারে প্রবেশ করলেন। তারা তাকে কাবু করার জন্য যে গালিচা বিছিয়েছিল, তা খঞ্জর দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মঞ্চের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং মঞ্চে পৌঁছে সাওয়ারীটি রুস্তমের পাশেই বাঁধলেন।<br />
তিনি তার এ আচরণে এ কথাই বুঝিয়ে দিলেন, আমার সাথে যা আছে, তা সহকারেই আমাকে বরণ করতে হবে, নতুবা আমি ফিরে যাব। কারণ, তোমরা আমাকে আমন্ত্রণ করে এনেছ, আমি স্বেচ্ছায় তোমাদের কাছে আসিনি।<br />
আজও মুসলিমরা কাফিরদের কাছে যায়, কিন্তু ইজ্জতের সাথে নয়, বরং দুর্বল ও পরাজিত মনোভাব নিয়ে।</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;"></div>
<h3 style="font-size:14px;text-align:justify;"><span style="color:#008000;">সপ্তম লক্ষণ ঃ আশা-আকাংখার সংকীর্ণতা</span></h3>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">অনেক উলামায়ে কেরাম এমন রয়েছেন, যাদের আকাংখা অত্যন্ত সংকীর্ণ। এমন উচ্চাকাঙ্খী আলেম খুব কমই আছেন, যিনি এই দ্বীনকে সমগ্র বিশ্বে প্রচার, প্রসার ও বাস্তবায়ন করার আশা পোষণ করেন। তারা উচ্চাকাঙ্খা ও বুলন্দ হিম্মত হারিয়ে নিজেদের সংকীর্ণ আশা-আকাঙ্খা নিয়েই পরিতৃপ্ত থাকেন।</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;"></div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">যারা দ্বীনের দাওয়াতের কাজ করেন, তাদের অবস্থাও তথৈবচ। সীমাবদ্ধ কিছু ধর্মীয় রীতি-নীতি পালন করাকেই তারা যথেষ্ট মনে করেন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তথা ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক জীবন পর্যন্ত দ্বীনের পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের মহৎ ইচ্ছা ও আন্তরিক প্রচেষ্টা অনেকের মাঝেই নেই। অথচ শরীয়তসম্মত বিষয়ে অন্তরে উচ্চাকাঙ্খা পোষণ করা একটি প্রশংসনীয় ও কাম্য বিষয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মু’মিনদের এই গুণের প্রশংসা করে বলেছেন ঃ</div>
<blockquote style="font-weight:bold;background-color:#fcf4d8;border-top:1px solid #003399;border-bottom:1px solid #003399;padding:7px;"><p><img alt="" src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif?w=593" />“যারা (রহমানের বান্দা) বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এমন স্ত্রী ও সন্তান দান করুন যাদের দেখে আমাদের নয়ন জুড়ায় এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্য আদর্শ করুন। (সুরা আল-ফুরক্বানঃ৭৪)</p></blockquote>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">এখানে প্রথভ্রষ্টদের নয়, সাধারণ নেককার মুসলিমদেরও নয়, বরং মু’মিনদের মধ্যেকার মুত্তাকীদের জন্য আদর্শ ও ইমাম হতে যারা প্রত্যাশী, তাদের প্রশংসা করা হয়েছে। বস্তুতঃ এ ধরনের প্রত্যাশা উচ্চ মনোবলের পরিচায়ক। আর তা অর্জন করার জন্য চাই কার্যকরী পদক্ষেপ ও পরিপূর্ণ প্রশিক্ষণ।</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">বর্তমান মুসলিমদের এ ধরনের উচ্চাকাঙ্খা পোষণ না করার পিছনে একটি কারণ রয়েছে। তা হলো শিক্ষার্থী ও মুসলিম যুবকগণ তাদের চিন্তা-চেতনাকে এই বৃত্তে আবদ্ধ করে ফেলেছে যে, তাদের প্রকৃত আদর্শ হল সমাসাময়িক কোন ব্যক্তিত্ব, বা তার জীবন গঠনে যার ভূমিকা রয়েছে। যেমন তার উস্তাদ বা কোন নেতা। কিন্তু সে প্রকৃত আদর্শ হিসাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নির্ধারণ করেনি। শুধু তাই নয়, বরং এই শিক্ষার্থী স্বীয় উস্তাদ হতে অগ্রগামী হওয়ার কল্পনাতো করেই না, অধিকন্ত এ জাতীয় উচ্চাকাঙ্খা পোষণ করাকে উস্তাদের সাথে চরম বেআদবী মনে করে। সে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে যে, তার উস্তাদ এমন স্তরে পৌঁছে গেছেন যেখানে পৌঁছা তার পক্ষে আদৌ সম্ভব নয়। ফলে সে যদি কখনও কোন বিষয়ে তার উস্তাদকে ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে দেখে তখন সে উস্তাদের সাথে সে বিষয়ে আলোচনা করাকে বেআদবী ও মানহানিকর মনে করে। সে মনে করে যে, উস্তাদের সিদ্ধান্তই হয়ত সঠিক। অথচ তার এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। আমরা যদি এ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করি যে, “ছাত্র তার উস্তাদ থেকে বড় হতে পারে না” তাহলে তো মুসলিমদের ক্রমশ অধঃপতনই হতে থাকবে। কারণ, উস্তাদ যদি বিদ্যা-বুদ্ধিতে এক স্তরে থাকেন, তবে তার ছাত্র হবে তার চেয়ে নিম্ন স্তরের, ছাত্রের ছাত্র হবে তার চেয়ে নিম্ন স্তরের। এভাবে নিম্নমুখী হতে হতে এক সময় সাধারণ মানুষের সাথে একাকার হয়ে যাবে।</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">এ ধরনের চিন্তাধারা বাস্তবতার সম্পূর্ণ বিপরীত। মুসলিমরা যদি তাদের মানসিকতাকে এ ধরনের চিন্তাধারায় সীমাবদ্ধ করে রাখে, তাহলে কোন ক্ষেত্রেই তাদের উন্নতি ও অগ্রগতি করা সম্ভব হবে না। এ ধরনের মনোভাব পোষণ করা হীনমন্যতা ও বিপর্যস্ত মানসিকতার পরিচায়ক। ছাত্র যদি উস্তাদ হতে বড় হয়ে যায়, তাতে উস্তাদের মর্যাদাহানী হয় না, বরং তা উস্তাদের জন্য সম্মানজনক ও গৌরবের বিষয়।</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">আমি আপনাদের জিজ্ঞেস করতে চাই, আপনারা কি বলতে পারেন, শায়খুল ইসলাম (র.) এর উস্তাদ কারা ছিলেন? ইমাম বুখারী (র.) এর উস্তাদ কারা ছিলেন? কারা ছিলেন ইমাম মুসলিম (র.) এর উস্তাদ? এ ইমামত্রয়ের প্রত্যেকেই ছিলেন ইসলামী জ্ঞানের আকাশের এক-একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। অমর কীর্তির কারণে তাদের সুনাম দিগন্ত প্রসারিত, তাদের খ্যাতি আকাশচুম্বি। কিন্তু কারা তাদের উস্তাদ, সে খবর অনেকের কাছে নেই।<br />
কাজেই আমাদের উপরোক্ত ধারণা যদি ঠিক হত, তাহলে আমি বলব, শায়খুল ইসলাম, ইমাম বুখারী (র.) ইমাম মুসলিম (র.) কখনও এত বড় হতে পারতেন না।</div>
<h3 style="font-size:14px;text-align:justify;"><span style="color:#008000;">অষ্টম লক্ষণ ঃ স্ব-ধর্মকে নানাবিধ অভিযোগের শিকার মনে করা</span></h3>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">এ লক্ষণটি সাধারণতঃ এমন কিছু মুসলিম লেখক ও যুবকদের মাঝে পরিলক্ষিত হয়, যারা পাশ্চাত্য পন্থীদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়। এ ক্ষেত্রে কিছু মুসলিম লেখকের শুধু ইসলামের উপর আরোপিত বিভিন্ন অভিযোগ-অপবাদের খন্ডনমূলক লেখা লিখতে থাকে। মনে হয় যেন তারা অপবাদের জিঞ্জিরে আবদ্ধ। ফলে তাদের সব লেখাই হয় প্রতিবাদমূলক। যেমন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেন নয়টি বিয়ে করলেন? ইসলামে একাধিক বিয়ের অনুমতি কেন দেয়া হল? চোরের হাত কাটা হয় কেন? এই বিধান এমন কেন? বিবাহিত ব্যভিচারীকে মৃত্যুদন্ড কেন? এই বিধানের হিকমত বা যুক্তি কি? এই ধরনের নানা প্রশ্নের উত্তর দিতেই তারা বেশী ব্যস্ত থাকে।<br />
অবশ্য কেউ যদি এ সম্পর্কে জানতে চায় তাহলে তার কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করে দেয়ার জন্য জবাব প্রদানের কথা ভিন্ন। কিন্তু কারো সাধারণ অভ্যাস যদি এমন হয়, তাহলে এটা হবে তার দুর্বল মনোভাব ও পরাজিত মানসিকতার লক্ষণ।</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">অনুরূপ ভাবে এক শ্রেণীর যুবক, বিশেষ করে যারা পশ্চিমা দেশ গুলোতে যাতায়াত করে, তারা যখন ভিন্ন ধর্মের লোকদের মুখোমুখি হয়, তখন অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে তাদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় লিপ্ত হয় এবং ইসলামের বিভিন্ন বিধি-বিধানের হেকমত ও যুক্তি নিয়ে আলোচনা করাকে প্রাধান্য দেয়। তাদের ধারণা হল, এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে ইসলাম সম্পর্কে পশ্চিমাদের ভুল দৃষ্টিভঙ্গিকে নিমিষেই দূর করে দেয়া যাবে। অথচ তাদের এ ধারণা ভুল। কারণ, পশ্চিমারা কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। তাদের অভিযোগ যতই খন্ডন করা হোক না কেন, তাদেরকে কখনই সন্তুষ্ট করা যাবে না। তাদের অভিযোগের একমাত্র জবাব হল, শরীয়ত অনুযায়ী আমল ও তার সফল বাস্তবায়ন। কারণ পূর্ণাঙ্গ শরীয় অনুযায়ী আমল করার ফলে আমাদের সমাজের শান্তি শৃংখলা যখন তারা অবলোকন করবে এবং ইসলামের সৌন্দর্য, সত্যতা ও সার্বজনীনতা বুঝতে সক্ষম হবে, তখন তারা নিজেদের ভ্রান্ত মতবাদের কুফল প্রত্যক্ষ করে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিবে। এছাড়া তাদেরকে অন্য পন্থায় সন্তুষ্ট করা যাবে না।</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">সাইয়্যিদ কুতুব শহীদ (রঃ) তাদের অভিযোগ খন্ডাতে অভিযুক্ত বিষয়ের হেকমত দর্শানোর পিছনে না পড়ে ভিন্ন একটা পন্থা অবলম্বন করতেন। তিনি তার লেখনিতে উল্লেখ করেন, যখন তিনি আমেরিকায় অবস্থান করতেন, তখন তার সমসাময়িক লেখকগণ পশ্চিমাদের  বিভিন্ন অভিযোগ ও প্রশ্নের জবাব দিলেও তিনি জবাব দানে বিরত থাকতেন, বরং তিনি পশ্চিমাদের ধর্ম-বিশ্বাস ও জীবনাচার সম্পর্কে পাল্টা অভিযোগ তুলতেন।</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">সাইয়্যিদ কুতুবের ভূমিকাটি অত্যন্ত সুন্দর। তার দৃষ্টান্ত এমন যে ধরুন, কোন ব্যক্তি আপনার প্রতি অস্ত্র তাক করে আছে, তখন আপনার প্রথম কর্তব্য হবে তাকে নিরস্ত্র করা। অতঃপর আলোচনার মাধ্যমে আপনার যুক্তি দর্শন তার সামনে তুলে ধরা। কাজেই পশ্চিমাদের নীরব করার উত্তম পন্থা হলো, উত্থাপিত অভিযোগের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে পাল্টা তাদের ধর্ম ও জীবনাচারের উপর অভিযোগ করা। এতে তারা তাদের ধর্ম বিশ্বাস ও জীবনাচার তা মোটেও যুক্তিগ্রাহ্য নয়, বরং তা একেবারেই কল্পনা প্রসূত। তা বুঝতে সক্ষম হবে। কিন্তু আফসোস! আমাদের ভূমিকা এমন শক্তিশালী হচ্ছে না। আমরা শুধু পরাজিত ব্যক্তির ন্যায় আত্মরক্ষার ভূমিকায় সীমাবদ্ধ রয়েছি।</div>
<h3 style="font-size:14px;text-align:justify;"><span style="color:#008000;">নবম লক্ষণ ঃ বিশ্বময় আল্লাহর দ্বীন প্রচারে শিথিলতা ও অলসতা</span></h3>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">এ লক্ষণটি দেখা যায় দুর্বল ঈমানের অধিকারী এক শ্রেণীর মুসলিমদের মাঝে, যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কিছু ভবিষ্যদ্বাণীর ভূল ব্যাখ্যার শিকার হয়েছে, যে সব ভবিষ্যদ্বাণীতে মুসলিম উম্মাহর অধঃপতন ও নৈতিক অবক্ষয়ের কথা বর্ণিত হয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ সহীহ বুখারীতে বর্ণিত একটি হাদীস পেশ করা যাক।<br />
আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-</div>
<blockquote style="font-weight:bold;background-color:#fcf4d8;border-top:1px solid #003399;border-bottom:1px solid #003399;padding:7px;"><p><img alt="" src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif?w=593" />“এমন একটি যুগ অতি নিকটবর্তী, যখন মুসলিমের সর্বোত্তম সম্পদ হবে বকরি, যা নিয়ে সে পর্বত শৃঙ্গে ও বারিপাতের স্থানসমূহে আশ্রয় নিবে এবং ফিৎনা হতে বাঁচার জন্য সে দ্বীন নিয়ে পলায়ন করবে।” (বুখারী ঃ ২/৯৬১)</p></blockquote>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">দুর্বল মনের লোকেরা সমাজ-সংস্কারের বিষয়ে নিরাশ হয়ে এই মর্মের হাদীসগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করতঃ লোকালয় হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে বৈরাগ্য জীবন যাপনের প্রতি উৎসাহী হয়ে উঠে। সহীহ বুখারীতে বর্ণিত অন্য একটি হাদীসও তারা দলিল হিসাবে পেশ করে। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ</div>
<blockquote style="font-weight:bold;background-color:#fcf4d8;border-top:1px solid #003399;border-bottom:1px solid #003399;padding:7px;"><p><img alt="" src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif?w=593" />“তোমরা আল্লাহর কাছে প্রার্তাবর্তন করার পূর্ব পর্যন্ত প্রতিটি মুহুর্তেই পূর্বের চেয়ে খারাপ হতে থাকবে।” (বুখারী ২/১০৪৭)</p></blockquote>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">এই মর্মের হাদীসগুলো দেখে নিরাশ হওয়ার কোন কারণ নেই। কেননা নৈরাশ্যবাদীরা হাদীসগুলোকে যেমন ব্যাপক মনে করে থাকে, প্রকৃতপক্ষে হাদীসগুলো তেমন ব্যাপক নয়। হাদীস বিশারদগণ এই মর্মের হাদীসসমূহের বিভিন্ন ব্যাখ্যা করে প্রায় সকলেই বর্ণিত পরিস্থিতিকে বিশেষ যুগের সাথে সীমাবদ্ধ করেছেন। যেমন অনেকেই বলেছেন, এ হাদীসসমূহ খিলাফতে রাশেদার পরবর্তী একটি বিশেষ যুগের দিকে তথা হাজ্জায ও ইয়াজিদের শাসনকালের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। আর বাস্তবেও তাই ঘটেছিল। তাদের যুগটা এমন ভাবে অতিবাহিত হয়েছিল যে, জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত পূর্বের চেয়ে শোচনীয় ছিল। হাদীসসমূহে সর্বযুগের কথা বলা হয়নি বিধায় এ কঠিন যুগ পেরিয়ে পুনরায় খেলাফতে রাশেদার সাদৃশ্যে উমর ইবনে আব্দুল আজিজের স্বর্ণোজ্জ্বল খেলাফতকাল উম্মতের উপর অতিবাহিত হয়েছিল।</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">আল্লামা শায়েখ আলবানী (র.) এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন, হাদীসটিকে অন্যান্য হাদীসের আলোকে পর্যালোচনা করলে সুস্পষ্ট ভাবে বুঝে আসে যে, উপরোক্ত হাদীসসমূহে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবাগণকে অতি নিকটবর্তী এক দুঃসময়ের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে সতর্ক করে গেছেন। সাথে সাথে অন্য হাদীসে এই সু-সংবাদও দিয়ে গেছেন যে, সমাগত অত্যাচারী শাসনের অবসান ঘটবে এবং খেলাফতে রাশেদার নমুনায় ইনসাফপূর্ণ শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। এই সু-সংবাদ যখন অন্যান্য হাদীসে সুস্পষ্ট, তখন বুঝতে বাকি থাকে না যে, উপরোক্ত হাদীসগুলোতে সর্বকালের কথা বলা হয়নি। তাই উসুলে ফিকহর পরিভাষায় এই হাদীসকে বলা হবে ঃ عام خاص منه البعض অর্থাৎ হাদীসটি শাব্দিকভাবে ব্যাপক হলেও তার ব্যাপকতা উদ্দেশ্য নয়, বরং বিশেষ ক্ষেত্রের সাথে সীমাবদ্ধ।</div>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">মোট কথা, উক্ত হাদীসগুলো ব্যাপক নয়। তাই স্থান বিশেষ কখনো পরিস্থিতির নাজুকতার কারণে নির্জনতা অবলম্বন জরুরী হলেও তা কেবল সাময়িক সময়ের জন্য হতে পারে। কেয়ামত পর্যন্ত সর্বকালে নির্জনবাসের মনোবৃত্তি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। পর্যাপ্ত ত্যাগ স্বীকার করলে আজও খেলাফতে রাশেদার মত ইনসাফপূর্ণ শাসন ব্যবস্থা পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসে তার প্রতিশ্র“তি রয়েছে এবং ইতিহাস পর্যালোচনা করলেও এর বাস্তবতা লক্ষ্য করা যায়। সুতরাং উক্ত আয়াত ও হাদীসগুলোর ভুল-ব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়ে হীনমন্য হওয়ার কোন কারণ নেই।</div>
<h3 style="font-size:14px;text-align:justify;"><span style="color:#008000;">দশম লক্ষণ ঃ মানব রচিত আইন বাস্তবায়নের চেষ্টা করা</span></h3>
<div style="font-size:14px;text-align:justify;">এক শ্রেণীর মুসলিম এমনও আছে, যারা জীবন-ব্যবস্থা হিসাবে আল্লাহ প্রদত্ত আইনের প্রতি পূর্ণ আস্থাশীল নয়। ফলে তারা মানব রচিত বিভিন্ন মতবাদের দিকে ঝুকে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালায়। ইতিমধ্যে তারা মুসলিম আধ্যুষিত অনেক রাষ্ট্রে মানব রচিত মতবাদ বাস্তবায়ন করেও ফেলেছে। আল্লাহ প্রদত্ত পূর্ণাঙ্গ জীবন-ব্যবস্থা দ্বীন ইসলাম পরিত্যাগ করে অন্য কোন মতবাদকে জীবন-ব্যবস্থা হিসাবে গ্রহণ করা এ কথারই প্রমাণ বহন করে যে, তাদের কাছে যে পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান রয়েছে তাতে তারা সন্তুষ্ট নয়। ইসলামকে বর্জন করে মানব রচিত আইন গ্রহণ করার কারণেই তারা আজ সামগ্রিকভাবে অধঃপতন ও বিপর্যস্ততার এই স্তরে এসে উপনীত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, দ্বীন সম্পর্কে এহেন ধারণা পোষণ করা কুফরী। আল্লাহ আমাদেরকে এ ভ্রান্ত ধারণা থেকে রক্ষা করুন এবং সঠিক পথে অগ্রসর হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন!</div>
<br />Filed under: <a href='http://bnislam.com/category/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be/'>বাংলা</a> Tagged: <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%80-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%ac/'>ইসলামী বিপ্লব</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a7%80/'>চরমপন্থী</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a7%82%e0%a6%b2%e0%a6%95/'>নতজানুমূলক</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%a8/'>পরিবর্তন</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%ac/'>বিপ্লব</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0/'>মানবাধিকার</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a6%bf/'>মানসিক ব্যাধি</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%95/'>মুনাফিক</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%ae/'>রুস্তম</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%9a%e0%a6%ac%e0%a7%8b%e0%a6%a7/'>সংকোচবোধ</a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bnislaam.wordpress.com/2825/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bnislaam.wordpress.com/2825/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bnislam.com&#038;blog=14847374&#038;post=2825&#038;subd=bnislaam&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://bnislam.com/2013/05/02/muslim-ummah-1/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>1</slash:comments>
	
		<media:content url="http://1.gravatar.com/avatar/d9d4481fa439526a301e6cf04e2bdc3b?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">bnislaam</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif" medium="image" />

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif" medium="image" />

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif" medium="image" />

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif" medium="image" />

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif" medium="image" />

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif" medium="image" />

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif" medium="image" />

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif" medium="image" />

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif" medium="image" />
	</item>
		<item>
		<title>মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবদান</title>
		<link>http://bnislam.com/2013/04/07/human-rights-in-islam/</link>
		<comments>http://bnislam.com/2013/04/07/human-rights-in-islam/#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 07 Apr 2013 15:17:45 +0000</pubDate>
		<dc:creator>bn.islaam</dc:creator>
				<category><![CDATA[বাংলা]]></category>
		<category><![CDATA[অমানবিক আচরণ]]></category>
		<category><![CDATA[আবু বকর মুহাম্মাদ জাকারিয়া]]></category>
		<category><![CDATA[জাতিসংঘ]]></category>
		<category><![CDATA[নারী অধিকার ও মর্যাদা]]></category>
		<category><![CDATA[নারীধিকার]]></category>
		<category><![CDATA[বিবাহ ও পরিবার]]></category>
		<category><![CDATA[মাঞ্জুরে ইলাহী]]></category>
		<category><![CDATA[মানাবাধিকার]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনৈতিক আশ্রয়]]></category>
		<category><![CDATA[সম্পত্তির মালিকানা]]></category>
		<category><![CDATA[স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা]]></category>
		<category><![CDATA[স্বাধীনভাবে চলাচল]]></category>
		<category><![CDATA[Human Rights]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://bnislam.com/?p=2810</guid>
		<description><![CDATA[ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী সম্পাদনা : ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া ভূমিকা: মানবাধিকার বলতে বুঝায় মহান আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক প্রদত্ত মানুষের সহজাত অধিকার। সাম্প্রতিক সময়ে এ বিষয়টি বিশ্বব্যাপী আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। যদিও মানবাধিকারের মানদন্ড, সমাজভেদে এর সংজ্ঞা, প্রয়োগ ও &#8230; <a href="http://bnislam.com/2013/04/07/human-rights-in-islam/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bnislam.com&#038;blog=14847374&#038;post=2810&#038;subd=bnislaam&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<div style="font-size:16px;text-align:justify;">
<p align="center">ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী</p>
<p align="center"><b>সম্পাদনা : </b>ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া<b></b></p>
<p><span style="color:#993300;"><b>ভূমিকা:</b></span><b></b></p>
<p><a href="http://bnislaam.files.wordpress.com/2013/04/plaatje-christopher-human-rights.jpg"><img class=" wp-image-2813 alignleft" alt=" Human-Rights" src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2013/04/plaatje-christopher-human-rights.jpg?w=154&#038;h=180" width="154" height="180" /></a>মানবাধিকার বলতে বুঝায় মহান আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক প্রদত্ত মানুষের সহজাত অধিকার। সাম্প্রতিক সময়ে এ বিষয়টি বিশ্বব্যাপী আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। যদিও মানবাধিকারের মানদন্ড, সমাজভেদে এর সংজ্ঞা, প্রয়োগ ও সীমারেখা নিয়ে তৈরী হচ্ছে নানা বিতর্ক। প্রাসঙ্গিকভাবেই জাতিসংঘের বিশ্ব মানবাধিকারের বিষয়টিও সে সব আলোচনা সমালোচনায় উঠে আসছে। মানবাধিকার রক্ষায় বিশ্বের শক্তিধর রাষ্টসমূহের গৃহীত পদক্ষেপ মানুষের প্রকৃত অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক নাকি অধিকার হরণের কৌশল তা নিয়েও বিশ্বব্যাপী চলছে ব্যাপক আলোচনা।</p>
<p>এমনি প্রেক্ষাপটে আমরা যদি সপ্তম ঈসায়ী শতাব্দির শুরুতে ফিরে যাই, তাহলে দেখা পাব এক অনুপম মহামানবের, যিনি নর-নারী তথা সকল মানবের প্রকৃত মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করে বিশ্ববাসীর সামনে হাযির করেছিলেন মানবাধিকারের সার্বজনীন রূপরেখা। তিনি হলেন বিশ্ব মানবতার মুক্তিদূত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব এবং সর্বশেষ নবী ও রাসূল। তিনি হলেন জগতের সবার জন্য Role-Model ও উসওয়ায়ে হাসানাহ। Practical Teachings এর মাধ্যমে তিনি সর্বক্ষেত্রে চমৎকার সব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তিনি প্রমাণ করেছিলেন, তাঁর দেয়া ফর্মুলাই জগতকে দিতে পারে শান্তি, সফলতা ও মুক্তি। তাঁর পূর্বযুগে যত অজ্ঞতা ছিল, বর্বরতা ছিল, যত নির্যাতন ও শোষণ ছিল, সন্ত্রাস, ভয়-ভীতি ও সাম্প্রদায়িকতা ও শ্রেণী বিদ্বেষ ছিল, সবই তাঁর মহান আদর্শের পরশ পাথরে পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল।</p>
<p>সমকালীন বিশ্বে মানুষের সার্বজনীন অধিকার প্রতিষ্ঠায় ওহীর নির্দেশনায় তাঁর প্রবর্তিত নীতি-দর্শন ও দিক-নির্দেশনার প্রয়োগ কেবল গ্রহণযোগ্য বা প্রয়োগ উপযোগীই নয়, বরং তা একান্ত আবশ্যক। এ প্রবন্ধে আমরা মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় এ মহামানবের অবদানের প্রধানতম দিকগুলো তুলে ধরব।</p>
<p><span style="color:#993300;"><b>মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম</b></span><b></b></p>
<p>মহানবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়ত প্রাপ্তির অনেক আগ থেকে তাঁর উত্তম চরিত্র ও মানবিক গুণাবলীর জন্যে বিখ্যাত হয়েছিলেন। ঐতিহাসিকরা যে সময়কে ‘জাহেলিয়াতের বা অন্ধকার যুগ’ বলেছেন সেই সময়ে জন্মলাভ করেও ঝগড়া-বিবাদ, নরহত্যা, সম্পদ লুন্ঠন, ব্যভিচার ইত্যাদি অকল্যাণকর, মানবতার জন্যে চরম অবমাননাকর কাণ্ডে তিনি কখনো জড়িত হন নি। অথচ তখনকার সমাজে যে কোনো যুবকের জন্যে তা ছিল স্বাভাবিক। বরং তিনি ছিলেন এতিম, অসহায়, নির্যাতিতদের একমাত্র সহায়, সান্ত্বনাদানকারী, ধন-সম্পদের আমানত রক্ষাকারী এবং অনেকের আশ্রয়দাতা। চুরি-ডাকাতির ভয়ে ভীত, আতঙ্কিত মানুষ তাঁর কাছে হাজির হয়ে তাদের মূল্যবান সম্পদ আমানত রেখে যেত, আর তিনি সেই আমানতের যথাযত হেফাযত করতেন এবং যথারীতি তা ফেরত দিতেন। এভাবে নবুওয়ত লাভের অনেক আগেই আরববাসী তাকে ‘আল-আমীন’ বা ‘পরম বিশ্বস্ত’ খেতাবে ভূষিত করেছিল। নবুওয়াতের পাঁচ বছর আগে পবিত্র কাবা শরীফ মেরামতকালে সেখানকার কালো পাথর ‘হাজরে আসওয়াদ’ স্বস্থানে তুলে নেয়ার ব্যাপারে কলহ-দ্বন্দের সূত্রপাত হয় এবং প্রত্যেক গোত্রই এই কাজ করে মর্যাদা লাভের প্রতিযোগিতায় যুদ্ধোন্মুখ হয়ে পড়ে, তখন সেই গুরুতর সমস্যার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাত্র ৩৫ বছর বয়সে এমন একটি সমাধান দেন; যাতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মর্যাদাই রক্ষিত হয়েছিল। সকলেই সন্তুষ্টচিত্তে সে ব্যবস্থা মেনে নিয়েছিল, আর তা ছিল একটি চাদরের মাঝখানে পাথরটি রেখে গোত্রপতিদের দিয়ে চাদরটি ধরে যথাস্থানে নিয়ে যাওয়া ও সবশেষে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিজ হাতে সেটিকে প্রতিস্থাপন করা।</p>
<p>সকল মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা, মানবিক মূল্যবোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার এই উদাহরণ তাঁর জীবনের শুরু থেকেই আজীবন নানাভাবে দেখা গিয়েছিল। পরবর্তীকালে যখন তিনি গোটা আরব জাহানের নেতা হয়ে উঠলেন তখন তিনি কি সমাজ জীবনে, কি পারিবারিক জীবনে, কি রাষ্ট্রীয় তথা নাগরিক জীবনে, কি বিশ্ব নাগরিক হিসাবে, সর্বক্ষেত্রে মানুষের মূল্য-মর্যাদা ও মানবাধিকারের যে সার্বজনীন আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছিলেন আজ পর্যন্ত সারা বিশ্বের ইতিহাসে তা বিরল, অভূতপূর্ব। তাঁর প্রতিষ্ঠিত নীতি-দর্শনের কয়েকটি দিকের উপর আলোকপাত করেলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠবে।</p>
<p><span style="color:#993300;"><b>মানুষের বেঁচে থাকার ও নিরাপত্তা লাভের অধিকার</b></span><b></b></p>
<p>মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের জীবনের অধিকার ও জান-মালের নিরাপত্তা বিধানের ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন। নরহত্যা যেখানে নৈমিত্তিক ব্যাপার ছিল সেখানে নরহত্যাকে জঘন্য অপরাধ হিসাবে আখ্যায়িত করে বলেছেন,</p>
<blockquote style="font-weight:bold;background-color:#fcf4d8;border-top:1px solid #003399;border-bottom:1px solid #003399;padding:7px;"><p><img alt="" src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif?w=593" />সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ হচ্ছে আল্লাহর সঙ্গে কাউকে অংশীদার বানানো এবং মানুষকে হত্যা করা&#8230;..।<a title="" href="#_ftn1">[1]</a></p></blockquote>
<p>মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:</p>
<blockquote style="font-weight:bold;background-color:#fcf4d8;border-top:1px solid #003399;border-bottom:1px solid #003399;padding:7px;"><p><img alt="" src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif?w=593" />কোনো মু‘আহাদকে (মুসলিম রাষ্ট্রে অবস্থানরত চুক্তিবদ্ধ অমুসলিম নাগরিককে) হত্যাকারী জান্নাতের সুঘ্রাণ পর্যন্ত পাবে না। যদিও জান্নাতের সুঘ্রাণ ৪০ বছর দূরত্ব থেকে পাওয়া যায়।<a title="" href="#_ftn2">[2]</a></p></blockquote>
<p>বিদায় হজ্জের ঐতিহাসিক ভাষণে (যাকে মানবাধিকারের আদি সনদ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়) মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল মানুষকে সম্বোধন করে বলেছেন,</p>
<blockquote style="font-weight:bold;background-color:#fcf4d8;border-top:1px solid #003399;border-bottom:1px solid #003399;padding:7px;"><p><img alt="" src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif?w=593" />নিশ্চয়ই তোমাদের পরস্পরের জীবন, সম্পদ এবং সম্ভ্রম তোমাদের (অবৈধ হস্তক্ষেপ থেকে) পবিত্র, যেরূপ তোমাদের এই দিন পবিত্র তোমাদের এ মাসে তোমাদের এ শহরে।<a title="" href="#_ftn3">[3]</a></p></blockquote>
<p>মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আত্মহত্যাকে নিষিদ্ধ করেছেন এবং আত্মহত্যাকারী তার নিজের জীবন নিজেই শেষ করে দেওয়ার শাস্তি হিসেবে আখেরাতে আত্মহত্যার অনুরূপ পন্থায় শাস্তিভোগ করবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।<a title="" href="#_ftn4">[4]</a></p>
<p>জাহেলিয়াত বা অন্ধকার যুগে, বিশেষত আরবদের নবজাতক বিশেষ করে মেয়ে শিশুদের জন্মলাভের পরপরই দারিদ্রের ভয়ে হত্যা বা জীবন্ত প্রোথিত করার রেওয়াজ প্রচলিত ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইসলামী সমাজে শিশু হত্যার এ জঘন্য প্রবণতাকে দণ্ডযোগ্য অপরাধ ঘোষণা করে পবিত্র কুরআনের প্রত্যাদেশের মাধ্যমে<a title="" href="#_ftn5">[5]</a> শিশুদের জীবনের অধিকার ও নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করা হয়।</p>
<p><span style="color:#993300;"><b>বিবাহ ও পরিবার গঠনের অধিকার</b></span><b></b></p>
<p>মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন দর্শনে সমাজের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রতিটি ব্যক্তিকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার অধিকার প্রদান করা হয়েছে। ইসলামে বিবাহ সমভাবে একটি অধিকার ও ধর্মীয় দায়িত্ব। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,<b><br />
</b></p>
<blockquote style="font-weight:bold;background-color:#fcf4d8;border-top:1px solid #003399;border-bottom:1px solid #003399;padding:7px;"><p><img alt="" src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif?w=593" />আর আমি নারীদের বিবাহ করি। সুতরাং যে আমার সুন্নাহ্ থেকে বিমুখ হল সে আমার আদর্শভুক্ত নয়।<a title="" href="#_ftn6">[6]</a></p></blockquote>
<p>প্রকৃতপক্ষে ইসলামে ‘বিবাহ’ কেবলমাত্র জৈবিক চাহিদা পূরণের পন্থাই নয়, বরং পারস্পরিক ভালবাসা, সমঝোতা, সমবেদনা ও নির্ভরশীলতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক প্রবর্তিত বিবাহ ব্যবস্থা এমন একটি সামাজিক চুক্তি যাতে নারী ও পুরুষ উভয়ের সম্মত বা অসম্মত হবার সমান অধিকার স্বীকৃত। বিবাহের পাশাপাশি পারিবারিক জীবনকে ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেহেতু স্বামী-স্ত্রীই হল পরিবারের মূল ভিত্তি এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্কের উপরই প্রাথমিকভাবে পারিবারিক জীবনের শান্তি ও সুখ নির্ভর করে, তাই পারিবারিক জীবনে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক কেমন হবে, এ বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিয়ে  কুরআনুল কারীমে ঘোষণা করা হয়েছে:</p>
<blockquote style="font-weight:bold;background-color:#fcf4d8;border-top:1px solid #003399;border-bottom:1px solid #003399;padding:7px;"><p><img alt="" src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif?w=593" />তাঁরা (স্ত্রীগণ) হবে তোমাদের (স্বামীদের) ভূষণ আর তোমরা (স্বামীগণ) তাদের (স্ত্রীদের) ভূষণ।<a title="" href="#_ftn7">[7]</a></p></blockquote>
<p><span style="color:#993300;"><b>সম্পত্তির মালিকানার অধিকার</b></span><b></b></p>
<p>রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবর্তিত ইসলামী অর্থব্যবস্থা সমাজতন্ত্রবাদ বা পুঁজিবাদ কোনটিকেই পুরোপুরি সমর্থন করে না বরং তা একটি কল্যাণ রাষ্ট্রীয় ধারণাকে সমর্থন করে। এখানে ব্যক্তির জন্য সম্পত্তির অপ্রকৃত মালিকানা স্বীকৃত। তবে তা এতটাই নিয়ন্ত্রিত যে, ব্যক্তি এখানে সম্পদ উপর্জনের লাগামহীন স্বাধীনতা লাভ করে না। ইসলামী সমাজের সকল সম্পদের প্রকৃত মালিকানা আল্লাহর। মানুষ দায়িত্বপ্রাপ্ত (trustee) হিসাবে এর অর্জন, ভোগ ও বণ্টনের অধিকার লাভ করে। আল-কুরআনুল কারীমে বলা হয়েছে,</p>
<blockquote style="font-weight:bold;background-color:#fcf4d8;border-top:1px solid #003399;border-bottom:1px solid #003399;padding:7px;"><p><img alt="" src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif?w=593" />তাদের সম্পদে প্রার্থনাকারী ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে।<a title="" href="#_ftn8">[8]</a></p></blockquote>
<p>দান, খয়রাত, সদকা, যাকাত, ফিতরা প্রভৃতির মাধ্যমে বর্ধিত সম্পদের বিলি-বন্টন করে ইসলামে একটি ভারসাম্যপূর্ণ  অর্থনৈতিক অবস্থার কথাই কেবল বলা হয় নি, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবনে কার্যকরভাবে তা প্রতিষ্ঠাও করেছেন।</p>
<p><span style="color:#993300;"><b>স্বাধীনভাবে চলাচল, বসবাস, রাজনৈতিক আশ্রয় ও নাগরিকত্ব লাভের অধিকার</b></span><b></b></p>
<p>মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক প্রবর্তিত রাষ্ট্র ব্যবস্থা রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিককে রাষ্ট্রের যে কোনো স্থানে স্বাধীনভাবে চলাচল ও বসবাসের অধিকার প্রদান করে। একই ভাবে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের বাইরে যাওয়া ও অন্য রাষ্ট্রে বসবাসের অধিকারও প্রতিটি ব্যক্তিকে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রকৃতপক্ষে একটি ‘বিশ্ব রাষ্ট্রব্যবস্থা’ ধারণায় বিশ্বাসী ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাষ্ট্রদর্শন অনুযায়ী সমগ্র বিশ্ব আল্লাহর রাজত্বস্বরূপ- যা তিনি সকল মানুষের চলাচল ও বসবাসের জন্যে অবারিত করে দিয়েছেন।</p>
<p><span style="color:#993300;"><b>নিপীড়ন-নির্যাতন, নিষ্ঠুরতা ও অমানবিক আচরণ থেকে মুক্তি লাভের অধিকার</b></span><b></b></p>
<p>শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো ব্যক্তিকে শারীরিক-মানসিক শাস্তিদান বা তাকে কষ্ট দেওয়াকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। তিনি বলেছেন,</p>
<blockquote style="font-weight:bold;background-color:#fcf4d8;border-top:1px solid #003399;border-bottom:1px solid #003399;padding:7px;"><p><img alt="" src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif?w=593" />প্রকৃত মুসলিম হচ্ছে সে ব্যক্তি, যার কথা বা হাত (কাজের নিপীড়ন) থেকে মুসলিমগণ নিরাপদে থাকেন।<a title="" href="#_ftn9">[9]</a></p></blockquote>
<p>এমনকি এক্ষেত্রে অমুসলিম নাগরিকগণের অধিকার সম্পর্কে অত্যন্ত দৃঢ় ভাষায় তিনি বলেছেন,</p>
<blockquote style="font-weight:bold;background-color:#fcf4d8;border-top:1px solid #003399;border-bottom:1px solid #003399;padding:7px;"><p><img alt="" src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif?w=593" />যদি কোনো মুসলিম অমুসলিম নাগরিকের উপর নিপীড়ন চালায়, তার অধিকার খর্ব করে, তার উপর সাধ্যাতীত বোঝা (জিযিয়া বা প্রতিরক্ষা কর) চাপিয়ে দেয় অথবা তার কোনো বস্তু জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়, তাহলে কিয়ামতের দিন আমি আল্লাহর আদালতে তার বিরুদ্ধে অমুসলিম নাগরিকের পক্ষাবলম্বন করব।’’<a title="" href="#_ftn10">[10]</a></p></blockquote>
<p>রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কারো অপরাধের জন্য অন্যকে দণ্ড দেওয়ার যুগ যুগ ধরে প্রচলিত রেওয়াজও চিরতরে রহিত করে দেন। বিদায় হজ্জের ঐতিহাসিক অভিভাষণে তিনি বলেন,</p>
<blockquote><p>জেনে রাখ, কারো অপরাধের জন্য তারা নিজেকেই দণ্ড বহন করতে হবে। সুতরাং পিতার অপরাধের জন্য পুত্রকে এবং পুত্রের অপরাধে জন্য পিতাকে দায়ী করা যাবে না।<a title="" href="#_ftn11">[11]</a></p></blockquote>
<p>রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই ঘোষণার মূলে ছিল কুরআনের সেই বাণী,</p>
<blockquote style="font-weight:bold;background-color:#fcf4d8;border-top:1px solid #003399;border-bottom:1px solid #003399;padding:7px;"><p><img alt="" src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif?w=593" />প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য দায়ী।<a title="" href="#_ftn12">[12]</a></p></blockquote>
<blockquote style="font-weight:bold;background-color:#fcf4d8;border-top:1px solid #003399;border-bottom:1px solid #003399;padding:7px;"><p><img alt="" src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif?w=593" />প্রতিটি ব্যক্তি যা অর্জন করে তা শুধু তারই উপর বর্তায়, আর কেউ অন্যের বোঝা বহন করে না।<a title="" href="#_ftn13">[13]</a></p></blockquote>
<p><span style="color:#993300;"><b>অবাধ ও স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার অধীনে ন্যায়বিচার লাভের অধিকার</b></span><b></b></p>
<p>মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক প্রবর্তিত রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থায় ধর্ম, বর্ণ, রাজনৈতিক-সামাজিক পেশাগত মর্যাদা নির্বিশেষে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক একটি নিরপেক্ষ, অবাধ ও স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার অধীনে স্বাভাবিক ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার লাভ করে। মূলত ন্যায়বিচার ধারণার উপর ইসলামে এতটা গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে যে, কুরআনে প্রায় ষাটটি আয়াতে এ সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে আলোচনা করা হয়েছে। যেমন একটি আয়াতে বলা হয়েছে,</p>
<blockquote style="font-weight:bold;background-color:#fcf4d8;border-top:1px solid #003399;border-bottom:1px solid #003399;padding:7px;"><p><img alt="" src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif?w=593" />হে ঈমানদারগণ! তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক, আল্লাহর জন্য সাক্ষীরূপে, যদিও তা তোমাদের নিজদের  কিংবা পিতা-মাতার অথবা নিকট আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে হয়।<a title="" href="#_ftn14">[14]</a></p></blockquote>
<p>রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিষ্ঠিত ইসলামী খিলাফতের শাসনামলে ইসলামে বিচার ব্যবস্থা যা শাসক গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপমুক্ত, স্বাধীন, অবাধ ও নিরপেক্ষ হিসেবে খ্যাতি লাভ করে, তা ছিল মূলত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মানবতাবোধ ও মানবাধিকারের উদার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে উৎসারিত।</p>
<p><b>শান্তি, সাম্য ও মৈত্রী প্রতিষ্ঠায়</b><b></b></p>
<p>কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তা‘আলা স্পষ্ট ভাষায় মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে ঘোষণা করেছেন যে,</p>
<blockquote style="font-weight:bold;background-color:#fcf4d8;border-top:1px solid #003399;border-bottom:1px solid #003399;padding:7px;"><p><img alt="" src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif?w=593" />আমি তোমাকে সমগ্র সৃষ্টির জন্যে রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি।<a title="" href="#_ftn15">[15]</a></p></blockquote>
<p>কুরআনের এ বাণী পরিপূর্ণভাবে সত্যে পরিণত করেছিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। সমাজ, রাষ্ট্র ও সমগ্র মানব জাতির ভ্রাতৃত্ব, শান্তি, সাম্য ও মৈত্রী প্রতিষ্ঠায় তিনি যে অনন্য সাধারণ উদাহরণ রেখে গেছেন পৃথিবীর ইতিহাসে তা আজো অদ্বিতীয় এবং সর্বজনস্বীকৃত অনুকরণীয় আদর্শ হিসেবে পরিগণিত। কেননা তিনি কেবল মুসলিমদের আদর্শ ছিলেন না, ছিলেন গোটা মানব জাতির আদর্শ। আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে এই মর্মে ঘোষণা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন,</p>
<blockquote style="font-weight:bold;background-color:#fcf4d8;border-top:1px solid #003399;border-bottom:1px solid #003399;padding:7px;"><p><img alt="" src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif?w=593" />বলুন (হে নবী), হে মানবজাতি, আমি তোমাদের সবার জন্য আল্লাহর রাসূল।<a title="" href="#_ftn16">[16]</a></p></blockquote>
<p><b>দয়া, ক্ষমা ও শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায়</b><b></b></p>
<p>মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু, ক্ষমাশীল ও কোমল। দয়া, ক্ষমা, শান্তি ও সাম্যের প্রতিরূপ এই মহামানব স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন,</p>
<blockquote style="font-weight:bold;background-color:#fcf4d8;border-top:1px solid #003399;border-bottom:1px solid #003399;padding:7px;"><p><img alt="" src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif?w=593" />যে মানুষকে দয়া করে না, আল্লাহ তা‘আলা তাকে দয়া করেন না।[17]</p></blockquote>
<p>এখানে কেবল মুসলিমদের কথাই নয় বরং গোটা মানব জাতির কথা বলা হয়েছে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি দয়া ও ক্ষমা প্রদর্শনকে তিনি নানাভাবে উৎসাহিত করেছেন। অন্য একটি হাদীসে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,</p>
<blockquote style="font-weight:bold;background-color:#fcf4d8;border-top:1px solid #003399;border-bottom:1px solid #003399;padding:7px;"><p><img alt="" src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif?w=593" />যমীনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করা, তাহলে উর্ধ্বালোকে যিনি আছেন তিনি তোমার প্রতি সদয় হবেন।<a title="" href="#_ftn18">[18]</a></p></blockquote>
<p>অন্যদিকে শ্রমিক অধীনস্থ কর্মচারী ও চাকর-চাকরানীদের প্রতি সদয় ব্যবহার করা, তাদেরকে নিজেদের অনুরূপ খাওয়া-দাওয়া প্রদান, পোশাক-আশাক দেওয়া ও বিশ্রাম ইত্যাদির ব্যবস্থা করতেও তিনি বারংবার তাগিদ দিয়েছেন। বস্তুত বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শ্রমিকদের সব প্রকার বঞ্চনা, অত্যাচার, নিপীড়ন আর গ্লানির অবসান করে এমন সব শ্রমনীতির প্রবর্তন করে গেছেন যার সিকি শতাংশও জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থা (আই.এল.ও) বিগত ১১৮ বছর ধরে মে দিবস উদযাপনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করতে পারে নি।</p>
<p>তাঁর এই গুণাবলী ও দৃষ্টিভঙ্গিতে মুগ্ধ বিখ্যাত দার্শনিক, সাহিত্যিক জর্জ বার্ণাড শ’ তাই বলতে কুণ্ঠাবোধ করেন নি,</p>
<blockquote><p>“If all the world was united under one leader, Mohammad would have been the best fitted man to lead the peoples of various creeds, dogmas and ideas to peace and happiness.”</p></blockquote>
<p><span style="color:#993300;"><b>নারী অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায়</b></span><b></b></p>
<p>নারীর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার বিষয়টি বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি। নারী মুক্তির প্রবক্তা হিসাবে আমরা হয়ত কেট মিলে (Kate Millet), জার্মেন গ্রীয়ার (Germaine Greer) বা অ্যানী নূরাকীন (Anee Nurakin) প্রমুখের নাম জানি; এক্ষেত্রে আরো উল্লেখ করা হয় মেরী উলস্টন, অ্যানী বেসামন্ত, মার্গারেট সাঙ্গাঁর, সুলতানা রাজিয়া, বেগম সাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ মহিলাদের সংগ্রামের ইতিহাস। কিন্তু মানব সভ্যতার ইতিহাসে নারীর অধিকার ও মর্যাদার জন্য যে ব্যক্তি প্রথম সোচ্চার হয়ে ওঠেন, নারীকে সংসার ও সমাজের অবিচ্ছেদ্য ও অপরিহার্য অংশ হিসাবে যে ব্যক্তি প্রথম স্বীকৃতি দেন, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে নারীর অধিকার পরিপূর্ণ আকারে যে ব্যক্তি প্রথম প্রতিষ্ঠা করেন, সত্যিকার অর্থে যিনি নারী জাগরণ ও নারী মুক্তির প্রবক্তা, তিনি হচ্ছেন ‘একজন পুরুষ’ এবং তিনি আর কেউ নন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। একথা আদৌ অত্যুক্তি হবে না যে, জীবনে অন্য কিছু না করলেও শুধুমাত্র নারী জাগরণের ক্ষেত্রে তাঁর অবদানই বিশ্ব মনীষায় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সুউচ্চ আসনে সুদৃঢ়ভাবে অধিষ্ঠিত করবে।</p>
<p>রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রথম পদক্ষেপ ছিল কন্যা শিশু হত্যা বন্ধ করা। তিনি বরং কন্যা শিশুর লালন-পালনকে নানাভাবে উৎসাহিত করেছেন এবং নিজেও তাঁর কন্যাদের লালন-পালন কালে সেটা করে দেখিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেন,</p>
<blockquote style="font-weight:bold;background-color:#fcf4d8;border-top:1px solid #003399;border-bottom:1px solid #003399;padding:7px;"><p><img alt="" src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif?w=593" />(পুরুষদের জন্যে) দুনিয়ার সবচেয়ে বড় নেয়ামত হচ্ছে উত্তম স্ত্রী।’’<a title="" href="#_ftn19">[19]</a></p></blockquote>
<p>অন্যদিকে নারীকে তিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পরে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশী মর্যাদার অধিকারী করেছেন। হাদীসে এসেছে,</p>
<blockquote style="font-weight:bold;background-color:#fcf4d8;border-top:1px solid #003399;border-bottom:1px solid #003399;padding:7px;"><p><img alt="" src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif?w=593" />আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মানুষের মধ্যে কে আমার কাছে সর্বোত্তম সম্মান, মর্যাদা ও সদ্ব্যবহার পাবার যোগ্য? তিনি বললেন, তোমার মা। সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। আবারও জিজ্ঞেস করলেন, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সাহাবী আবারো জিজ্ঞেস করলেন, তারপর কে? এবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার বাবা।<a title="" href="#_ftn20">[20]</a></p></blockquote>
<p>নারী মুক্তির দিশারী মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীকে শুধু বাঁচিয়ে রেখে মর্যাদা দিয়েই ক্ষান্ত হন নি, তিনি নারীকে যথাযথ অধিকার দিয়ে সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। নারীকে তিনি অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষাগত, আইনগত এবং ধর্মীয় সব দিক দিয়ে তার অধিকার নিশ্চিত করেছেন। এক্ষেত্রে তাঁর বৈপ্লবিক সিদ্ধান্তসমূহকে সংক্ষেপে এভাবে উল্লেখ করা যায় :</p>
<ul>
<li>ক. নারীকে পিতার সম্পত্তিতে, স্বামী, সন্তান ও মায়ের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী ধার্য করা হয়েছে।</li>
<li>খ. বিয়ের সময় নারীকে মোহরানা বা দেনমোহর প্রাপ্তি আবশ্যিক করেছেন এবং তা আদায় না করার বা তা থেকে জোর করে ব্যয় করার অধিকার স্বামী, পিতা বা ভাই কাউকে দেওয়া হয় নি।</li>
<li>গ. নারীকে স্বামী নির্বাচনের পূর্ণ অধিকার দেওয়া হয়েছে এবং ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে কোথাও বিয়ে দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে একজন অকর্মন্য, অত্যাচারী স্বামী থেকে বিবাহ বিচ্ছেদের পূর্ণ অধিকার নারীকে দেওয়া হয়েছে। একই সাথে বিধবা ও তালাকপ্রাপ্তা নারীকে ২য় বিবাহের বা পুনঃবিবাহের অধিকার দেওয়া হয়েছে।</li>
<li>ঘ. দেওয়ানী ও ফৌজদারী আইনে নারী-পুরুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেন নি তিনি।</li>
<li>ঙ. বিদ্যাশিক্ষা করা বা জ্ঞানার্জন করার ব্যাপারে নারীকে পুরুষের মতই সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘জ্ঞানার্জন করা প্রত্যেক মুসলিম (নরনারী) এর উপর ফরয বা অবশ্য কর্তব্য’’।</li>
<li>চ. অত্যাচার, অপমান, অশালীনতা ও অবমাননা থেকে নারীকে রক্ষার জন্যে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের পোশাক পরিধানে ও জনসমক্ষে চলাফেরার সময় একটি অনুসরণীয় পোষাক-বিধি (Dress Code) মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন।</li>
</ul>
<p><b>উপসংহার</b><b></b></p>
<p>মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে জীবনদর্শন, মানবিক মর্যাদার রূপরেখা, মানবাধিকারের পরিধি ও সীমা নির্দিষ্ট করেছেন তা মহান আল্লাহ তা‘আলারই অনুমোদিত জীবন বিধান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই জীবন বিধান যা মানবাধিকারের প্রথম মৌলিক এবং পূর্ণাঙ্গ দিক নির্দেশনা হিসাবে স্বীকৃত তা কেবল কোনো দলীল লিখিত নয়, কোনো স্বাক্ষরিত চুক্তি নয়, কোনো অনুকল্প নয় (hypothesis) , বরং তা হচ্ছে কঠোর বাস্তবতা। নিজের শৈশব থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ৬৩ বছরের প্রত্যক্ষ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেকে আদর্শ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে রত রেখে নিজের জীবদ্দশাতেই একটি ধ্বংসস্তুপ থেকে, একটি পুঁতিগন্ধময় অন্ধকার আস্তাকুড় থেকে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও মানবিক মুল্যবোধকে তুলে এনে এক সুষম, অনুসরণযোগ্য, সার্বজনীন কল্যাণকর সভ্যতা গড়ে তুলেছিলেন – মানবাধিকার, মানুষের মর্যাদা ও আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্যই ছিল যার ভিত্তি।</p>
<p>মানবতার মুক্তিদূত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনে এই অর্জন, এই স্পষ্ট সর্বজনগ্রাহ্য কল্যাণকর জীবন বিধান বিশ্বের অনেক গবেষক, সাহিত্যিক, দার্শনিক ও বিজ্ঞ ব্যক্তিদের দ্বারা শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি পেয়েছে। মাইকেল হার্ট ‘দ্য হানড্রেড’ গ্রন্থে একশ জন ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্বের ক্রম-বিন্যাস করেছেন। তালিকার প্রথমেই (অর্থাৎ ১ নম্বরে) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নির্দ্বিধায় দাঁড় করিয়ে তিনি লিখেছেন:</p>
<blockquote><p>“My choice of Muhammad to lead the list of the world’s most influential persons may surprise some readers and may be questioned by others, but he was the only man in history who was supremely successful on both religious and secular levels.”<a title="" href="#_ftn21">[21]</a></p></blockquote>
<p>নির্দ্বিধায় তাই বলা যায়, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানব মর্যাদা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ।</p>
<div>
<hr align="left" size="1" width="33%" />
<div>
<p><a title="" href="#_ftnref1">[1]</a> আল্-হাদীস, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৮৭১।</p>
<p><a title="" href="#_ftnref2">[2]</a> আল্-হাদীস, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩১৬৬।</p>
<p><a title="" href="#_ftnref3">[3]</a> আল্-হাদীস, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৭, ১০৫, ১৭৩৯।</p>
<p><a title="" href="#_ftnref4">[4]</a> সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১২৫১-১২৫৩।</p>
<p><a title="" href="#_ftnref5">[5]</a> কুরআনে বলা হয়েছে, ‘‘দারিদ্রের ভয়ে তোমাদের সন্তানকে হত্যা করো না, তাদেরকে এবং তোমাদেরকে আমি জীবনোপকরণ দিয়ে থাকি। নিশ্চয়ই তাদেরকে হত্যা করা এ জঘন্য অপরাধ’’। সূরা আল-ইসরা/বনী ইসরাইল: ৩১।</p>
<p><a title="" href="#_ftnref6">[6]</a> আল হাদীস, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫০৬৩।</p>
<p><a title="" href="#_ftnref7">[7]</a>  সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৭।</p>
<p><a title="" href="#_ftnref8">[8]</a> সূরা আল-মা’আরিজ: ২৪-২৫।</p>
<p><a title="" href="#_ftnref9">[9]</a> সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৪৮৪।</p>
<p><a title="" href="#_ftnref10">[10]</a> আল-বায়হাকী, মা‘রিফাতুস সুনান ওয়াল আসার, হাদীস নং ৫৭৫০।</p>
<p><a title="" href="#_ftnref11">[11]</a> আল-হাদীস, সুনান ইবনু মাজা, হাদীস নং ২৬৬৯ ও সুনান আত-তিরমিযী, হাদীস নং ২১৫৯।</p>
<p><a title="" href="#_ftnref12">[12]</a> সূরা আত-তূর: ২১।</p>
<p><a title="" href="#_ftnref13">[13]</a> সূরা আল-আন‘আম : ১৬৪।</p>
<p><a title="" href="#_ftnref14">[14]</a> সূরা আন-নিসা: ১৩৫।</p>
<p><a title="" href="#_ftnref15">[15]</a> সূরা আল-আম্বিয়া: ১০৭।</p>
<p><a title="" href="#_ftnref16">[16]</a> সূরা আল-‘আরাফ: ১৫৮।</p>
<p><a title="" href="#_ftnref17">[17]</a> হাদীস নং ৭৩৭৬, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬১৭২।</p>
<p><a title="" href="#_ftnref18">[18]</a> সুনান আবি দাউদ, হাদীস নং ৪৯৪৩, সুনান আত-তিরমিযি, হাদীস নং ১৯২৪।<br />
<a title="" href="#_ftnref19">[19]</a> মুসলিম, ১৪৬৭।<br />
<a title="" href="#_ftnref20">[20]</a> আল-হাদীস, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৯৭১।</p>
<p><a title="" href="#_ftnref21">[21]</a> প্রাগুক্ত, পৃ.৫৫।</p>
</div>
</div>
</div>
<br />Filed under: <a href='http://bnislam.com/category/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be/'>বাংলা</a> Tagged: <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%85%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%86%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a6%a3/'>অমানবিক আচরণ</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%81-%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf/'>আবু বকর মুহাম্মাদ জাকারিয়া</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%98/'>জাতিসংঘ</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%85%e0%a6%a7%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%93-%e0%a6%ae%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be/'>নারী অধিকার ও মর্যাদা</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%a7%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0/'>নারীধিকার</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9-%e0%a6%93-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0/'>বিবাহ ও পরিবার</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9e%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a7%80/'>মাঞ্জুরে ইলাহী</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0/'>মানাবাধিকার</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%88%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%86%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%9f/'>রাজনৈতিক আশ্রয়</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be/'>সম্পত্তির মালিকানা</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a6%be/'>স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%9a%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%b2/'>স্বাধীনভাবে চলাচল</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/human-rights/'>Human Rights</a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bnislaam.wordpress.com/2810/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bnislaam.wordpress.com/2810/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bnislam.com&#038;blog=14847374&#038;post=2810&#038;subd=bnislaam&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://bnislam.com/2013/04/07/human-rights-in-islam/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>2</slash:comments>
	
		<media:content url="http://1.gravatar.com/avatar/d9d4481fa439526a301e6cf04e2bdc3b?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">bnislaam</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2013/04/plaatje-christopher-human-rights.jpg" medium="image">
			<media:title type="html"> Human-Rights</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif" medium="image" />

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif" medium="image" />

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif" medium="image" />

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif" medium="image" />

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif" medium="image" />

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif" medium="image" />

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif" medium="image" />

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif" medium="image" />

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif" medium="image" />

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif" medium="image" />

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif" medium="image" />

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif" medium="image" />

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif" medium="image" />

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif" medium="image" />

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif" medium="image" />

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif" medium="image" />

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif" medium="image" />
	</item>
		<item>
		<title>আল্লাহর জন্য ভ্রাতৃত্ব (পর্ব: ১)</title>
		<link>http://bnislam.com/2013/02/18/brotherhood-in-islaam/</link>
		<comments>http://bnislam.com/2013/02/18/brotherhood-in-islaam/#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 19 Feb 2013 01:19:59 +0000</pubDate>
		<dc:creator>bn.islaam</dc:creator>
				<category><![CDATA[তাজকিয়া]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলা]]></category>
		<category><![CDATA[আল্লাহর জন্য ভ্রাতৃত্ব]]></category>
		<category><![CDATA[ভ্রাতৃত্ব]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://bnislam.com/?p=2791</guid>
		<description><![CDATA[লেখক : আখতারুজ্জামান মুহাম্মদ সুলাইমান সম্পাদনা : কাউসার বিন খালেদ সমকালীন চৈতন্য জগতে, চিন্তাশীল ব্যক্তিমাত্রই, দৃষ্টিপাত করে লক্ষ্য করবেন, এবং বিমূঢ় হবেন যে, বোধ, চেতনা এবং চিন্তায় ব্যাপক পতন—উদ্দিষ্ট মর্মের তোয়াক্কা না করেই যত্রতত্র ব্যাখ্যা করা হচ্ছে বিভিন্ন শব্দের। এ &#8230; <a href="http://bnislam.com/2013/02/18/brotherhood-in-islaam/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bnislam.com&#038;blog=14847374&#038;post=2791&#038;subd=bnislaam&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<div style="font-size:14px;text-align:justify;">
<h4>লেখক : আখতারুজ্জামান মুহাম্মদ সুলাইমান</h4>
<h4>সম্পাদনা : কাউসার বিন খালেদ</h4>
<p>সমকালীন চৈতন্য জগতে, চিন্তাশীল ব্যক্তিমাত্রই, দৃষ্টিপাত করে লক্ষ্য করবেন, এবং বিমূঢ় হবেন যে, বোধ, চেতনা এবং চিন্তায় ব্যাপক পতন—উদ্দিষ্ট মর্মের তোয়াক্কা না করেই যত্রতত্র ব্যাখ্যা করা হচ্ছে বিভিন্ন শব্দের। এ গোত্রেরই একটি শব্দ হচ্ছে الأخوة في الله বা আল্লাহর জন্য ভ্রাতৃত্ব।</p>
<p>الأخوة في الله বা আল্লাহর জন্য ভ্রাতৃত্ব সে মজবুত দৃঢ় বন্ধন, যা প্রেমিক ও প্রেমাস্পদের মাঝে সুদৃঢ় বন্ধন অটুট রাখে ; এ প্রেমের বন্ধন অন্য কিছু নয়, কেবল প্রেমিক ও প্রেমাস্পদের মাঝে আল্লাহর নৈকট্য সঞ্জাত প্রেম। ‘মোহাব্বাত’ বা প্রেম-ভালোবাসাকে, মুসলিম মনীষী ইমাম নববী, সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে—যা প্রেমিকের ‘মত’, তার প্রতি ঝোঁক। ইবনে হাজর রহ. এর ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে—ঝোঁক দ্বারা উদ্দেশ্য যা সর্বতোভাবে ঐচ্ছিক—পিতা-মাতা-বা যাদের সাথে সম্পর্ক-ভালোবাসা প্রাকৃতিক, এবং যে প্রেম-ভালোবাসা চাপিয়ে দেয়া—তা নয়। ভালোবাস হচ্ছে, যাকে কল্যাণময় বলে জ্ঞান করে, বিশ্বাস করে, তা উদ্দেশ্য করা।[১]</p>
<p>সৎ ভ্রাতৃত্ব মানুষের আদি স্বভাবের গভীরে প্রোথিত, যা পর্যবসিত হয় নিজের উপর অন্যকে প্রাধান্য দেয়ায়। আবু হুরাইরা রা. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে তার, ও তার মায়ের জন্য মোমিনদের সাথে ভালোবাসার সম্পর্কের দোয়া প্রার্থনা করেছিলেন। রাসূল দোয়া করে বলেছিলেন—হে আল্লাহ ! আপনার মোমিন বান্দাদের মাঝে এই বান্দা ও তার মায়ের প্রতি ভালোবাসা ছড়িয়ে দিন। এবং তাদের কাছেও মোমিনদের প্রিয় করে তুলুন।[২] কুরআনে আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন—</p>
<blockquote><p> ভ্রাতৃগণ সেদিন পরস্পর পরস্পরের শত্র“ হবে—মুত্তাকীগণ ব্যতীত।[৩]</p></blockquote>
<p>কারণ, মুত্তাকীগণ ব্যতীত অন্যদের ভ্রাতৃত্ব পার্থিবে ছিল আল্লাহ ব্যতীত ভিন্ন কারো জন্য ; তাই কেয়ামত দিবসে তা পরিবর্তিত হয়েছে শত্র“তায়। তবে, যারা শিরক ও পাপাচারে তাকওয়া অবলম্বন করেছে, তাদের ভ্রাতৃত্ব অক্ষয়-অটল, যে যাবৎ আল্লাহই হবেন তাদের ভালোবাসার একমাত্র সূত্র, তাদের ভ্রাতৃত্ব অব্যাহত থাকবে।[৪] অপর স্থানে আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন</p>
<blockquote><p>অত:পর তারা যদি তওবা করে, সালাত কায়েম করে, এবং জাকাত আদায় করে, তবে তারা তোমাদের দীনের ভাই, আমি জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য আয়াতগুলো স্পষ্ট করে দেই।[৫]</p></blockquote>
<p>আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ভ্রাতৃত্বের মৌলিক ভিত্তি হচ্ছে পাপ হতে তওবা, সালাত কায়েম, জাকাত আদায়। ভিন্ন আয়াতে আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন—</p>
<blockquote><p> মুত্তাকীরা থাকবে জান্নাতে, প্রস্রবণসমূহের মাঝে ; তাদের বলা হবে, তোমরা শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে তাতে প্রবেশ কর ; আমি তাদের অন্তর হতে বিদ্বেষ দূর করব ; তারা ভ্রাতৃভাবে পরস্পর মুখোমুখি হয়ে আসনে অবস্থান করবে। সেখানে তাদেরকে অবসাদ স্পর্শ করবে না, এবং তারা সেখান থেকে বহিষ্কৃতও হবে না।[৬]</p></blockquote>
<p>উপরোক্ত আয়াত ও পূর্ববর্তী আলোচনা হতে আমরা দেখতে পাই যে, তাকওয়া ভিত্তিক ভ্রাতৃত্ব ব্যতীত যে কোন ভ্রাতৃত্ব ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। যাদের ভ্রাতৃত্ব আল্লাহর জন্য, আল্লাহকে ভিত্তি করে, তা অক্ষয়। জান্নাতে প্রবেশ অবধি অব্যাহত।</p>
<h3>ভ্রাতৃত্বের মৌল ভিত্তি</h3>
<p>ভ্রাতৃত্বের মৌল ও একক ভিত্তি হচ্ছে আল্লাহর উদ্দেশ্যে ভালোবাসা। আর ‘আল্লাহর উদ্দেশ্যে ভালোবাসা’-র মৌল ভিত্তি হচ্ছে প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহ যা পছন্দ করেন, তা নির্বাচন করা। আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন, পছন্দ করেন পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের। যারা এহসানকারী, মুত্তাকী, ধৈর্যশীল, ন্যয়পরতা অবলম্বনকারী, আল্লাহর রাস্তায় জোটবদ্ধ হয়ে অংশগ্রহণ যাদের একান্ত কাম্য—আল্লাহ এদের সবাইকে আপন করে নিয়েছেন। আল্লাহর জন্য অপছন্দ করার মৌল ভিত্তিও, এমনিভাবে, হচ্ছে আল্লাহ যা অপছন্দ করেন, সকলের জন্য তা অপছন্দ করা। আল্লাহ তাআলা অপছন্দ করেন জালেম ও সীমা-লঙ্ঘন কারীদের ; অপব্যয়ী, বিশৃঙ্খলা বিস্তারকারী, খিয়ানত ও অহংকার অবলম্বীদের তিনি আপন করেন না। যে ভ্রাতৃত্ব আল্লাহর জন্য, তা হবে সর্বব্যাপী, তাবৎ মোমিনদের পরিবেষ্টন করবে তা। তবে, তারতম্য হবে তাদের কল্যাণের উপর ভিত্তি করে। পাপাচারে লিপ্ত হয়ে, সুতরাং, অত:পর তা হতে তওবা করেছে, কিংবা যার উপর ইসমালী শরিয়া ভিত্তিক আইনি শাস্তি কার্যকরী হয়েছে, তার সঙ্গে শত্র“তার আচরণ করা যাবে না,—যতক্ষণ সে ইসলামের গণ্ডিতে নিজেকে আবদ্ধ রাখে ; রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, এক হাদিসে পাওয়া যায়, জনৈক সাহাবীর উপর অভিশাপ প্রদানে বাধা দিচ্ছেন, যার উপর মদ্য-পানের শাস্তি কার্যকর করা হয়েছিল। এই নিষেধাজ্ঞা কয়েকবার উচ্চারণ করে তিনি বলেন : তোমরা তাকে লা’নত (অভিশাপ) দিয়ো না, আল্লাহর শপথ ! আমি নিশ্চিত যে সে আল্লাহ ও তার রাসূলকে ভালোবাসে।[৭]</p>
<blockquote><p>এ হাদিসের উপর ভিত্তি করে ইবনে হাজরের মন্তব্য—পাপীর অন্তরে পাপের সংঘটন এবং আল্লাহ ও তার রাসূলের ভালোবাসা একই সময়ে সহাবস্থান সম্ভব। পুন: পুন: পাপ সংঘটনের পরও পাপীর অন্তর হতে আল্লাহ ও তার রাসূলের ভালোবাসা ছিনিয়ে নেয়া হয় না।[৮]</p></blockquote>
<p>উপরোল্লেখিত আলোচনা হতে এ স্পষ্ট যে, ভ্রাতৃত্ব কখনো ব্যক্তিক হতে পারবে না, বরং ব্যক্তির সাথে কেবল তখনি ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হবে যখন সে আল্লাহর নৈকট্য দ্বারা নৈর্ব্যক্তিক হয়ে উঠবে। ভ্রাতৃত্বের পরিমাণে তারতম্য হবে আল্লাহর সাথে নৈকট্যের তারতম্যের ভিত্তিতে। প্রেমাস্পদ যতটা আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত, তার সাথে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনও হবে ততটা দৃঢ় ও মজবুত। আল্লাহর সাথে নৈকট্য ও দূরত্বের ভিত্তিতেই তারতম্য হবে ভ্রাতৃত্বে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদেরকে এক নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য লাঞ্ছনার বদ-দোয়া করতে শুনলেন, তিনি তাদেরকে এই বলে বাধা দিলেন যে, তোমরা তোমাদের ভাইয়ের বিপক্ষে শয়তানের সহযোগী হয়ো না।[৯] কারণ, নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি তাদের বদ-দোয়া শুনে তার ভ্রান্তি উত্তরোত্তর বৃদ্ধিই পাবে বৈ হ্রাস পাবে না ; এভাবে, সে ক্রমে আল্লাহ হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। বরং, তিনি তাদেরকে নির্দেশ দিলেন যে, তোমরা তার মাগফিরাতের দোয়া কর, তাকে উপদেশ প্রদান কর—হয়তো এভাবেই সে পাপাচার পরিত্যাগে উদ্যোগী হয়ে উঠবে।</p>
<h4>‘আল্লাহর জন্য ভ্রাতৃত্ব’ মর্মের মানদণ্ড</h4>
<p>আল্লাহর জন্য ভ্রাতৃত্ব, যা ব্যতীত ঈমান কখনো পূর্ণতা লাভ করে না, তার মৌলিক মানদণ্ড হচ্ছে—যা রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের অবগত করিয়েছেন এই বলে—সে সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ ! তোমাদের কেউ ততক্ষণ মোমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে যে-কল্যাণ নিজের জন্য পছন্দ করে, তার ভাইয়ের জন্যও তা পছন্দ করে।[১০] কিরমানী এর সাথে আরো সংযোজন করেন—এবং ঈমানের অন্যতম অঙ্গ হচ্ছে যে-অকল্যাণ নিজের জন্য অপছন্দ করে, তা তার ভাইয়ের জন্যও অপছন্দ করবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়টি উল্লেখ করেননি, কারণ, কোন কিছুকে ভালোবাসা বা পছন্দ করার অনিবার্য অর্থই হচ্ছে তার বিপরীত বিষয়কে অপছন্দ করা। তাই, রাসূল কেবল পছন্দনীয় বিষয়ের উল্লেখের মাঝেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন।[১১] আল্লামা ইবনে উসাইমিন, হাদিসটির ব্যাখ্যায় আরো সংযোজন করেন যে, এই শর্ত ব্যতীত পরিপূর্ণ মোমিন হবে না : কল্যাণের যা নিজের জন্য পছন্দ করে, তা তার ভাইয়ের জন্যও পছন্দ করবে&#8230;ফলে সে সক্ষম হবে না তাদের সাথে প্রতারণা করতে, খিয়ানত করতে, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করতে এবং সে সক্ষম হবে না তাদের বিরুদ্ধে জুলুম করতে—যেভাবে সে সক্ষম হয় না বা তার পক্ষে সম্ভব নয় নিজের ক্ষেত্রে এ আচার অবলম্বন করতে। এ হাদিস প্রমাণ করে, ব্যক্তি নিজের জন্য পছন্দনীয় কোন বিষয় যদি তার ভাইয়ের জন্য অপছন্দ করে, বা নিজের জন্য যা পছন্দ করে না, যদি তার ভাইয়ের জন্য তা পছন্দ করে (নির্বাচন করে) তবে সে মোমিন নয়। অর্থাৎ তার ঈমান পরিপূর্ণতা সমৃদ্ধ নয়। এবং এ ধরনের আচার কবিরা গুনাহ ভুক্ত।[১২]</p>
<h4>বন্ধু বা সঙ্গীর মাঝে যে সমস্ত গুণ আবশ্যকীয়</h4>
<p>মুসলমান মাত্রই অপর মুসলমানের কাছে দীনী ভাই। এর মানে এই নয় যে, আমরা সকলের সাথে ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলি। নিম্নে আমরা এমন কিছু গুণ উল্লেখ করব, যা বন্ধু বা সঙ্গীর মাঝে থাকা আবশ্যকীয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন—</p>
<p>মানুষ তার বন্ধুর ধর্মই গ্রহণ করে। সুতরাং, তোমাদের প্রত্যেকেই যেন বন্ধু নির্বাচনে সতর্কতা অবলম্বন করে।[১৩] এ গুণ সমূহের মাঝে অন্যতম হচ্ছে—</p>
<p>বন্ধু হতে হবে মুসলমান, যে তার কথায়, কর্মে দীনকে আঁকড়ে থাকবে। সৎকাজের আদেশ দেবে, অসৎ কাজে বাধা প্রদান করবে।<br />
ইসলামের আচরণীয় গুণ দ্বারা সমৃদ্ধ হবে, অভ্যাস ও আচরণে যা সুন্দর, সু-শোভনীয় বলে গৃহীত, তা রক্ষা করবে সযতে।<br />
বন্ধুকে হতে হবে পরিচ্ছন্ন মানসিকতার অধিকারী, যাবতীয় কলুষতা ও ত্র“টি হতে বিমুক্ত, আল্লাহ তাআলা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশের উপর অবিচল ও দৃঢ়। কারণ, দুরাচার ও কুসংস্কারে আচ্ছন্ন কোন ব্যক্তির সাথে বন্ধুতার কোন অর্থ নেই। তাকে বিশ্বাস করা যায় না, তার আচার ও ব্যবহার সতত পরিবর্তনশীল। এমনিভাবে, তার সাহচর্য, এমনকি তার কৃতকর্মের দর্শনও বর্জনীয় সর্বার্থে। এর ফলে অন্তরে পাপের বিষয়টি লঘু হয়ে যায়, বিলুপ্ত হয় তার প্রতি ঘৃণা।<br />
পার্থিবের প্রতি লোভী হতে পারবে না। কারণ, এটি পার্থিবের প্রতি আসক্তের গুণ।[১৪] এবং এ আসক্তি খুবই সাময়িক। এক কবি বলেন : ‘যখন গুনবে, দেখবে মানুষ অসংখ্য, কিন্তু বিপদকালীন কাউকেই খুঁজে পাবে না।’</p>
<p>উপরোক্ত আলোচনাকে আমরা উমর ফারুক রা.-এর কথায় প্রতিফলিত এবং মৌলিক বক্তব্য হিসেবে দেখতে পাই। তিনি বলেন :—তুমি সৎ ভ্রাতৃগণের সংসর্গ অবলম্বন কর, নিজেকে তাদের বলযে মিশিয়ে দাও। কারণ, স্বাচ্ছন্দ্যে তারা সৌন্দর্য হয়ে উপস্থিত হবে, বিপদে আসবে দুর্গ হয়ে। তোমার ভাইয়ের বিষয়টি (যদি সে কোন অপ্রীতিকর কিছু করে ফেলে) উত্তমভাবে বিবেচনা কর যতক্ষণ এ বিষয়ে ব্যাখ্যার কোন সূত্র না পাও। এবং এ বিষয়ে তার সাথে তুমি দূরত্ব বজায় রাখ, তোমার গোপন বিষয় (অর্থাৎ, তুমি যে জান, সে বিষয়টি) তাকে অবগত করিয়ো না, এবং দীনের ব্যাপারে এমন ব্যক্তিদের পরামর্শ তুমি গ্রহণ কর, যারা আল্লাহকে ভয় করে।[১৫]</p>
<p>উপরোক্ত গুণাবলি সমৃদ্ধ ব্যক্তির সন্ধান পেলেই কেবল তার সাথে বন্ধুত্ব করবে, কারণ, আমরা এমন এক সময়ে বাস করি, যে সময়ে সৎ বন্ধু ও সঙ্গী পাওয়া খুবই দুর্লভ।<br />
[১] ফতহুল বারি : ১/৫৮</p>
<p>[২] মুসলিম।</p>
<p>[৩] সূরা যুখরুফ : ৬৭</p>
<p>[৪] সা’দীর তাফসীর : পৃষ্ঠা : ৭৬৯</p>
<p>[৫] সূরা তওবা : আয়াত : ১১</p>
<p>[৬] সূরা হিজর : ৪৫-৪৮</p>
<p>[৭] বোখারি : ৬৭৮</p>
<p>[৮] ফতহুল বারি : ১২/৬৭৮</p>
<p>[৯] বোখারি : ৬৭৮</p>
<p>[১০] মুত্তাফাক আলাইহি</p>
<p>[১১] ফতহুল বারি ৫৮/১</p>
<p>[১২] শরহু রিয়াযুস সালিহীন : ইবনে উসাইমিন ৬৪১/১</p>
<p>[১৩] আবু দাউদ : ২০৬২/৪, তিরমিজি : ৫০৯/৪</p>
<p>[১৪] আল উখুওয়াত : জাসিম বিন মুহাম্মদ আল ইয়াসিন, পৃষ্ঠা : ৯-১১</p>
<p>[১৫] মুখতাসারু মিনহাজিল কাসিদীন : ইবনে কুদামা, পৃষ্ঠা : ১১৪</p>
</div>
<br />Filed under: <a href='http://bnislam.com/category/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be/%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be/'>তাজকিয়া</a>, <a href='http://bnislam.com/category/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be/'>বাংলা</a> Tagged: <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ac/'>আল্লাহর জন্য ভ্রাতৃত্ব</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ac/'>ভ্রাতৃত্ব</a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bnislaam.wordpress.com/2791/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bnislaam.wordpress.com/2791/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bnislam.com&#038;blog=14847374&#038;post=2791&#038;subd=bnislaam&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://bnislam.com/2013/02/18/brotherhood-in-islaam/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>1</slash:comments>
	
		<media:content url="http://1.gravatar.com/avatar/d9d4481fa439526a301e6cf04e2bdc3b?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">bnislaam</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>কবীরা গুনাহ &#8211; ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর</title>
		<link>http://bnislam.com/2013/02/01/%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b9-%e0%a6%a1-%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b9/</link>
		<comments>http://bnislam.com/2013/02/01/%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b9-%e0%a6%a1-%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b9/#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 01 Feb 2013 04:30:40 +0000</pubDate>
		<dc:creator>bn.islaam</dc:creator>
				<category><![CDATA[ভিডিও]]></category>
		<category><![CDATA[আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর]]></category>
		<category><![CDATA[ওয়াজ]]></category>
		<category><![CDATA[কবিরা গুনাহ]]></category>
		<category><![CDATA[খন্দকার আ.ন.ম আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলা ইসলামিক লেকচার]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://bnislam.com/?p=2776</guid>
		<description><![CDATA[কবীরা গুনাহ হচ্ছে যে সমস্ত কার্যকলাপকে আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা কুরআনে ও রাসুল (সা:) এর সুন্নাহতে নিষিদ্ধ করেছেন ও যা প্রথম প্রজন্মের মুসলিমদের কর্মের মাধমে সুস্পষ্ট হয়েছে। কবীরা গুনাহ নির্ধারনে স্কলারদের মধ্যে কিছুটা মত পার্থক্য আছে। কেউ কেউ “সাতটি জঘন্য কাজ &#8230; <a href="http://bnislam.com/2013/02/01/%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b9-%e0%a6%a1-%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b9/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bnislam.com&#038;blog=14847374&#038;post=2776&#038;subd=bnislaam&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p>কবীরা গুনাহ হচ্ছে যে সমস্ত কার্যকলাপকে আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা কুরআনে ও রাসুল (সা:) এর সুন্নাহতে নিষিদ্ধ করেছেন ও যা প্রথম প্রজন্মের মুসলিমদের কর্মের মাধমে সুস্পষ্ট হয়েছে। কবীরা গুনাহ নির্ধারনে স্কলারদের মধ্যে কিছুটা মত পার্থক্য আছে। কেউ কেউ “সাতটি জঘন্য কাজ থেকে বিরত থাক” এই হাদীসের উপর ভিত্তি করে বলেন কবীরা গুনাহ হচ্ছে শুধুমাত্র সাতটি: আল্লাহর সাথে শিরক করা; যাদু; অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা; এতিমের সম্পদ ভোগ করা; সুদ নেওয়া; যুদ্ধ ক্ষেত্রথেকে উপযুক্ত কারন ব্যতিত পলায়ন করা; এবং কোন সৎচরিত্রাবান নারীর বিরুদ্ধ অপবাদ দেওয়া (মুসলিম ও বুখারী)। আব্দুল্লাহ ইবনে আবাস বলেনঃ “সাত নয় বরং এর সংখ্যা ৭০ এর কাছাকাছি”। </p>
<p>শাইখ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর এই আলোচনায় কবীরা গুনাহ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন:</p>
<p><span class='embed-youtube' style='text-align:center; display: block;'><iframe class='youtube-player' type='text/html' width='593' height='364' src='http://www.youtube.com/embed/p_UHVUOfDhQ?version=3&#038;rel=1&#038;fs=1&#038;showsearch=0&#038;showinfo=1&#038;iv_load_policy=1&#038;wmode=transparent' frameborder='0'></iframe></span><br />
<span class='embed-youtube' style='text-align:center; display: block;'><iframe class='youtube-player' type='text/html' width='593' height='364' src='http://www.youtube.com/embed/seJWPkfaNO0?version=3&#038;rel=1&#038;fs=1&#038;showsearch=0&#038;showinfo=1&#038;iv_load_policy=1&#038;wmode=transparent' frameborder='0'></iframe></span></p>
<br />Filed under: <a href='http://bnislam.com/category/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be/%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%a1%e0%a6%bf%e0%a6%93/'>ভিডিও</a> Tagged: <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b9-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a7%80%e0%a6%b0/'>আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%9c/'>ওয়াজ</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b9/'>কবিরা গুনাহ</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%96%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%86-%e0%a6%a8-%e0%a6%ae-%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b9-%e0%a6%9c/'>খন্দকার আ.ন.ম আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0/'>বাংলা ইসলামিক লেকচার</a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bnislaam.wordpress.com/2776/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bnislaam.wordpress.com/2776/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bnislam.com&#038;blog=14847374&#038;post=2776&#038;subd=bnislaam&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://bnislam.com/2013/02/01/%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b9-%e0%a6%a1-%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b9/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
	
		<media:content url="http://1.gravatar.com/avatar/d9d4481fa439526a301e6cf04e2bdc3b?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">bnislaam</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>রমযানের উদ্দেশ্য</title>
		<link>http://bnislam.com/2012/07/21/%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%af/</link>
		<comments>http://bnislam.com/2012/07/21/%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%af/#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 21 Jul 2012 17:35:26 +0000</pubDate>
		<dc:creator>bn.islaam</dc:creator>
				<category><![CDATA[বাংলা]]></category>
		<category><![CDATA[রমযান]]></category>
		<category><![CDATA[রমজান]]></category>
		<category><![CDATA[রোযা]]></category>
		<category><![CDATA[সাওম]]></category>
		<category><![CDATA[Ramadaan]]></category>
		<category><![CDATA[Ramdan]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://bnislaam.wordpress.com/?p=352</guid>
		<description><![CDATA[মুসলিমদের প্রত্যেক ইবাদতের কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকে। আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা আশা করেন তার বান্দারা সে সমস্ত ইবাদত সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করুক, তা উপলব্ধি করুক এবং তা সফলভাবে পালন করুক। অনেকগুলো ধমী্র্য় কাজের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রোজা রাখা অর্থাৎ &#8230; <a href="http://bnislam.com/2012/07/21/%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%af/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bnislam.com&#038;blog=14847374&#038;post=352&#038;subd=bnislaam&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<div style="font-size:14px;">
<p>মুসলিমদের প্রত্যেক ইবাদতের কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকে। আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা আশা করেন তার বান্দারা সে সমস্ত ইবাদত সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করুক, তা উপলব্ধি করুক এবং তা সফলভাবে পালন করুক। অনেকগুলো ধমী্র্য় কাজের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রোজা রাখা অর্থাৎ আল্লাহর জন্য অভুক্ত থাকা যা পালন করা হয় আরবী মাস রমজানে। এই মাসের অনেক গুলো উদ্দেশ্য আছে যা পালন করার জন্য অবশ্যই মুসলিমদের তাদের হৃদয়  দিয়ে এবং কাজের মাধমে সংগ্রাম করতে হবে। উদ্দেশ্য গুলো নিম্নে দেওয়া হলঃ</p>
<p><strong>১। তাকওয়া অর্জন করা যা মানুষের মনে আল্লাহ ভীতি সৃষ্টি করে।</strong> আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ</p>
<blockquote>
<p style="text-align:center;color:blue;">হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে,  যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যাতে তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে  পার । (সুরা ২ আয়াতঃ ১৮৩)</p>
</blockquote>
<p>রোযা রাখার অর্থ  হছে তাকওয়া অর্জন করা। মূলত সকল ধমী্র্য় কাজ এবং তাওহীদ হছে তাকওয়া অর্জনের এর পদ্ধতি। আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ</p>
<blockquote>
<p style="text-align:center;color:blue;">হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর, যিনি তোমাদিগকে এবং  তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন।তাতে আশা করা যায়, তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পারবে। (সুরা ২ আয়াতঃ ২১)</p>
</blockquote>
<p><strong>২। আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে পুরস্কারের আশায়। </strong>আল বোখারী  এবং মুসলিম শরিফে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেছেনঃ</p>
<blockquote>
<p style="text-align:center;color:green;">আল্লাহ সুবাহানাহু তা্যালা বলেছেনঃ আদম সন্তানের সকল ইবাদত তার নিজের জন্ন্য শুধুমাত্র রোযা ব্যতিত। রোযা আমার জন্ন্য আমি নিজেই এর প্রতিদান দিব।</p>
</blockquote>
<p><strong>৩। হযরত মুহাম্মদ (সঃ) আর বলেছেনঃ</strong></p>
<blockquote>
<p style="text-align:center;color:green;">‘ একটি রোযার কারনে মানুষ দুইটি খুশীর মুহুর্ত  পায়, যখন সে রোযা শেষে ইফতার করে তখন এবং যখন সে তার প্রভুর সাথে মিলিত হয় শুধু মাত্র তার রোযার কারণে। (আল বখারি এবং মুস্লিম)’</p>
</blockquote>
<p>এই হাদীসের প্রেক্ষিতে বুঝা যাই যে,<em> ‘যখন রোযাদার রোযা শেষে ইফতার করে তখন সে অনেক খুশী হয়’</em> এবং ইমাম মুসলিম সংযোজন করেন ”রোজা শেষ হওয়ার কারনে”। ইমাম করতুবির মতে খুশীর কারন হচ্ছে <em>তখন তার ক্ষুধা এবং  তৃষ্ণার অবসান ঘটে এবং  তখন তার ইফতারের  জন্য কোন বাধা থাকে না। এই খুশী হচ্ছে প্রাকৃতিক। ইহা আবশই বলা যাই যে, রোযাদার খুশী হয় এই জন্য যে, সে তার রোযা কে পরিপূর্ন করতে পেরেছে এবং সে সর্বোচ্চ সীমায় ধমী্র্য় বিধান পালন করতে পেরেছে। যখন সে তার প্রভুর সাথে মিলিত হবে তখন সে খুশী হবে কারণ তার প্রভু থাকে তার রোযার কারণে অনেক পুরুষ্কৃত করবেন।</em></p>
<p><strong>৪। রোযা আমাদের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে </strong>এবং আল্লাহ তায়ালার বাধ্য থাকার অভ্যাস অর্জনে করতে সাহায্য করে এবং আমাদের হৃদয়ের অনাকাংখিত ইচ্ছাকে চূর্ণ করে দেয়। রোযা আমাদেরকে শিখা দেয় কিভাবে নফসের অনাকাংখিত ইচ্ছাকে সংযত করা যায় এবং সাহায্য করে কিভাবে আল্লাহ তায়ালার বাধ্য থাকা যায়। শয়তান খুব শক্ত ভাবে আমাদের অন্তরকে আঁকডে ধরে রাখে তার ইচ্ছাকে পরিপুর্ণ  করার জন্য এবং তার বাধ্য থাকার জন্য।</p>
<p><strong>৫। জাহান্নামের আগুণ থেকে বাঁচার জন্য।</strong> হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেছেনঃ</p>
<blockquote>
<p style="text-align:center;color:green;">আল্লাহ অনেক পাপীষ্টকে দোযকের আগুন থেকে মুক্তি দেন এবং প্রতিরাতে এটি সম্পাদিত হয়।(অর্থাৎ রমযানের প্রতিরাতে) [আত-তিরমিযী এবং ইবনে মাজাহ ]</p>
</blockquote>
<p><strong>৬। হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেছেনঃ</strong></p>
<blockquote>
<p style="text-align:center;color:green;">‘ রোযা এবং কুরআন বান্দাদের পক্ষে সুপারিশ করবে। রোযা বলবে, হে আমার প্রভু আমি তাকে দিনের খাবার থেকে বিরত রেখেছি এবং তোমার বাধ্য থাকার জন্য সাহায্য করেছি। তুমি আমার মতামত কে তার জন্য গ্রহন কর, এবং কুরআন বলবে আমি তাকে রাতের ঘুম থেকে বিরত রেখেছি, তুমি আমার মতামত কে তার জন্য গ্রহন কর, এবং তারা উভয়ে আল্লাহ তায়ালার কাছে গ্রহন যোগ্য হবে। (আহমেদ আল হাকীম এবং বায়হাকি)</p>
</blockquote>
<p><strong>৭।  এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই যে</strong>, রোযার মাধ্যমে পাপের ক্ষমা পাওয়া যায় এবং রোযা আমাদের পাপকে মুছে দেয়। হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেছেনঃ</p>
<blockquote>
<p style="text-align:center;color:green;">‘পাঁচ ওয়াক্ত নামায, এক জুমা থেকে আর এক জুমা এবং এক রমযান থেকে আর এক রমযান, এইগুলি দুইয়ের মাঝখানে যে পাপ হয় [অর্থাৎ দুই ইবাদতের মধ্যবর্তী পাপসমূহ] তা মুছে দেয় যদি কবীরা গুণাহ এড়িয়ে চলে। (মুসলিম)</p>
</blockquote>
<p>হযরত মুহাম্মদ (সঃ) আরো বলেছেনঃ</p>
<blockquote>
<p style="text-align:center;color:green;">যে কেউ রমযানের রোযা রাখে বিশ্বাসের সাথে তার পুর্ববতী গুণাহসমূহ আল্লাহ তায়ালা মাফ করে দেন। (আল বুখারী ও মুসলিম)</p>
</blockquote>
<p>ইমাম আহমদ এবং নাসীর মতে, যদি রমযানের পরে কোন পাপ হয় তা ও আল্লাহ তায়ালা মাফ করে দিবেন। বিশ্বাসের সাথে রোযা রাখা ও আল্লাহ তায়ালার অনুগত থাকা এবং রমযানের রোযা রাখা অনিবার্য । রোযা রাখতে হবে পুরষ্কারের আশায়। অতএব শুধুমাত্র  আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য রোযা রাখতে হবে। কখনো অন্য মানুষকে অনুসরণ করে এবং অন্যদের দেখানোর জন্য রোযা রাখা উচিত নয়।</p>
</div>
<p><strong>Source</strong>: <a href="http://www.sunnahonline.com/library/sunnah/0048.htm" target="_blank"> <strong>The Goals of Fasting</strong> -   <em>The Muslim Creed (Vol. 9, Issue 10), Sha&#8217;ban 1422 Published by the Society of Islamic Heritage</em></a></p>
<br />Filed under: <a href='http://bnislam.com/category/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be/'>বাংলা</a>, <a href='http://bnislam.com/category/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be/%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8/'>রমযান</a> Tagged: <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be/'>বাংলা</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8/'>রমজান</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8/'>রমযান</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%af%e0%a6%be/'>রোযা</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%ae/'>সাওম</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/ramadaan/'>Ramadaan</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/ramdan/'>Ramdan</a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bnislaam.wordpress.com/352/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bnislaam.wordpress.com/352/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bnislam.com&#038;blog=14847374&#038;post=352&#038;subd=bnislaam&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://bnislam.com/2012/07/21/%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%af/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>1</slash:comments>
	
		<media:content url="http://1.gravatar.com/avatar/d9d4481fa439526a301e6cf04e2bdc3b?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">bnislaam</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>মানব ও সমাজসেবায় ইসলামের প্রেরণা</title>
		<link>http://bnislam.com/2012/04/20/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%ac-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0/</link>
		<comments>http://bnislam.com/2012/04/20/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%ac-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0/#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 21 Apr 2012 02:54:58 +0000</pubDate>
		<dc:creator>bn.islaam</dc:creator>
				<category><![CDATA[বাংলা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://bnislam.com/?p=2733</guid>
		<description><![CDATA[‘পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি এ জীবন মন সকলি দাও তার মত সুখ কোথাও কি আছে আপনার কথা ভুলিয়া যাও।’ অন্যের ব্যথায় সমব্যথী হওয়া এবং পরের বিপদে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করা একটি মহৎ গুণ। এক ধরনের নেকীর কাজ। হিতৈষী মনোভাব &#8230; <a href="http://bnislam.com/2012/04/20/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%ac-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bnislam.com&#038;blog=14847374&#038;post=2733&#038;subd=bnislaam&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p><strong><br />
</strong><strong></strong></p>
<p align="center">‘পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি এ জীবন মন সকলি দাও</p>
<p align="center">তার মত সুখ কোথাও কি আছে আপনার কথা ভুলিয়া যাও।’</p>
<p>অন্যের ব্যথায় সমব্যথী হওয়া এবং পরের বিপদে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করা একটি মহৎ গুণ। এক ধরনের নেকীর কাজ। হিতৈষী মনোভাব ও সহমর্মিতার গুণ ছাড়া মানবিকতা ও মহানুভবতার বিকাশ পূর্ণতা পায় না।</p>
<p>আমি তিনবেলা পেট পুরে খেতে পারি। একাধিক পদের তরকারি ছাড়া আমার খাবার রোচে না। বিচিত্র স্বাদ আস্বাদন ছাড়া আমার রসনা তৃপ্ত হয় না। বাসার নৈশ প্রহরী কুকুরকে নিত্য টাটকা গোশত খাওয়াই। দুই বেলা শাহী খাবার খেতে দেই। শ্যাম্পু ছাড়া ওর গোসল হয় না। অথচ পাশের বস্তিতে খাবার না পেয়ে অবোধ শিশুরা চিৎকার করে কাঁদে। জঠরজ্বালা সইতে না পেরে কত বনী আদম পথের ধারে উপুড় হয়ে কাতরায়। ফল-ফ্রুটস খেতে খেতে আমার আদরের দুলালের অরুচি ধরে যায়। অথচ বাড়ির বুয়ার অভুক্ত সন্তানদের মুখে মৌসুমী ফলটি পর্যন্ত ওঠে না। ক্ষুদে মাছির লঘু পদভার পড়ামাত্র সুডৌল আপেল, রসে টইটুম্বর আঙ্গুর ও টসটসে কমলা ওরা প্রায়শই নিক্ষেপ করে ডাস্টবিনে। অথচ এরা পঁচা ও উচ্ছিষ্ট ফল খাওয়ার জন্য ইতর প্রাণীর সঙ্গে যুদ্ধ করে ডাস্টবিনে। ফ্যাশন বদলের সঙ্গে সঙ্গেই আমার মেয়ের শীতবস্ত্র আর গ্রীষ্মের পোশাক বদল হয়। অথচ অদূরের গাঁয়েই কি-না শীতবস্ত্রের অভাবে গরীবের প্রাণ যায়।</p>
<p>এসব তো বিবেক বা মানবতার পরিচায়ক নয়। অমানবের চেয়ে মানব শ্রেষ্ঠ কেন? প্রাণের কারণে? কেবল বুদ্ধির কারণে? মোটেও না। প্রাণের বৈশিষ্ট্যে মানুষ ও জীব-জন্তু প্রায় অভিন্ন। মানুষ বুদ্ধিমান জীব বলে অন্য সব জীবজন্তু একেবারে বুদ্ধিহীন নয়। বরং বুদ্ধির সঙ্গে বিবেক এবং আপন চাহিদার সঙ্গে মানবিকতার সংশ্লেষই অন্য সব জীব-জন্তুর ওপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব এনে দিয়েছে। ইসলাম এ কারণে মানব সমাজে এমন বৈষম্য ও প্রভেদের কোনো সুযোগ রাখে নি। ইসলাম মানুষকে সর্বোচ্চ মানবিকতা, পরহিতৈষণা, সহমর্মিতা ও মহানুভবতার শিক্ষা দিয়েছে। এ উদ্দেশ্যে আল্লাহ তাঁর নবীকে প্রেরণ দয়া ও সহমর্মিতার প্রতীক হিসেবে। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,</p>
<p>﴿وَمَآ أَرۡسَلۡنَٰكَ إِلَّا رَحۡمَةٗ لِّلۡعَٰلَمِينَ ١٠٧﴾ [الأنبياء: ١٠٧]</p>
<p>‘আর আমি আপনাকে সৃষ্টিকুলের জন্য রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।’ {সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত : ১০৭}</p>
<p>অনাহারীর কষ্টের ভাগিদার হতে এবং জনমদুখী বান্দার দুঃখে সমব্যথী হতে আল্লাহ তা‘আলা রমযানের সিয়াম ফরয করেছেন। দুঃখীর অভাব মোচনে যাকাত ফরয ও সাদাকুল ফিতর ওয়াজিব করেছেন। একই উদ্দেশে সালাত, সিয়াম ইত্যাদির ফিদইয়া ও লে‘আনের বিধান এবং কসম ইত্যাদির কাফফার বিধান প্রবর্তন করেছেন। দান-সদকা ও অন্যের জন্য খরচে উদ্বুদ্ধ করে অনেক আয়াত নাযিল হয়েছে। যেমন :</p>
<h3>ক. আল্লাহ তা‘আলা বলেন,</h3>
<p>﴿مَّن ذَا ٱلَّذِي يُقۡرِضُ ٱللَّهَ قَرۡضًا حَسَنٗا فَيُضَٰعِفَهُۥ لَهُۥ وَلَهُۥٓ أَجۡرٞ كَرِيمٞ ١١﴾ [الحديد: ١١]</p>
<p>‘এমন কে আছে যে, আল্লাহকে উত্তম করয দেবে? তাহলে তিনি তার জন্য তা বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেবেন এবং তার জন্য রয়েছে সম্মানজনক প্রতিদান।’ {সূরা আল-হাদীদ, আয়াত : ১১}</p>
<p>খ. আল্লাহ তা‘আলা বলেন,</p>
<p>﴿مَّن ذَا ٱلَّذِي يُقۡرِضُ ٱللَّهَ قَرۡضًا حَسَنٗا فَيُضَٰعِفَهُۥ لَهُۥٓ أَضۡعَافٗا كَثِيرَةٗۚ وَٱللَّهُ يَقۡبِضُ وَيَبۡصُۜطُ وَإِلَيۡهِ تُرۡجَعُونَ ٢٤٥﴾ [البقرة: ٢٤٥]</p>
<p>‘কে আছে, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেবে, ফলে তিনি তার জন্য বহু গুণে বাড়িয়ে দেবেন? আর আল্লাহ সংকীর্ণ করেন ও প্রসারিত করেন এবং তাঁরই নিকট তোমাদেরকে ফিরানো হবে।’ {সূরা আল-বাকারা, আয়াত : ২৬১}</p>
<p>গ. আল্লাহ তা‘আলা বলেন,</p>
<p>﴿مَّثَلُ ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمۡوَٰلَهُمۡ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنۢبَتَتۡ سَبۡعَ سَنَابِلَ فِي كُلِّ سُنۢبُلَةٖ مِّاْئَةُ حَبَّةٖۗ وَٱللَّهُ يُضَٰعِفُ لِمَن يَشَآءُۚ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٌ ٢٦١﴾ [البقرة: ٢٦١]</p>
<p>‘যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উপমা একটি বীজের মত, যা উৎপন্ন করল সাতটি শীষ, প্রতিটি শীষে রয়েছে একশ’ দানা। আর আল্লাহ যাকে চান তার জন্য বাড়িয়ে দেন। আর আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।’ {সূরা আল-বাকারা, আয়াত : ২৬১}</p>
<p>ঘ. আল্লাহ তা‘আলা বলেন,</p>
<p>﴿إِنَّ ٱلۡمُصَّدِّقِينَ وَٱلۡمُصَّدِّقَٰتِ وَأَقۡرَضُواْ ٱللَّهَ قَرۡضًا حَسَنٗا يُضَٰعَفُ لَهُمۡ وَلَهُمۡ أَجۡرٞ كَرِيمٞ ١٨﴾ [الحديد: ١٨]</p>
<p>‘নিশ্চয় দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী এবং যারা আল্লাহকে উত্তম করয দেয়, তাদের জন্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়া হবে এবং তাদের জন্য রয়েছে সম্মানজনক প্রতিদান।’ {সূরা আল-হাদীদ, আয়াত : ১৮}</p>
<p>ঙ. আল্লাহ তা‘আলা বলেন,</p>
<p>﴿فَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ مَا ٱسۡتَطَعۡتُمۡ وَٱسۡمَعُواْ وَأَطِيعُواْ وَأَنفِقُواْ خَيۡرٗا لِّأَنفُسِكُمۡۗ وَمَن يُوقَ شُحَّ نَفۡسِهِۦ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ ١٦ إِن تُقۡرِضُواْ ٱللَّهَ قَرۡضًا حَسَنٗا يُضَٰعِفۡهُ لَكُمۡ وَيَغۡفِرۡ لَكُمۡۚ وَٱللَّهُ شَكُورٌ حَلِيمٌ ١٧﴾ [التغابن: ١٦،  ١٧]</p>
<p>‘অতএব তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় কর, শ্রবণ কর, আনুগত্য কর এবং তোমাদের নিজদের কল্যাণে ব্যয় কর, আর যাদেরকে অন্তরের কার্পণ্য থেকে রক্ষা করা হয়, তারাই মূলত সফলকাম। যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও, তিনি তা তোমাদের জন্য দ্বিগুন করে দিবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ গুণগ্রাহী, পরম ধৈর্যশীল।’   {সূরা আত-তাগাবুন, আয়াত : ১৬-১৭}</p>
<p>চ. আল্লাহ তা‘আলা বলেন,</p>
<p>﴿وَأَقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُواْ ٱلزَّكَوٰةَ وَأَقۡرِضُواْ ٱللَّهَ قَرۡضًا حَسَنٗاۚ وَمَا تُقَدِّمُواْ لِأَنفُسِكُم مِّنۡ خَيۡرٖ تَجِدُوهُ عِندَ ٱللَّهِ هُوَ خَيۡرٗا وَأَعۡظَمَ أَجۡرٗاۚ وَٱسۡتَغۡفِرُواْ ٱللَّهَۖ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٞ رَّحِيمُۢ ٢٠﴾ [المزمل: ٢٠]</p>
<p>‘আর সালাত কায়েম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও। আর তোমরা নিজদের জন্য মঙ্গলজনক যা কিছু অগ্রে পাঠাবে তোমরা তা আল্লাহর কাছে পাবে প্রতিদান হিসেবে উৎকৃষ্টতর ও মহত্তর রূপে। আর তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ {সূরা আল-মুযযাম্মিল, আয়াত : ২০}</p>
<p>ছ. আল্লাহ তা‘আলা বলেন,</p>
<p>﴿ وَفِيٓ أَمۡوَٰلِهِمۡ حَقّٞ لِّلسَّآئِلِ وَٱلۡمَحۡرُومِ ١٩ ﴾ [الذاريات: ١٩]</p>
<p>‘আর তাদের ধনসম্পদে রয়েছে প্রার্থী ও বঞ্চিতের হক।’ {সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত : ১৯}</p>
<p>জ. আল্লাহ তা‘আলা বলেন,</p>
<p>﴿ وَٱلَّذِينَ فِيٓ أَمۡوَٰلِهِمۡ حَقّٞ مَّعۡلُومٞ ٢٤ لِّلسَّآئِلِ وَٱلۡمَحۡرُومِ ٢٥ ﴾ [المعارج: ٢٤،  ٢٥]</p>
<p>‘আর যাদের ধন-সম্পদে রয়েছে নির্ধারিত হক, যাচ্ঞাকারী ও বঞ্চিতের’। {সূরা আল-মা‘আরিজ, আয়াত : ২৪-২৫}</p>
<p>এ ধরনের আরো অসংখ্য আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা মানবের সেবা ও সমাজের কল্যাণের নির্দেশ ও উৎসাহ দিয়েছেন। তেমনি মানবমুক্তি ও সমাজকল্যাণের মহান প্রতিভূ মুহাম্মদে আরাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনভর এ শিক্ষা প্রচার করেছেন। মানবসেবা ও সমাজকল্যাণের চর্চা করেছেন আপন কর্মে যেমন, তেমনি নানা উপলক্ষ্যে নানাভাবে এর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন আপন বাণী বা উক্তিসমগ্রে। কিয়ামত অবধি আগত মানবতার শান্তি ও কল্যাণে তিনি অনাগত সকল ঈমানদারের সামনে এ আদর্শ রেখে গেছেন।</p>
<p>নবুওয়ত লাভের প্রাক্কালে হিলফুল ফুযূল নামক সংস্থা গড়েছিলেন। সেখানে কিছু যুবককে নিয়ে তিনি এ মর্মে অঙ্গিকারাবদ্ধ হন, ‘আমরা নিঃস্ব ও অসহায় দুর্গতদের সেবা করব। অত্যাচারী প্রাণপণে বাধা দেব, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করব এবং বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে সম্প্রীতি স্থাপনে সচেষ্ট হব।’ [বিশ্বনবী পৃ. : ৫৭]</p>
<p>সেকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আর্তমানব সেবার অনন্য উপমা খুঁজে পাওয়া যায় মা খাদিজা রাদিআল্লাহু আনহার প্রজ্ঞাপূর্ণ উক্তিতে। প্রথম ওহী দর্শনে ভীত-সন্ত্রস্ত স্বামীকে অভয় দিতে গিয়ে যা তিনি উচ্চারণ করেছিলেন। যেমনটি উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দীকা রাদিআল্লাহু আনহা সূত্রে ইমাম বুখারীর সহীহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আস্বস্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন,</p>
<p>« كَلَّا وَاللَّهِ مَا يُخْزِيكَ اللَّهُ أَبَدًا، إِنَّكَ لَتَصِلُ الرَّحِمَ ، وَتَحْمِلُ الكَلَّ، وَتَكْسِبُ المَعْدُومَ، وَتَقْرِي الضَّيْفَ، وَتُعِينُ عَلَى نَوَائِبِ الحَقِّ».</p>
<p>(ভার্বার্থ) ‘কখনো নয়, আল্লাহর শপথ, আল্লাহ আপনাকে কখনো অপমানিত করবেন না। কারণ, আপনি আত্মীয়দের প্রতি দয়াশীল, পীড়িত মা ও আতুরদের ব্যয়ভার বহন করেন, নিঃস্বদের জন্য উপার্জন করেন, আপনি অতিথিপরায়ন এবং সত্যিকার বিপদাপদে সদা সাহায্যকারী।’ [বুখারী : ০৩; মুসলিম : ৪২২]</p>
<p>৬ষ্ঠ হিজরীর শেষের দিকে খায়বার বিজিত হয়। ৯ম হিজরীতে যখন আরব উপদ্বীপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুগত হয়,   তখন তিনি বিশাল রাজ্যের অধিপতি। চারদিক থেকে মদীনায় যত ধন-দৌলত প্রেরিত হয় সবই তিনি অকাতরে বিলিয়ে দেন অনাথ ও দুস্থদের মাঝে। নিজে কিছুই ভোগ করেন না তিনি। মা আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহার ভাষ্য মতে, তিনি এমনভাবে ইহলোক ত্যাগ করেছেন যে তাঁর পরিবার লাগাতার দু’দিন পেট পুরে যবের রুটি খেতে পারে নি।</p>
<p>প্রখ্যাত সাহাবী জাবির ইবন আবদুল্লাহ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনে কখনো কোনো প্রার্থীকে ‘না’ বলেন নি। তাঁর বদান্যতা, পরোপকার, মানবসেবা ও সমাজকল্যাণে অবদানের অসংখ্য দৃষ্টান্ত ইতিহাস ও হাদীস গ্রন্থসমূহে লিপিবদ্ধ হয়েছে। মানব সেবায় গুরুত্বারোপ এবং এতে উদ্বুদ্ধ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসংখ্য বাণী উচ্চারণ করেছেন, স্বল্প পরিসরে যা উল্লেখ সম্ভব নয়। সেদিকে না দিয়ে সংক্ষেপে কয়েকটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরা যাক।</p>
<p>আবূ হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,</p>
<p>«مَنْ نَفَّسَ عَنْ مُؤْمِنٍ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الدُّنْيَا نَفَّسَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَمَنْ يَسَّرَ عَلَى مُعْسِرٍ يَسَّرَ اللَّهُ عَلَيْهِ فِى الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ فِى الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَاللَّهُ فِى عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِى عَوْنِ أَخِيهِ».</p>
<p>‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের পার্থিব কষ্টসমূহ থেকে কোনো কষ্ট দূর করবে কিয়ামতের কষ্টসমূহ থেকে আল্লাহ তার একটি কষ্ট দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোনো অভাবীকে দুনিয়াতে ছাড় দেবে আল্লাহ তা‘আলা তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে তাকে ছাড় দেবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন। আর আল্লাহ তা‘আলা বান্দার সাহায্যে থাকেন যতক্ষণ সে তার ভাইয়ের সাহায্য করে যায়।’ [মুসলিম : ৭০২৮; আবূ দাঊদ : ৪৯৪৮; তিরমিযী : ১৪২৫]</p>
<p>অপর হাদীসে রয়েছে, প্রখ্যাত সাহাবী আবূ হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,</p>
<p>لاَ وَاللَّهِ لاَ يُؤْمِنُ ، لاَ وَاللَّهِ لاَ يُؤْمِنُ ، لاَ وَاللَّهِ لاَ يُؤْمِنُ قَالُوا : وَمَنْ ذَاكَ يَا رَسُولَ اللهِ ؟ قَالَ : جَارٌ لاَ يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ ، قِيلَ : وَمَا بَوَائِقُهُ ؟ قَالَ : شَرُّهُ.</p>
<p>‘না, আল্লাহর কসম সে ঈমান আনে নি’; ‘না, আল্লাহর কসম সে ঈমান আনে নি’; ‘না, আল্লাহর কসম সে ঈমান আনে নি’। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, তারা কারা হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন, ‘সেই ব্যক্তি  যার হঠকারিতা থেকে প্রতিবেশি নিরাপদ নয়।’ জিজ্ঞেস করা হলো, হঠকারিতা কী? তিনি বললেন, ‘তার অনিষ্ট বা জুলুম’। [মুসনাদ আহমদ : ৮৪১৩; মুসনাদ বাযযার : ২০২৬] বলাবাহুল্য আল্লাহ প্রদত্ত সম্পদের অপচয় করা অথচ নিকটস্থ অসহায়ের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করাও এক ধরনের জুলুম।</p>
<p>একে অপরকে সাহায্য করা, একে অন্যকে যৎসামান্য হলেও কিছু দেয়াও তাই গুরুত্বপূর্ণ। প্রখ্যাত সাহাবী আবূ হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,</p>
<p>«يَا نِسَاءَ الْمُسْلِمَاتِ لاَ تَحْقِرَنَّ جَارَةٌ لِجَارَتِهَا وَلَوْ فِرْسِنَ شَاةٍ».</p>
<p>‘হে মুসলিম নারীগণ, এক প্রতিবেশি যেন তার অপর প্রতিবেশির পাঠানো দানকে তুচ্ছজ্ঞান না করে, যদিও তা ছাগলের পায়ের একটি ক্ষুর হয়।’ [বুখারী : ২৫৬৬; মুসলিম : ২২৬]</p>
<p>রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দারিদ্রক্লিষ্ট বনী আদম এবং অসহায় নারীদের সাহায্যে উদ্বুদ্ধ করেছেন ব্যাপকভাবে। আবূ হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,</p>
<p>« السَّاعِى عَلَى الأَرْمَلَةِ وَالْمِسْكِينِ كَالْمُجَاهِدِ فِى سَبِيلِ اللَّهِ &#8211; وَأَحْسِبُهُ قَالَ &#8211; وَكَالْقَائِمِ لاَ يَفْتُرُ وَكَالصَّائِمِ لاَ يُفْطِرُ ».</p>
<p>‘বিধবা ও অসহায়কে সাহায্যকারী ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর সমতুল্য।’ (বর্ণনাকারী বলেন,) আমার ধারণা তিনি আরও বলেন, ‘এবং সে ওই সালাত আদায়কারীর ন্যায় যার ক্লান্তি নেই এবং ওই সিয়াম পালনকারীর ন্যায় যার সিয়ামে বিরাম নেই।’ [বুখারী : ৬০০৭; মুসলিম : ৭৬৫৯]</p>
<p>তিনি স্ত্রীদের প্রতি সবিশেষভাবে সহমর্মিতা ও দয়ার্দ্র আচরণের উপদেশ দিয়েছেন। আবূ হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,</p>
<p>« اسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ ، فَإِنَّ الْمَرْأَةَ خُلِقَتْ مِنْ ضِلَعٍ ، وَإِنَّ أَعْوَجَ شَىْءٍ فِى الضِّلَعِ أَعْلاَهُ ، فَإِنْ ذَهَبْتَ تُقِيمُهُ كَسَرْتَهُ ، وَإِنْ تَرَكْتَهُ لَمْ يَزَلْ أَعْوَجَ ، فَاسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ »</p>
<p>‘তোমরা (সদুপদেশ ও সদাচারের মাধ্যমে) নারীদের কল্যাণ কামনা করো, কেননা নারীদের সৃষ্টি করা হয়েছে পাঁজরের হাড় থেকে। আর পাঁজরের হাড়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বাঁকা হাড় হলো ওপরেরটি। তুমি যদি সেটি সোজা করতে যাও তাহলে তা ভেঙ্গে ফেলবে। আর নিজ অবস্থায় যদি ছেড়ে দাও তবে তা বাঁকা হতেই থাকবে। সুতরাং সদুপদেশ ও সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে নারীর কল্যাণ কামনা করো।’ [বুখারী : ৩৩৩১; মুসলিম : ২৬৭১]</p>
<p>স্ত্রীর প্রতি সদাচারে তাগিদ দিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন বাণীও উচ্চারণ করেছেন যা নিয়ে আমাদের মা-বোনেরা সত্যিই গর্ব করতে পারেন। যা লজ্জা দিতে পারে তথাকথিত নারী স্বাধীনতার ধ্বজাধারীদের। মা আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,</p>
<p>« خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لأَهْلِهِ وَأَنَا خَيْرُكُمْ لأَهْلِى ».</p>
<p>‘তোমাদের মধ্যে সে-ই উত্তম যে স্ত্রীর কাছে তোমাদের মধ্যে উত্তম। আর আমি আমার স্ত্রীর কাছে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।’ [তিরমিযী : ৩৮৯৫]</p>
<p>অন্য ভাইয়ের প্রয়োজনে এগিয়ে যাওয়া, অন্যের আহ্বানে সাড়া দেয়াকে তিনি অত্যধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। এটাকে তিনি ঐচ্ছিক হিসেবে নয়; একেবারে দায়িত্বের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। যেমন : আবূ হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,</p>
<p>« حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ سِتٌّ ». قِيلَ مَا هُنَّ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ « إِذَا لَقِيتَهُ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ وَإِذَا دَعَاكَ فَأَجِبْهُ وَإِذَا اسْتَنْصَحَكَ فَانْصَحْ لَهُ وَإِذَا عَطَسَ فَحَمِدَ اللَّهَ فَسَمِّتْهُ وَإِذَا مَرِضَ فَعُدْهُ وَإِذَا مَاتَ فَاتَّبِعْهُ ».</p>
<p>‘এক মুসলমানের ওপর অন্য মুসলমানের ছয়টি হক রয়েছে। বলা হলো সেগুলো কী হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন, (১) তুমি যখন তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে, তাকে সালাম দেবে। (২) সে যখন তোমাকে নিমন্ত্রণ করবে তা গ্রহণ করবে। (৩) সে যখন তোমার মঙ্গল কামনা করবে, তুমিও তার মঙ্গল কামনা করবে। (৪) যখন সে হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলবে, তখন তুমি ইয়ারহামুকাল্লাহ (আল্লাহ তোমার প্রতি রহমত করুন) বলবে। (৫) যখন সে অসুস্থ হবে তাকে, দেখতে যাবে। (৬) এবং যখন সে মারা যাবে, তখন তার জানাযায় অংশগ্রহণ করবে।’ [মুসলিম : ৫৭৭৮; মুসনাদ আহমাদ : ৮৮৩২]</p>
<p>আরেক হাদীসে বলা হয়েছে, আবূ মূসা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,</p>
<p>« عُودُوا الْمَرِيضَ، وَأَطْعِمُوا الْجَائِعَ، وَفُكُّوا الْعَانِيَ ».<strong></strong></p>
<p>‘অসুস্থ লোকের সেবা করো, ক্ষুধার্তকে অন্ন দাও এবং বন্দিকে মুক্ত করো।’ [বুখারী : ৫৬৪৯; মুসনাদ আবী ই‘আলা : ৭৩২৫]</p>
<p>মানবসেবা ও সমাজকল্যাণে ইসলামের অতি আগ্রহ এবং অনন্ত প্রেরণার স্বাক্ষর হিসেবে আর কিছু নয় কেবল নিম্নোক্ত হাদীসে কুদসীই যথেষ্ট হতে পারে। আবূ হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,</p>
<p>« إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَا ابْنَ آدَمَ مَرِضْتُ فَلَمْ تَعُدْنِى. قَالَ يَا رَبِّ كَيْفَ أَعُودُكَ وَأَنْتَ رَبُّ الْعَالَمِينَ. قَالَ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ عَبْدِى فُلاَنًا مَرِضَ فَلَمْ تَعُدْهُ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّكَ لَوْ عُدْتَهُ لَوَجَدْتَنِى عِنْدَهُ يَا ابْنَ آدَمَ اسْتَطْعَمْتُكَ فَلَمْ تُطْعِمْنِى. قَالَ يَا رَبِّ وَكَيْفَ أُطْعِمُكَ وَأَنْتَ رَبُّ الْعَالَمِينَ. قَالَ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّهُ اسْتَطْعَمَكَ عَبْدِى فُلاَنٌ فَلَمْ تُطْعِمْهُ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّكَ لَوْ أَطْعَمْتَهُ لَوَجَدْتَ ذَلِكَ عِنْدِى يَا ابْنَ آدَمَ اسْتَسْقَيْتُكَ فَلَمْ تَسْقِنِى. قَالَ يَا رَبِّ كَيْفَ أَسْقِيكَ وَأَنْتَ رَبُّ الْعَالَمِينَ قَالَ اسْتَسْقَاكَ عَبْدِى فُلاَنٌ فَلَمْ تَسْقِهِ أَمَا إِنَّكَ لَوْ سَقَيْتَهُ وَجَدْتَ ذَلِكَ عِنْدِى ».</p>
<p>‘কেয়ামত দিবসে নিশ্চয় আল্লাহ তাআ’লা বলবেন, ‘হে আদম সন্তান, আমি অসুস্থ হয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমার শুশ্রূষা করো নি।’ বান্দা বলবে, ‘হে আমার প্রতিপালক। আপনিতো বিশ্বপালনকর্তা কিভাবে আমি আপনার শুশ্রূষা করব?’ তিনি বলবেন, ‘তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিল, অথচ তাকে তুমি দেখতে যাও নি। তুমি কি জান না, যদি তুমি তার শুশ্রূষা করতে তবে তুমি তার কাছেই আমাকে পেতে।?’ ‘হে আদম সন্তান, আমি তোমার কাছে আহার চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে আহার করাও নি।’ বান্দা বলবে, ‘হে আমার রব, তুমি হলে বিশ্ব পালনকর্তা, তোমাকে আমি কীভাবে আহার করাব?’ তিনি বলবেন, ‘তুমি কি জান না যে, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে খাদ্য চেয়েছিল, কিন্তু তাকে তুমি খাদ্য দাও নি। তুমি কি জান না যে, তুমি যদি তাকে আহার করাতে বে আজ তা প্রাপ্ত হতে।?’ ‘হে আদম সন্তান, তোমার কাছে আমি পানীয় চেয়েছিলাম, অথচ তুমি আমাকে পানীয় দাও নি।’ বান্দা বলবে, ‘হে আমার প্রভু, তুমি তো রাব্বুল আলামীন তোমাকে আমি কীভাবে পান করাব?’ তিনি বলবেন, ‘তোমার কাছে আমার অমুক বান্দা পানি চেয়েছিল কিন্তু তাকে তুমি পান করাও নি। তাকে যদি পান করাতে তবে নিশ্চয় আজ তা প্রাপ্ত হতে।’ [মুসলিম : ৬৭২১; সহীহ ইবন হিব্বান : ৭৩৬]</p>
<p>এত সব আয়াত ও হাদীসকে সামনে রাখলে কোনো মুসলিমের পক্ষেই সমাজসেবা বিমুখ হওয়া সম্ভব নয়। কুরআন-সুন্নাহর ধারক-বাহক উলামায়ে কিরাম তাই এ ব্যাপারে সবসময় সচেতন ছিলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যায় আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে বৃটিশ বিদায়ের পর থেকে দুইশ বছরের গোলামীর ক্ষতি পুষিয়ে এ ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জিত হয় নি। জাগতিক লাভের উদ্দেশে কিংবা আত্মপ্রচারমুখী সংস্থা, দল বা ব্যক্তিবর্গের পক্ষ থেকে যেমন সন্তোষজনক জনসেবা জাতি নিকট অতীতে পায় নি; তেমনি উলামায়ে কিরামকেও এ অঙ্গনে পর্যাপ্ত সংখ্যায় সম্পৃক্ত হতে দেখা যায় নি। আশার কথা হলো বর্তমান আলেম সমাজ ও ইসলামী আদর্শের লোকেরা জনসেবামূলক বিভিন্ন সংস্থা তথা ইসলামভিত্তিক এনজিও প্রতিষ্ঠা করেছেন। আর্ত মানবতার সেবায় তারাও ব্যাপকভাবে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম, আল-মুনাতাদা আল-আসলামী, আল-মারকাযুল ইসলামী, আন-নাদিল ইমদাদী আল-ইসলামীসহ খ্যাত-অখ্যাত অনেক ইসলামী সাহায্য সংস্থা মানবসেবায় এগিয়ে এসেছে এবং উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।</p>
<p>অতি বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করি, বাংলাদেশে বর্তমানে কর্মরত প্রায় ১৬ হাজার এনজিওর মধ্যে অধিকাংশের ব্যাপারে খ্রিস্টধর্ম প্রচার, ধর্মান্তর প্রচেষ্টা, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অনভিপ্রেত নাক গলানো এবং সেবার নামে আসা কোটি কোটি টাকা লুটপাটের অসংখ্য নজির ও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমগুলো যথেষ্ট সমালোচনা মুখর নয়। আন্তর্জাতিক চাপের কারণে সরকারও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হচ্ছে না। তাদের সম্পর্কে দেশে নাশকতা ও দুষ্কৃতিমূলক কাজে সহায়তা করার সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় না। পক্ষান্তরে নিষ্ঠা ও সততার সাথে কর্মরত মুসলিম এনজিওগুলোকে জঙ্গিদের মদদদানের অজুহাতে অনেক ক্ষেত্রে কোনো প্রমাণ ছাড়াই হয়রানির শিকার হতে হয়। শুধু বাংলাদেশে নয়; অনেক মুসলিমপ্রধান দেশেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থা বিরাজ করছে।</p>
<p>পরিশেষে ইসলামী এনজিওগুলোর উদ্দেশে বলতে চাই আপনারা নিজেদের কর্মকাণ্ড শুধু মসজিদ-মাদরাসা স্থাপন, কুরআন শিক্ষা ইত্যাদির মাঝে সীমাবদ্ধ না রেখে এতিমদের পুনর্বাসন, নিরক্ষরতা দূরীকরণ, বিধবাদের সহায়তা প্রদান, যৌতুক প্রতিরোধ, মাদকদ্রব্য নির্মূল, বৃক্ষরোপন, স্যানিটেশন প্রকল্প, ইসলামভিত্তিক ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প, বেকারদের প্রশিক্ষণ ইত্যাদি সেবাকর্মের মাধ্যমে মানুষের আরও কাছে ঘেঁষতে চেষ্টা করুন। আর্ত-মানবতার সেবায় ইসলামের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরুন। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই পার্থিব লালসা ও ব্যক্তিগত ভোগ-বিলাসের রোগ থেকে নিজেদের দূরে থাকতে হবে। জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সবার মাঝে ব্যাপক সেবাকর্মের মাধ্যমে প্রমাণ করে দিন ইসলাম শুধু মুসলমানের জন্যই আসে নি বরং পৃথিবীর সব মানুষের জন্যই এসেছে। এছাড়াও ভুল বোঝাবুঝি ও অপপ্রচার রোধে নিজেদের সেবার ক্ষেত্র, আয়ের উৎস ইত্যাদির বিবরণ সম্বলিত তথ্য সরকার ও জনসমক্ষে তুলে ধরে আর্থিক স্বচ্ছতার বিষয়টিও নিশ্চিত করুন। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমীন।</p>
<br />Filed under: <a href='http://bnislam.com/category/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be/'>বাংলা</a>  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bnislaam.wordpress.com/2733/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bnislaam.wordpress.com/2733/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bnislam.com&#038;blog=14847374&#038;post=2733&#038;subd=bnislaam&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://bnislam.com/2012/04/20/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%ac-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>1</slash:comments>
	
		<media:content url="http://1.gravatar.com/avatar/d9d4481fa439526a301e6cf04e2bdc3b?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">bnislaam</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>ইসলামে বন্ধুত্ব ও শত্রুতা &#8211; ৩</title>
		<link>http://bnislam.com/2012/03/24/%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a6%93-%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%a4/</link>
		<comments>http://bnislam.com/2012/03/24/%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a6%93-%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%a4/#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 24 Mar 2012 04:46:16 +0000</pubDate>
		<dc:creator>bn.islaam</dc:creator>
				<category><![CDATA[বাংলা]]></category>
		<category><![CDATA[আল ফাওযান]]></category>
		<category><![CDATA[আল-ওয়ালা]]></category>
		<category><![CDATA[আল-বারা]]></category>
		<category><![CDATA[ইমাম আহমদ বিন হাম্বল]]></category>
		<category><![CDATA[ওয়ালা]]></category>
		<category><![CDATA[বন্ধুত্ব]]></category>
		<category><![CDATA[শত্রুতা]]></category>
		<category><![CDATA[সালেহ ইবনে ফাওযান • সম্পাদনা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://bnislam.com/?p=2709</guid>
		<description><![CDATA[বন্ধুত্ব ও দুশমনির বিবেচনায় মানুষের প্রকারভেদ বন্ধুত্ব ও শত্রুতার বিবেচনায় মানুষ তিন প্রকার: প্রথম প্রকার: [যাদেরকে খালেসভাবে ভালোবাসতে হবে] ঐ সব ঈমানদার যাদেরকে অন্তরের অন্তঃস্থল হতে মহব্বত করতে হবে এবং খালেস মহব্বত করতে হবে। তাদের প্রতি কোনো প্রকার দুশমনি করা &#8230; <a href="http://bnislam.com/2012/03/24/%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a6%93-%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%a4/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bnislam.com&#038;blog=14847374&#038;post=2709&#038;subd=bnislaam&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<div style="font-size:14px;text-align:justify;">
<h2 align="center"><strong>বন্ধুত্ব ও দুশমনির বিবেচনায় মানুষের প্রকারভেদ</strong></h2>
<p>বন্ধুত্ব ও শত্রুতার বিবেচনায় মানুষ তিন প্রকার:</p>
<p><strong>প্রথম প্রকার: [যাদেরকে খালেসভাবে ভালোবাসতে হবে]</strong></p>
<p>ঐ সব ঈমানদার যাদেরকে অন্তরের অন্তঃস্থল হতে মহব্বত করতে হবে এবং খালেস মহব্বত করতে হবে। তাদের প্রতি কোনো প্রকার দুশমনি করা যাবে না এবং ঘৃণা করা যাবে না।</p>
<p>তারা হচ্ছে, খালেস মুমিন, যাদের ঈমানের মধ্যে কোন প্রকার ত্রুটি নাই। প্রকৃত পক্ষে এরা হল, নবী, রাসূল, সিদ্দিকীন, সালে-হীন ও শহীদগণ।</p>
<p>এদের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও সবোর্চ্চ স্থানের অধিকারী হলেন, আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাকে দুনিয়ার সব মানুষ থেকে অধিক মহব্বত করতে হবে। এমনকি মাতা-পিতা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন ও দুনিয়ার সব মানুষ থেকে বেশি মহব্বত করতে হবে<a title="" href="#_ftn40">[40]</a>। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পর সর্বাধিক বেশি মহব্বত করতে হবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীগণ যারা মুমিনদের মাতা। তারপর তার পরিবার-পরিজন ও তার সাহাবী তথা সাথী-সঙ্গীদের বেশি মহব্বত করতে হবে। বিশেষ করে, খুলাফায়ে রাশেদীন এবং দশ জনের বাকী সাহাবীগণের প্রতি, যাদের দুনিয়াতে জান্নাতের সু-সংবাদ দেয়া হয়েছে। আরও ভালোবাসতে হবে, অপরাপর মুহাজির ও আনছারগণকে। তারপর যারা বদরের যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন এবং বাইয়াতে রেদওয়ানে শরিক হন, তারপর বাকী সাহাবীগণের মহব্বত অন্তরে থাকতে হবে।</p>
<p>সাহাবীদের পর মুমিনদের অন্তরে তাবে‘য়ীদের প্রতি মহব্বত ও ভালোবাসা থাকতে হবে। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে যুগকে উত্তম যুগ বলে আখ্যায়িত করেন, তাদের প্রতি ভালোবাসা থাকতে হবে। আর এ উম্মতের সালাফে সালে-হীন ও চার ইমামের প্রতি মহব্বত থাকতে হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন,</p>
<blockquote style="font-weight:bold;background-color:#fcf4d8;border-top:1px solid #003399;border-bottom:1px solid #003399;padding:7px;"><p><img src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif?w=593" alt="" />“যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে: ‘হে আমাদের রব, আমাদেরকে ও আমাদের ভাই যারা ঈমান নিয়ে আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তাদেরকে ক্ষমা করুন; এবং যারা ঈমান এনেছিল তাদের জন্য আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ  রাখবেন না; হে আমাদের রব, নিশ্চয় আপনি দয়াবান, পরম দয়ালু”। [সূরা হাশর, আয়াত: ১০]</p></blockquote>
<p>যার অন্তরে সামান্য পরিমাণ ঈমান আছে, সে কখনোই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী ও উম্মতের সালাফদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতে পারে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী ও তার উম্মতের মহা মনিষীদের প্রতি তারাই বিদ্বেষ পোষণ করতে পারে, যারা মুনাফেক ও যাদের অন্তরে কপটতা আছে<a title="" href="#_ftn41">[41]</a>। যেমন, শিয়া-রাফেযী সম্প্রদায়, খারেজী সম্প্রদায় ইত্যাদি। আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের হেফাজত করেন।</p>
<h4>দ্বিতীয় প্রকার: যাদের সাথে খালেস দুশমনি ও শত্রুতা করতে হবে</h4>
<p>দ্বিতীয় শ্রেণীর লোক খাটি কাফের, মুনাফেক, মুশরিক, নাস্তিক, মুরতাদ ও অনুরূপ লোক, যাদের সাথে দুশমনি করার কোন বিকল্প নাই<a title="" href="#_ftn42">[42]</a>। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনে করীমে এরশাদ করে বলেন,</p>
<blockquote style="font-weight:bold;background-color:#fcf4d8;border-top:1px solid #003399;border-bottom:1px solid #003399;padding:7px;"><p><img src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif?w=593" alt="" />“যারা আল্লাহ ও শেষদিবসের প্রতি ঈমান আনে তুমি পাবে না এমন জাতিকে তাদেরকে পাবে না এমন লোকদের সাথে বন্ধুত্ব করতে বন্ধু হিসাবে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করে, যদি সেই বিরুদ্ধবাদীরা তাদের পিতা, পুত্র, ভাই অথবা জ্ঞাতি-গোষ্ঠী হয় তবুও। [সুরা মুজাদালাহ্‌, আয়াত: ২২]</p></blockquote>
<p>আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বনী ইসরাইলদের বিভিন্ন অপকর্মের বর্ণনা দিয়ে বলেন,</p>
<blockquote style="font-weight:bold;background-color:#fcf4d8;border-top:1px solid #003399;border-bottom:1px solid #003399;padding:7px;"><p><img src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif?w=593" alt="" />“তাদের মধ্যে অনেককে তুমি দেখতে পাবে, যারা কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব করে। তারা যা নিজদের জন্য পেশ করেছে, তা কত মন্দ যে, আল্লাহ তাদের উপর ক্রোধান্বিত হয়েছেন এবং তারা আযাবেই স্থায়ী হবে। আর যদি তারা আল্লাহ ও নবীর প্রতি এবং যা তার নিকট নাযিল করা হয়েছে তার প্রতি ঈমান রাখত, তবে তাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করত না। কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকে ফাসিক”। [সূরা আল-মায়েদাহ্‌, আয়াত: ৭৯-৮০]</p></blockquote>
<h4>তৃতীয় শ্রেণীর লোক:</h4>
<p>এ প্রকারের লোককে একদিক বিবেচনায় মহব্বত করা হবে এবং অপর দিক বিবেচনায় তাদের ঘৃণা করা হবে। তাদের মধ্যে মহব্বত ও ঘৃণা বা দুশমনি দুটিই একত্র হবে। এ প্রকারের লোক, গুনাহগার মুমিনরা। যারা ঈমানের সাথে গুনাহের কাজে জড়িত। তাদের মধ্যে ঈমান থাকার কারণে তাদের মহব্বত করা হবে আর গুনাহগার বা অপরাধী হওয়ার কারণে তাদের ঘৃণা করা হবে<a title="" href="#_ftn43">[43]</a>। তবে তাদের গুনাহ শির্কের নিচে হতে হবে, যদি তাদের গুনাহ শির্কের পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন তাদের বিধান কাফের ও মুশরিকদের বিধানেরই মত।</p>
<p>মুমিনদের মহব্বত করার দাবি হল, তাদের জন্য কল্যাণকামী ও তাদের হিতাকাংখী হতে হবে। মুমিনদেরকে সব সময় সৎ পথে চলা ও ভালো কাজ করার প্রতি উৎসাহ দিতে হবে, যাতে তারা কোন প্রকার অন্যায় ও অশ্লীল কাজের প্রতি ঝুঁকে না পড়ে। আপ্রাণ চেষ্টা করে তাদের অন্যায় কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখতে হবে এবং তাদের অন্যায় অপরাধের প্রতিবাদ করতে হবে। কোন মুমিন থেকে কোন অন্যায় সংঘটিত হতে দেখলে, তার উপর চুপ থাকা যাবে না। বরং তাদের গুনাহের বিরোধিতা করতে হবে এবং তাদেরকে গুনাহ থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে হবে। মুমিনরা মানুষকে ভালো কাজের আদেশ দেবে এবং অন্যায় কাজ হতে ফিরিয়ে রাখবে। আর তারা যাতে অন্যায়, অশ্লীল ও অসামাজিক কাজ হতে বিরত থাকে, সে জন্য তাদের সতর্ক করবে। মুমিনরা যদি কোন অন্যায় করে ফেলে, তখন তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করবে, যাতে তারা অন্যায় হতে বিরত থাকে এবং গুনাহ হতে আল্লাহর দরবারে তওবা করে।</p>
<p>গুনাহগার মুমিন বা অপরাধী মুমিনদেরকে কাফের মুশরিকদের মত পরিপূর্ণ ঘৃণা করবে না এবং তাদের সাথে কাফের মুশরিকদের মত এমন খালেস দুশমনি ও শত্রুতা দেখাবে না যে তাদের সাথে সম্পর্কত্যাগ করে থাকবে। যেমন খারেজিরা শির্কের নিম্ন পর্যায়ের কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করে থাকে।</p>
<p>তবে কবিরা গুনাহে লিপ্ত লোকদের খালেস মহব্বত ও বন্ধুত্ব করা যাবে না, যেমনটি করে থাকে মুরজিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা<a title="" href="#_ftn44">[44]</a>;  বরং তাদের [অপরাধী মুমিনদের] বিষয়ে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করতে হবে। আর এটিই হল, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মাযহাব<a title="" href="#_ftn45">[45]</a>।</p>
<p>আর আল্লাহর জন্য মহব্বত এবং আল্লাহর জন্য দুশমনি করা ঈমানের মজবুত রশি। আর হাদিসে বর্ণিত আছে, কিয়ামতের দিন মানুষ তার সাথে থাকবে, যাকে সে মহব্বত করে।<a title="" href="#_ftn46">[46]</a></p>
<p>বর্তমান যুগে মানুষের অবস্থা পরিবর্তিত হয়ে গেছে। বর্তমানে মানুষের অধিকাংশ মহব্বত ও বন্ধুত্ব দুনিয়ার কারণেই হয়ে থাকে। যখন কোন মানুষের নিকট দুনিয়ার ধন-সম্পদ থাকে, তার হাতে ক্ষমতা থাকে বা তার শক্তি থাকে, তখন মানুষ তাকে মহব্বত করতে থাকে এবং তার সাথে বন্ধুত্ব করে, যদিও সে আল্লাহ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং দ্বীন ইসলামের অনেক বড় দুশমন<a title="" href="#_ftn47">[47]</a>। আর যখন কারো নিকট দুনিয়ার ধন সম্পদ না থাকে তখন সে যত বড় আল্লাহর অলি বা আল্লাহর রাসূলের অনুসারী হোক না কেন, তাকে কেউ মহব্বত করে না এবং তার সাথে বন্ধুত্ব করে না। কারণ, তার দ্বারা তার পার্থিব স্বার্থ হাসিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। ফলে তাকে পদে পদে অপমান করে এবং তার সাথে দুর্ব্যবহার করে, যখন তখন তাকে অসম্মান ও অশ্রদ্ধা করে<a title="" href="#_ftn48">[48]</a>। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন,</p>
<blockquote style="font-weight:bold;background-color:#fcf4d8;border-top:1px solid #003399;border-bottom:1px solid #003399;padding:7px;"><p><img src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif?w=593" alt="" />“যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য মহব্বত করে এবং আল্লাহর জন্য ঘৃণা করে, আর আল্লাহর জন্য বন্ধুত্ব করে এবং আল্লাহর জন্য দুশমনি করে, অবশ্যই এর মাধ্যমে সে আল্লাহর সান্নিধ্য ও বন্ধুত্ব লাভ করবে। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ মানুষের বন্ধুত্বের ভিত হল, দুনিয়ার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট। এ কারণেই এ ধরনের বন্ধুত্ব দ্বারা তারা কিছুই লাভ করতে পারে না”। [ইবনে জারির]</p></blockquote>
<p>আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, নিশ্চয় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন,</p>
<blockquote style="font-weight:bold;background-color:#fcf4d8;border-top:1px solid #003399;border-bottom:1px solid #003399;padding:7px;"><p><img src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif?w=593" alt="" />“যে ব্যক্তি আমার কোন অলি বা বন্ধুর বিরোধিতা করে এবং তার সাথে দুশমনি রাখে, আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম”।<a title="" href="#_ftn49">[49]</a></p></blockquote>
<p>মানুষের মধ্য হতে আল্লাহর সবচেয়ে বিরুদ্ধবাদী বা বিরোধী  ব্যক্তি হল, যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণের সাথে দুশমনি করে, তাদের সমালোচনা করে এবং তাদেরকে খাটো বা হেয় প্রতিপন্ন করে। অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করে বলেন,</p>
<blockquote style="font-weight:bold;background-color:#fcf4d8;border-top:1px solid #003399;border-bottom:1px solid #003399;padding:7px;"><p><img src="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif?w=593" alt="" />আল্লাহর দোহাই, আল্লাহর দোহাই, তোমরা আমার সাহাবীদের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন কর। তোমরা আমার সাহাবীদেরকে তোমাদের সমালোচনা ও বিতর্কের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করো না। যারা তাদের কষ্ট দেয়, তারা আমাকেই কষ্ট দিল, আর যে ব্যক্তি আমাকে কষ্ট দেয়, সে আল্লাহকে কষ্ট দিল, আর যে আল্লাহকে কষ্ট দেয়, তাকে অবশ্যই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পাকড়াও করবে<a title="" href="#_ftn50">[50]</a>। [তিরমিযি ও অন্যান্য হাদিসের কিতাবসমূহ]</p></blockquote>
<p>কোন কোন ভ্রষ্ট-গোমরাহ ফের্কা ও দল এমন আছে, তারা মনে করে সাহাবীগণকে গালি দেয়া, তাদের বিরোধিতা করা ও তাদের সমালোচনা করা দ্বীনের একটি অংশ বা দীনি দায়িত্ব। তাই তারা সব সময় তাদের সমালোচনা ও বিরোধিতায় লিপ্ত থাকে এবং মানুষের মধ্যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রাণ প্রিয় সাহাবীদের সমালোচনা করতে থাকে। এর কারণে তাদের অবশ্যই কঠিন আযাবের মুখোমুখি হতে হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে তার কঠিন ও বেদনা দায়ক আযাব ও গজব থেকে হেফাজত করুন এবং আমরা আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের ক্ষমা করেন এবং মাফ করেন।</p>
<p align="center">وصلى اللهُ وسلَّمَ وباركَ علي نبيِنا محمدٍ وآلِهِ وصحبِه .<strong></strong></p>
<p style="text-align:left;" align="center"><strong>পাদটীকাঃ</strong></p>
<p>[40] যখন একজন মানুষ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুনিয়ার সবকিছু হতে বেশি মহব্বত করবে, তখন সে প্রকৃত ঈমানদার হতে পারবে।</p>
<p>[41] এ ছাড়া ইসলামের দুশমন যারা ইসলামের মূলোৎপাটনে যুগে যুগে ভূমিকা রাখে, তারাই ইসলামের প্রাণ পুরুষদের কলঙ্কিত করে ইসলামের সৌন্দর্য, গ্রহণযোগ্যতা ও সার্বজনীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। [অনুবাদক]।</p>
<p>[42] এদেরকে অবশ্যই ঘৃণা করতে হবে এবং এদের বিরোধিতা করতে হবে। তাদের সাথে কোন প্রকার বন্ধুত্ব করা যাবে না এবং তাদের সাথে কোন সম্পর্ক রাখা যাবে না। এ সব লোকের সাথে খালেস দুশমনি এবং এদের খুব ঘৃণা করতে হবে। তাদেরকে কোন প্রকার মহব্বত ও বন্ধুত্ব করা জঘন্য অপরাধ। এরা মানবতার দুশমন এবং আল্লাহ ও তার রাসূলের দুশমন।</p>
<p>[43] অপরাধি মুসলিমের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ আর কাফেরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ দুটি এক হতে পারে না। কাফেরদের প্রতি বিদ্বেষ বা শত্রুতা চিরন্তন। পক্ষান্তরে মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ তার গুণাহের কারণে হয়ে থাকে। যেমনটি শাইখ বর্ণনা করেছেন। এর প্রমাণ হল ঐ হাদীস যেটিকে ইমাম বুখারি স্বীয় সনদে বর্ণনা করেন।</p>
<p>عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه أَنَّ رَجُلًا عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَانَ اسْمُهُ عَبْدَاللَّهِ وَكَانَ يُلَقَّبُ حِمَارًا وَكَانَ يُضْحِكُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَدْ جَلَدَهُ فِي الشَّرَابِ فَأُتِيَ بِهِ يَوْمًا فَأَمَرَ بِهِ فَجُلِدَ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ اللَّهُمَّ الْعَنْهُ مَا أَكْثَرَ مَا يُؤْتَى بِهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : « لَا تَلْعَنُوهُ فَوَاللَّهِ مَا عَلِمْتُ إِنَّهُ يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ »</p>
<p>অর্থ, ওমর ইবনুল খাত্তাব রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে আব্দুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি যাকে সবাই জামার বলে ডাকতো এবং সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হাসাতো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মদ পান করার কারণে তাকে একবার শাস্তি দেয়। তাকে একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে উপস্থিত করা হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দুররা মারার নির্দেশ দিলে তাকে দুররা মারা হল। তার অবস্থা দেখে উপস্থিত এক লোক বলল, হে আল্লাহ তুমি তাকে রহমত থেকে দূর করে দাও। কারণ, লোকটিকে কতবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরাবারে আনা হয়ে থাকে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলল, “তোমরা তাকে অভিশাপ করো না। কারণ, আল্লাহর শপথ, আমি তো জানি লোকটি আল্লাহ ও তার রাসূলকে মহব্বত করে।</p>
<p>[44] কারণ, তারা বলে ঈমানের সাথে গুনাহ কোন বিঘ্ন ঘটাতে পারে না। সুতরাং গুনাহ কোন সমস্যা নয়। এটা নিঃসন্দেহে খারেজীদের বিপরীতমুখী অবস্থান। এ দুয়ের মাঝখানে হচ্ছে হকপন্থা। [সম্পাদক]</p>
<p>[45] এখানে খারেজি ও মুরজিয়া উভয় পক্ষই বাড়াবাড়ি করে থাকে। এক পক্ষ বলে, গুনাহের কারণে তাকে একেবারে কাফেরের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং তাদের সাথে কাফেরের মত আচরণ করতে হবে। আবার অপর পক্ষ বলে না, গুনাহের কারণে তাদের ঈমানের কোন ক্ষতি হয় না। সুতরাং, তাদের সাথে কোন খারাপ আচরণ করা যাবে না, বরং তাদের সাথে সে আচরণ করতে হবে, যে আচরণ মুমিনদের সাথে করা হবে। উভয় পক্ষই ভ্রান্তিতে আছে, একমাত্র আহলে সুন্নাত ওয়াল জমাত ছাড়া; তারা মধ্যম পন্থা অবলম্বন করেছে। তারা বলে, তাদের গুনাহের জন্য ঘৃণা করা হবে, আর ঈমানের কারণে মহব্বত করা হবে।</p>
<p>[46]হাদীসটি বুখারিতে বর্ণিত। কিতাবুল আদব, পরিচ্ছেদ: আল্লাহর মহব্বতের নিদর্শন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন,</p>
<p>جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ تَقُولُ فِي رَجُلٍ أَحَبَّ قَوْماً وَلَمْ يَلْحَقْ بِهِمْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : « الْمَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ » وأخرجه مسلم ، كتاب الصلة ، باب المرء مع من أحب .</p>
<p>অর্থ, এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে এসে বলে, হে আল্লাহর রাসূল! এক ব্যক্তি সে কোন সম্প্রদায়ের লোককে মহব্বত করে অথচ সে তাদের সাথে সম্পৃক্ত নয়, আপনি তার সম্পর্কে কি বলেন, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মানুষ তার সাথে হবে যাকে সে মহব্বত করে। আর মুসলিম হাদীসটি কিতাবুস সেলা-তে আলোচনা করেন। পরিচ্ছেদ: মানুষ যাকে মহব্বত করে তার সাথে হবে।</p>
<p>[47] যার কারণে তাদের বন্ধুত্ব ও মহব্বত কখনো স্থায়ী হয় না, একেবারেই সাময়িক হয়। যখন স্বার্থ হাসিল না হয় বা স্বার্থের বিঘ্ন ঘটে, তখন তাদের বন্ধুত্ব আর টিক না, একে অপরের শত্রুতে পরিণত হয়। এ হল, বর্তমান যুগে আমাদের অবস্থা ও পরিণতি। আমরা মানুষের সাথে স্বার্থের বন্ধুত্ব করি এবং স্বার্থে কারণে আবার শত্রুতা করি। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।</p>
<p>[48] এ ধরনের বন্ধুত্ব ও শত্রুতা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে কোন কাজে আসবে না। আল্লাহর জন্য ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্য শত্রুতাই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে কাজে আসবে।</p>
<p>[49] বুখারি কিতাবর রিকাক, পরিচ্ছেদ: বিনয়।</p>
<p>[50] ইমাম তিরমিযি মানাকেব অধ্যায়ে যারা রাসূলের সাহাবীদের গালি দেন তাদের আলোচনা হাদিসটি বর্ণনা করেন। ইমাম তিরমিযির নিকট হাদিসটির বর্ণনা এভাবে, আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফ্ফাল রা. হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,</p>
<p>«اللَّهَ اللَّهَ فِي أَصْحَابِي اللَّهَ اللَّهَ فِي أَصْحَابِي لَا تَتَّخِذُوهُمْ غَرَضاً بَعْدِي فَمَنْ أَحَبَّهُمْ فَبِحُبِّي أَحَبَّهُمْ وَمَنْ أَبْغَضَهُمْ فَبِبُغْضِي أَبْغَضَهُمْ وَمَنْ آذَاهُمْ فَقَدْ آذَانِي وَمَنْ آذَانِي فَقَدْ آذَى اللَّهَ وَمَنْ آذَى اللَّهَ يُوشِكُ أَنْ يَأْخُذَهُ»</p>
<p>অর্থ, আমার সাহাবীদের বিষয়ে তোমাদেরকে আল্লাহর দোহাই দিচ্ছি, আমার সাহাবীদের বিষয়ে তোমাদেরকে আল্লাহর দোহাই দিচ্ছি, তোমরা আমার সাহাবীদের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন কর। তোমরা আমাদের সাহাবীদেরকে তোমাদের সমালোচনা ও বিতর্কের লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত করো না। যারা তাদের তাদের মহব্বত করে আমাকে মহব্বত করার কারণে মহব্বত করে আর যারা তাদের ঘৃণা করে তারা আমাকে ঘৃণা করার কারণে ঘৃণা করল। আর যারা তাদের কষ্ট দেয়, তারা আমাকেই কষ্ট দিল, আর যে ব্যক্তি আমাকে কষ্ট দেয়, সে আল্লাহকে কষ্ট দিল, আর যে আল্লাহকে কষ্ট দেয়, তাকে অবশ্যই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পাকড়াও করবে।</p>
</div>
<br />Filed under: <a href='http://bnislam.com/category/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be/'>বাংলা</a> Tagged: <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%86%e0%a6%b2-%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8/'>আল ফাওযান</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%86%e0%a6%b2-%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%be/'>আল-ওয়ালা</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%86%e0%a6%b2-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be/'>আল-বারা</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%87%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%86%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a6%a6-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%b2/'>ইমাম আহমদ বিন হাম্বল</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%be/'>ওয়ালা</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ac/'>বন্ধুত্ব</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%a4%e0%a6%be/'>শত্রুতা</a>, <a href='http://bnislam.com/tag/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%b9-%e0%a6%87%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e2%80%a2-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%be/'>সালেহ ইবনে ফাওযান • সম্পাদনা</a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bnislaam.wordpress.com/2709/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bnislaam.wordpress.com/2709/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bnislam.com&#038;blog=14847374&#038;post=2709&#038;subd=bnislaam&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://bnislam.com/2012/03/24/%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a6%93-%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%a4/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>2</slash:comments>
	
		<media:content url="http://1.gravatar.com/avatar/d9d4481fa439526a301e6cf04e2bdc3b?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">bnislaam</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif" medium="image" />

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif" medium="image" />

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif" medium="image" />

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif" medium="image" />

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif" medium="image" />

		<media:content url="http://bnislaam.files.wordpress.com/2010/12/quote-start.gif" medium="image" />
	</item>
	</channel>
</rss>
